আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সংখ্যালঘু পরিবার কে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

পাবনা প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সংখ্যালঘু এক পরিবারের বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: মোজাফ্ফর এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দহপাড়া গ্রামের নাসির হোসেন প্রমাণিকের ছেলে ও মন্ডতোষ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওই ইউপি সদস্য।

ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দহপাড়া গ্রামের শ্রী জয়দেবচন্দ্রের পুত্র সন্তান না থাকায় তার বড় মেয়ে পঞ্চমী রানী ও মেয়ে জামাই সুকুমারচন্দ্রকে ২০১৮ সালে তার বাড়িতে নিয়ে এসে রাখে। এমতো অবস্থায় জয়দেব চন্দ্র ২০২০ সালে মারা যায়। জয়দেব মারা যাওয়ার পর তার সৎকারের জন্য টাকার প্রয়োজন হলে জয়দেবের স্ত্রী অনিমা রানী তার বসতভিটার জায়গা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় জয়দেবের বড় মেয়ে পঞ্চমী রানী ও ছোট মেয়ে সুমি রানী তার মায়ের কাছ থেকে ১৮ শতাংশ বসত ভিটা নগদ আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে নেয়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন দুই বোন মাকে নিয়ে বাড়িতেই বসবাস করে আসছিল। হঠাৎ করে গত শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তাদের বাড়ির সামনে ইউপি সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন সহ আরো কিছু লোকজন বাঁশের বেড়া দিয়েছে।

পঞ্চমী রানী বলেন, বেড়া দেয়ার বিষয়ে মোজাফ্ফরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমি তোমার চাচাতো ভাই স্বপনের কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে এই বসতভিটার জায়গা কিনেছি এবং কিছুদিন আগে অন্য একজনের কাছে আমি এ জায়গা বিক্রিও করে দিয়েছি। যাদের কাছে বিক্রি করেছি তারা হয়তো এখানে বেড়া দিয়েছে। এখন আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না এক প্রকার না খেয়েই দিন পার করছি।

অনিমা রানী বলেন, আমার স্বামীর সৎকারের জন্য আমার দুই মেয়ের কাছে ১৮ শতাংশ জায়গা বিক্রি করি। সেই জায়গার উপরে বেড়া দিয়ে আমাদেরকে বাড়ি বন্দি করে রেখেছে। মেম্বার প্রভাবশালী তার ভয়ে থানায় যেতে পর্যন্ত সহজ পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আমি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জয়দেবচন্দ্রের ভাতিজা স্বপন চন্দ্রের কাছ থেকে জায়গাটা কিনেছিলাম। কিছুদিন আগে আমি আমার ক্রয় কৃত জায়গা অষ্টমনিষা ইউনিয়নের গদাইরূপসী গ্রামের মনির হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেই। শুনেছি মনিরের শশুর বাড়ির লোকজন এসে এখানে বেড়া দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্বপন চন্দ্র বলেন, দাদার সম্পত্তির আমার বাবার যে অংশটুকু পায় আমি মেম্বার এর কাছে সেটুকই বিক্রি করেছি। এখন মেম্বার কার কাছে বিক্রি করেছে সেটা তার ব্যাপার।

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ