আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

যেখানে উম্মাহর দেহে যন্ত্রণা, সেখানে ফিলিস্তিন এক রক্তাক্ত হৃৎপিণ্ড।

লেখক, শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

“মুমিনগণ এক দেহের মতো—যদি দেহের এক অঙ্গ ব্যথিত হয়, গোটা শরীর তার ব্যথায় কাঁপে।” — (হাদীস, সহীহ মুসলিম।ফিলিস্তিন—পৃথিবীর মানচিত্রে ক্ষুদ্র এক ভূখণ্ড। অথচ ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী অশ্রুগুচ্ছে নাম লিখিয়ে রেখেছে বহু শতাব্দী ধরে। গাজার ধূলোমলিন বাতাসে আজ আর বালুকণার ঘ্রাণ নেই, সেখানে শুধু বারুদের গন্ধ। আকাশে প্রজাপতির বদলে ড্রোন, শিশুর খেলনার স্থানে রকেটের ধ্বংসাবশেষ। ফিলিস্তিন আজ একটি জাতির নয়, বরং গোটা উম্মাহর হৃদয়ে গেঁথে থাকা এক দীর্ঘতর আর্তনাদ।

প্রতিদিন সূর্য ওঠে, কিন্তু গাজার মানুষ দেখে না আলো—দেখে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া স্বজনের হাত। প্রতিটি ভোর যেন এক নতুন শোকাবহ অধ্যায়। ঘুম ভাঙে বোমার শব্দে, আবার ঘুম পাড়ায় কান্নার চাপে। মৃত শিশুদের জন্য কাঁদে পৃথিবীর বিবেক, আর মুসলিম উম্মাহর মাঝে জন্ম নেয় এক প্রশ্ন—আমরা কী এখনো এক দেহ, নাকি শুধুই নামের উম্মাহ?

রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা যদি এক দেহের মতো না হও, তবে তোমাদের ঈমান অপূর্ণ।” কিন্তু আজ ফিলিস্তিন যখন পুড়ে যায়, আমরা দাঁড়িয়ে থাকি কেবল নীরব প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থের পাল্লায় ফিলিস্তিনকে মাপে। আর মুসলিম রাষ্ট্রগুলো—তারা হয়তো সম্মেলন ডাকে, বিবৃতি দেয়, দোয়া করে। কিন্তু ফিলিস্তিনের শিশুরা কি তাতে বাঁচে?

আমরা কি ফিলিস্তিনিদের জন্য শুধু আহারে ব্যস্ত, নাকি অন্তরে তাদের বেদনা বয়ে চলেছি? যদি তারা আমাদের ভাই হয়, তবে কেন আমাদের প্রতিবাদ এত মৃদু? কেন আমাদের জবান এত জড়তা পূর্ণ, কেন আমাদের হৃদয় এত নির্লিপ্ত?

এই কলাম কোনো সাময়িক রাজনীতি বা সংবাদ বিশ্লেষণ নয়—এ এক অভ্যন্তরীণ আত্মপ্রকাশ। এক লেখকের নয়, এক মুসলিমের হাহাকার। ফিলিস্তিনকে আজ দয়ায় নয়, দায়িত্বে দেখতে হবে। এই ভূমি আমাদের কেবল দুঃখ দেয় না—এ আমাদের ঈমানের আয়না। সেখানে দেখা যায়, আমরা কতটা মুসলিম, কতটা মানুষ।

গাজা যখন পোড়ে, তখন মক্কার বাতাসও কাঁদে।
জেরুজালেম যখন কাঁদে, তখন মদিনার মসজিদও শিউরে ওঠে।
কিন্তু আমরা কি কান পেতে শুনি সেই কান্না?

‘এক উম্মাহ, এক দেহ’—এই পবিত্র বাণী যেন আর কেবল হাদীসের পাতায় না থাকে।
এই বাণী হোক হৃদয়ের স্পন্দন। যেন ফিলিস্তিনের কান্না আমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়,
জেগে তোলে আমাদের বিশ্বাস, উদ্দীপনা, প্রতিবাদ—আর সর্বোপরি, ভালোবাসা।

কারণ ফিলিস্তিন এখন শুধু নির্যাতনের নাম নয়, এ এক রক্তাক্ত হৃৎপিণ্ড, যা উম্মাহর বুকে প্রতিনিয়ত ধুকপুক করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইরানের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় নি’হ’তদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার অনুদান  দেবে চীন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরানের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় নি’হ’তদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার অনুদান  দেবে চীন।

আমিরাতে ‘আটকে পড়া’ প্রবাসীদের নিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর: ক্ষোভে ফুঁসছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ‘অতিরঞ্জিত’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ খবরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বিশেষ করে ‘দুবাইয়ে আটকে পড়া ৩৭৮ জন প্রবাসীকে ফিরিয়ে আনলো ইউএস-বাংলা’ এমন শিরোনামের সংবাদকে প্রবাসীরা ‘নাটক’ এবং ‘স্বাভাবিক যাত্রীদের আটকে পড়া শ্রমিক’ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন।​এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একে অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসম্মানজনক বলে অভিহিত করছেন।

​আরটিভি আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাফাওয়াত উল্লাহ তার ফেসবুকে একটি নিউজ পোর্টালের ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, দেশের মিডিয়ায় যা প্রচার হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত। ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি যে দেশে থাকে, সেখানে ১৮৯ জন কোথায় আটকে পড়েছিল? নিয়মিত যাত্রীদের নিয়ে প্রথমে ভারত নাটক দেখালো, এখন আপনারা দেখাচ্ছেন। মানুষ যেখানে টিকিট না পেয়ে দেশ থেকে দুবাই আসতে পারছে না, সেখানে আপনারা ফেরার হিড়িক দেখাচ্ছেন।

​প্রবাসী মুহাম্মদ মোরশেদ বিন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, আটকা পড়া’ মানে কী? আমরা কি কোথাও বন্দি হয়ে আছি? আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটে সামান্য বিলম্ব হওয়াকে ‘আটকা পড়া’ বলে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভুল। এ ধরনের খবরে আমাদের পরিবার-পরিজন দেশে অযথা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।

​প্রবাসী শিল্পী বঙ্গ শিমুল বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে তিনি লিখেন, ৩৭৮ জন প্রবাসীকে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে যে নিউজ করা হচ্ছে, আমার প্রশ্ন হলো এরা কোন জঙ্গলে আটকা পড়েছিল? আমরা ১২ লাখ প্রবাসী এখানে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করছি। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক নিউজ আমাদের দেশের ইমেজ নষ্ট করছে।

​অন্যদিকে, মাসুদ মল্লিক নামের এক প্রবাসী এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে প্রবাসীদের নিয়ে এমন ‘আদিক্ষেতা’ বন্ধের অনুরোধ জানান।

​আমিরাতের প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা মনে করেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও কঠোরতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিতভাবে তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​নেতারা দেশের গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কয়েকশ নিয়মিত যাত্রীকে ‘আটকে পড়া’ তকমা দিয়ে ১২ লাখ প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো সাংবাদিকতার নৈতিকতা পরিপন্থী। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে প্রবাসীদের পরিবারকে আশ্বস্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ