আজঃ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইসলামের মর্মবাণী-সত্যবাণীর দিকে,কুরআনের আদর্শ কুরআনের শিক্ষার দিকে-হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) আমাদেরকে আহ্বান করেছেনঃ রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মঃ)।

বলাই আচায্য বলাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান ২২ চৈত্র গাউসুল আজম বিল বিরাসাত হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-র পবিত্র ৮৯তম বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে রাত ১০ টায় মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিল এর কেন্দ্রীয় মিলাদ কিয়াম শেষে সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণ কামনায় অনুষ্ঠিত মুনাজাতে অংশগ্রহণ করে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে তিনি একথা বলেন।

পবিত্র ওরশ শরীফের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি তার মুনাজাতে বলেন, “আপনার মহান অলির জন্ম- মৃত্যু এবং পুনরুত্থান দিবসকে আপনি শান্তিপূর্ণ করে ঘোষণা করেছেন।
মওলা,এই শান্তি লাভের আশায়,বরকত লাভের আশায়, আপনার মহান-পূণ্যবান বান্দাগণের ফয়েজ-বরকত হাসিলের আশায় আপনার মহান বন্ধুগণের নজরে-করম লাভের আশায় আপনার বান্দারা দূর-দূরান্ত থেকে দরবারে পাকে হাজির হয়েছে।
এই হাজেরীর ভেতর দিয়ে,এই জিন্দেগীর যে সময়টুকু তারা কুরবানী করেছে,যে সম্পদ কুরবানী করেছে,যে শ্রম কুরবানী করেছে-মুনিবের দরবারে এই আসা-যাওয়ার মাধ্যমে-এর ভেতর দিয়ে তারা আপনার-আপনার পেয়ারা হাবিবের (সাঃ) সন্তুষ্টি কামনা করছে।সকলকে মনজিলে মকসুদে কবুল করুন।

আপনার বান্দারা এই মহান ২২শে চৈত্রকে সামনে রেখে যে সমস্ত পুণ্য কর্মের মাঝে নিজেদেরকে- আমলে-সোয়াহলের মাঝে নিজেদেরকে নিবেদিত রেখেছে এগুলোকে আমাদের জন্যে নাজাতের ওয়াছিলা বানিয়ে দিন।”

তিনি বলেন আউলিয়াকে কেরামগণ ও হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী(কঃ)’র অবদান বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আপনার আউলিয়ায়ে কেরামগণ-আপনার মহান প্রেরিত দ্বীনের দায়ী হিসেবে,সমস্ত মানবজাতিকে, আপনার দিকে-সত্যের দিকে ডেকেছেন মাওলা,আপনার পেয়ারা হাবিবের (সাঃ) দিকে ডেকেছেন মাওলা, কুরআনের সত্যের দিকে ডেকেছেন মাওলা। তারা দিনের দায়ী হিসেবে সর্বোত্তম প্রচেষ্টায় নিজেদেরকে দ্বীনের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,দ্বীনের দিকে সবাইকে ডেকেছে।পবিত্র ইসলামের দিকে ডেকেছে। আপনার পেয়ারা হাবিব (সাঃ)-‘ব যে শিক্ষা-আদর্শ-বাণী, সে বাণীর-সে জামায়াতের, ইসলামের যে,ন্যায়ের যে কাফেলা,সে কাফেলায় মুকাব্বির হিসেবে এই আহ্বানকে তারা বুলন্দ করেছে,মাওলা।
তার চেষ্টায়-আহ্বানের চেষ্টায় মুয়াজ্জিন হিসেবে, বুলন্দ করার চেষ্টায় মুকাব্বির হিসেবে,তারা যুগে যুগে দেশে দেশে নিজেদেরকে উৎসর্গিত করেছে।

তার-ই ধারাবাহিকতায় আমরা হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.)-কে পেয়েছি।ইসলামের মর্মবাণীর দিকে, ইসলামের সত্য বাণীর দিকে, কুরআনের আদর্শের দিকে, কুরআনের শিক্ষার দিকে- হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) আমাদেরকে আহ্বান করেছেন।

সে বাণীকে হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) বুলন্দ করার জন্যে নিজের সমস্ত জিন্দেগীকে উৎসর্গিত করেছেন।যার ফলে দিগ-বিদিক আলোকিত হয়েছে।
অসংখ্য ইনসানে কামেল দিকে দিকে, মাওলা,তাঁর মাধ্যমে-এই জমিন অসংখ্য ইনসানে কামেলকে আপনার পক্ষ হতে উপহার হিসেবে পেয়েছে।

ইসলামের যে মহান বাণী,যে মহান মর্মবাণী,সাম্য,ন্যায়-নীতি-দয়াগুণের-যে শিক্ষা,হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী তা আদলে মোতলাকের মাধ্যমে, উসুলে সাবআ-র মাধ্যমে, আমাদেরকে শিক্ষা দান করেছেন-মাওলা।এই আদর্শ-সাম্যের আদর্শ,সমতার আদর্শ,ন্যায় নীতির আদর্শ, ন্যায়- নিষ্ঠতার আদর্শ,দয়ার আদর্শ, দয়াশীলতা-দয়া প্রদর্শনের আদর্শ।

ইসলামের এই মূলনীতির মাধ্যমে সমাজে ইসলাম কায়েমের জন্যে, প্রত্যেকের অধিকার কায়েমের জন্যে,যার যে অধিকার , প্রত্যেককে জাতি- ধম বর্ণ নির্বিশেষে নিজ নিজ অধিকার, নানান জাতিগোষ্ঠীর, সমাজের নানান অংশ, প্রত্যেকের নিজ নিজ অধিকার,যে অধিকার ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, আপনার মহান গাউছুল আজম মানবের সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে আমাদেরকে মহান আদর্শ শিক্ষা দিয়েছেন,মাওলা।

সে আদর্শে অসংখ্য ইনসানে কামেল প্রস্তুত হয়েছে, মাওলা।
তারাও মানব এই জগতকে, এই অত্র অঞ্চলকে ,এই বিশ্ববাসীকে সেই মহান আলোর পথে সকলকে আহ্বান করেছেন,মাওলা।এই মহান নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার মত যোগ্যতা আমাদের কাছে নেই।এই মহান দিনে আপনার বান্দারা সমবেত হয়ে, আপনার এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছে, মাওলা।

আমরা যাতে এই শিক্ষাকে,এই আদর্শকে, আমরা যাতে দিকে-দিকে পৌঁছে দিতে পারি,সে তওফিক আমাদেরকে দান করুন।বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী কিবলা কাবার গোলামেরা, এই বাণীকে দিকে দিকে পৌছে দেওয়ার জন্যে,এই শিক্ষাকে দিকে দিকে পৌছে দেওয়ার জন্যে জায়গায় জায়গায় যে সমস্ত খেদমতের আঞ্জাম দিচ্ছেন, সে সমস্ত খেদমতকে আপনি কবুল করুন।

সমাজকে ইসলামের সেই মর্মবাণীর উপরে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে,ইসলামী উম্মাহকে-যে উম্মাহ আজকে ইসলামের সে মর্মবাণী থেকে বিচ্যুত হয়ে দুর্দশা-গ্রস্থ অবস্থায় পতিত হয়েছে- হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী-(ক.)-র সেই মহান আদর্শকে উম্মাহর মাঝে তুলে ধরার জন্যে যারা-গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)র গোলামেরা, মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটির সদস্যরা দিকে দিকে- দেশে দেশে নানানভাবে যারা খেদমত করছেন,মাওলা,এই খেদমতকে কবুল করুন।

এই মানব জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায়, মানবজাতির শান্তি প্রতিষ্ঠায়, মজলুমের মুক্তির প্রত্যাশায় আপনার বান্দারা- হুজুর গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.)’র গোলামেরা,বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হক ভান্ডারী (ক.)’র গোলামেরা, মাইজভান্ডারী তরিকার খাদেমরা, মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটির সদস্যবৃন্দ-যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে এই খেদমতের আঞ্জাম দিচ্ছেন,এই আদর্শকে প্রতিষ্ঠার জন্যে চেষ্টা করে চলেছেন, রাব্বুল আলামীন তাদের এই প্রচেষ্টাকে আপনি কামেয়াবী দান করুন। ”

তিনি সকলের গুনাহ-খাতা ভূল-ক্রুটি, সীমাবদ্ধতাকে ক্ষমা করার জন্য ফরিয়াদ জানিয়ে বলেন, “আজকের এই মহান বরকতময়, শান্তিময় এই দিনের উছিলায় আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের শান্তিময়,স্বচ্ছল একটি জিন্দেগী, নিরাপদ একটা জিন্দেগী আমরা কামনা করছি।

এই পবিত্র রাতের উছিলায়,এই মহান বরকতময় রাতের উছিলায় আমরা মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করছি। মুসলিম উম্মাহ যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যম বিশ্ববাসীর কল্যাণ সাধনে সক্ষমতা অর্জন করে যে সক্ষমতা আমরা এখন হারিয়েছি,সে সক্ষমতা যেন অর্জন করতে পারে সে তওফিক দান করুন।

এই পবিত্র বরকতময় ২২শে চৈত্রের উছিলায় সমস্ত বিশ্ববাসীর উপর আপনি রহমত বর্ষিত করুণ বিশ্বের প্রতিটি মানবসন্তানের উপর রহমত বর্ষণ করুণ।”

তিনি ন্যায়-নীতির প্রতিষ্ঠার নামে আমরা দয়া গুণকে যেন বিসর্জন না দিই, ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠার নামে আমরা যাতে সাম্যকে বিসর্জন না দিই-সাম্য,ন্যায়,নীতি,দয়াগুণ এই সমস্ত গুনাবলীকে ভারসাম্যের মধ্যে রেখে ইসলামের এই মহান শিক্ষাকে সামনে রেখে আমরা যাতে দ্বীন ইসলামের মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য,গুরুত্ব উপযুক্তভাবে তুলে ধরতে পারী সেই তওফিক প্রদান করার জন্য ফরিয়াদ করেন।

এবং এই চেষ্টার মধ্যে গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর গোলামেরা যে মেহনত করছেন,খেদমত করছেন,এই খেদমতকে কামেয়াবী দান করার জন্য-এই খেদমত,এগিযে নিয়ে যাওয়ার জন্যে যে শিক্ষা – দীক্ষা প্রয়োজন,যে দক্ষতার প্রয়োজন,যে চিন্তাশীলতার প্রয়োজন,যে সৃজনশীলতার প্রয়োজন,সে সমস্ত কিছু যাতে অর্জন করতে পারে সে তওফিক দান করার জন্য ফরিয়াদ করেন।

তিনি সকলের সচ্ছল,কর্মময়, কর্জমুক্ত জিন্দেগীর জন্য ফরিয়াদ করেন। তিনি জালিমের জুলুম থেকে হেফাজত করার জন্য এবং আমাদের দ্বারা যাতে কোনো জুলুম সংগঠিত না হয়,সে অবস্থা সকলকে হেফাজত করার জন্য ফরিয়াদ করেন।

তিনি মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটির সদস্যরা যে খেদমতের মধ্যে আছেন, আরও বৃহৎ ভাবে ব্যাপকভাবে সে খেদমত করার জন্যে সকলকে জালে মালে তওফিক দান করার জন্য ফরিয়াদ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করা একমাত্র দল হলো বিএনপি। দেশের মানুষ চায় না কোনো বিদেশি শক্তি এ দেশ পরিচালনা করুক। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেকে ভাবছেন আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র বিএনপিই সেই দল, যারা গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের বার্তা দিতে হবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির বাংলাদেশকে পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়। এ দেশের জনগণ তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে চায়, বাইরের কোনো ইশারা বা হস্তক্ষেপে নয়।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই কোনো ক্রান্তিলগ্ন পার করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ একটি দলের ওপরই ভরসা রেখেছে। আর সেই দলটি হচ্ছে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

তিনি দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমবে আট আসন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ ) আসনের প্রার্থীরা প্রতিদিন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন।সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বিভিন্ন দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শহরের লাগোয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ )সংসদীয় আসনটি। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৪২ জন। বোয়ালখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন। জয়-পরাজয়ের নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বোয়ালখালী উপজেলা। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন বোয়ালখালী উপজেলায়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. মো: আবু নাছের,১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফ,বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী মোমবাতি প্রতীকে সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী আপেল প্রতীকে মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নুরুল আলম ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।ভোটার মতে, এই আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণায় এই ৩ প্রার্থীই দৃশ্যত এগিয়ে।

বোয়ালখালীবাসী মনে করছেন এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংখ্যালঘু, নারী ও তরুণ ভোটাররা নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট। এরাই ভোটের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিবে। তাই বিএনপি, জামায়াত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট প্রার্থী নানা কৌশল নিয়ে ভোট পরিচালনা করছেন।

ত্রিমুখী ভোটের লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে ও ভোটের ময়দানে থাকছে ‘দাঁড়িপাল্লা’। দলীয়ভাবে এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আবু নাছেরের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষ ও মোমবাতির সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে জনমতে।

বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ এবং কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে আইটি ফার্ম করে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্লাহ, দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগ ও সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে এগোচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে।তিনি নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।তিনি বোয়ালখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিলেন জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান।স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং নিয়ে মাঠে আছেন। স্থানীয় ছেলে হিসেবে নাছেরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এই আসনটিকে ত্রিমুখী সমীকরণে ফেলে দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী বিরামহীনভাবে পথসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর যোগ্যতা, সক্ষমতাসহ সব বিষয় চিন্তা করে সাধারণ ভোটাররা যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের মাঠে ততই উত্তাপ বাড়ছে। কৌশলগত কারণে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিলেও নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সাধারণ ভোটাররা খুশি। এলাকাবাসী ভোটের পরিবেশ শান্ত রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ