আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক আপোষহীন ঐক্য প্রয়োজন-ডাঃ তাহের

জহিরুল ইসলাম সুমন চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেছেন, আমরা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বারবার লড়াই করেছি। বাকশালের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে, এরশাদের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আন্দোলন করেছি। আর সর্বশেষ জুলাই-আগস্টে সকল শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণে জীবনদানের মাধ্যমে, রক্তদানের মাধ্যমে, শত শত মানুষের পঙ্গুত্ববরণের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা বলেছিলাম, নতুন বাংলাদেশ গড়বো। এক সমৃদ্ধ শান্তিময় সাম্যের বাংলাদেশ গড়বো।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মাত্র ৫-৭ মাসের ব্যবধানে আমরা আবার সেই স্পিরিট, সেই জজবা ও সেই ত্যাগের মহিমান্বিত জাহাজকে ফিকে দেয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে স্বার্থের খেলা টানাপোড়ন শুরু হয়েছে। আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন-জাতীয় স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে ও নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে এক মহান জাতীয় ঐক্য। যেখানে দল বড় হতে পারে না, ব্যক্তি বড় হতে পারে না। সবার উর্ধ্বে থাকবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলার সংস্কৃতি এবং নতুন করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক আপোষহীন ঐক্য।

তিনি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসুন, স্বার্থপরতার রাজনীতি পরিত্যাগ করুন। নিজের জন্য এই চক্র ভুলে যান। নিজেরা কিভাবে থাকবে, দেশের মানুষ কিভাবে থাকবে, এ সিদ্ধান্ত আমাদের। প্রতিবেশি দেশের কাছে আমরা মাথা নোয়াতে চাই না। সেজন্য সকল দলের এক জায়গায় এসে মহাঐক্য গঠনের জন্য আহবান জানাচ্ছি। ঐক্যই শক্তি, ঐক্যই মুক্তি ও ঐক্যই আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।

তিনি মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের বিজয়করা ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মোঃ শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ দুলাল, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন, ঢাকাস্থ জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন সোসাইটির সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর সাহাব উদ্দিন। বিজয়করা ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ডাঃ বেলায়েত হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, সেক্রেটারী আবদুল আলিম ভুঁইয়া শামীম ও জামায়াত নেতা কাজী রবিউল হোসেন রকির যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন সোসাইটির সহ-সভাপতি ডাঃ আগা আনসারুল ইসলাম চৌধুরী, উপদেষ্টা আগা আজিজুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি মহিউদ্দিন রনি, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইব্রাহিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ফরায়েজী, আ.ন.ম মেশকাত উদ্দিন সেলিম, ইউসুফ মেম্বার, ইউনিয়ন সেক্রেটারী বেলাল উদ্দিন মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ