আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সাম্প্রতিক সম্প্রীতির সব চাইতে বড় বাঁধা হলো অন্য ধর্মের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার অভাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাম্প্রতিক সম্প্রীতির সব চাইতে বড় বাঁধা হলো অন্য ধর্মের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার অভাব। ইতিহাসে মানুষ একত্র হয়েছে কিন্তু একে অন্যকে যখন সমান ভাবে নাই, সমমর্যাদার মনে করে নাই তখনই সমাজ ব্যর্থ হয়েছে। সত্যিকারের একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, কখনোই অন্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে না।

দুঃখজনকভাবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়কালেও সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। মব সৃষ্টি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে নিগৃহীত করার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াতেও তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয় নাই। সংখ্যা লঘুদের দীর্ঘদিনের দাবি সমুহ যেমন, অর্পিত সম্পত্তি, সংসদের সংরক্ষিত আসন ইত্যাদি বিষয়ে নতুন-পুরাতন রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না।

ঢাকার পর্যটন ভবনে কমিটি ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (সিএডিএফ) এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ জুলাই পরবর্তী শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকল ধর্ম ও শ্রেনী পেশার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আকিজ পাইপসের পৃষ্টপোষকতায় আয়োজিত এই সংহতি সভায় ধর্মীয় প্রধান, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, জুলাই যোদ্ধা, ছাত্র ও তরুণ প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ২০০ জন দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা ফিলিস্তিনে চলমান নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের নিন্দাজ্ঞাপন করেন। যেকোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি নিপীড়ন অন্যধর্মের সমাজকেও আক্রান্ত করে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো সমাজ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের জন্য অন্য ধর্মের আচার, উৎসব ও প্রথার প্রতি উদারতা প্রদর্শন করা জরুরি। নিজেদের ভেতরে ঐক্য না থাকলে দেশে-বিদেশের কুচক্রী মহল আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে।

জাতীয় মুক্তি আর ত্যাগের অর্জনকে ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সামাজিক সংহতিকে সুদৃঢ়করণের কোনো বিকল্প নেই। এটি বর্তমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এখানে ধর্মীয় ঐক্য বিনষ্ট করা আর বিভেদ হানাহানি সৃষ্টির সকল প্রচেষ্টা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে। ৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লব আমাদের জাতীয় জীবনের সামাজিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ। নতুন করে বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করেছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম এর নেতৃত্ব দিলেও সব ধর্মের মানুষ ঐদিনগুলোতে একত্রিত হয়ে তাদের অকুন্ঠ সমর্থন ও সংহতি প্রদর্শন করেছিল। আজও তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য সোচ্চার রয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা তপন চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, হেফাযতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল্লামা মামুনুল হক, আর্চ বিশপ ক্যাথলিক বিজয় এন ডি’ক্রুজ, হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় মহাথেরো, বুদ্ধানন্দ মহাথেরো, ক্যাথলিক চার্চ ইন্টারফেইথের কনভেনার সিস্টার রেবা ভেরোনিকা ডি’কস্তা প্রমুখ।

আকিজ পাইপসের সিইও ও তরুণ ব্যবসায়ী সেখ আজরাফ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সকল ধর্মের একটি বৈচিত্র্যময় দেশ যেখানে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি এবং জাতিগত গোষ্ঠীর সহাবস্থান রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের এই যৌথ সম্মেলন ও অঙ্গীকারের অনুপ্রেরণায় ও নির্দেশনায় গোটা জাতি দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগে আতর্কিত হামলা ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহানগরের খুলশী থানাধীন আমবাগান রেলগেট এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গণসংযোগ চলাকালে হঠাৎ করে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করে বলেন, অতর্কিতভাবে স্থানীয় বিএনপির লোকজন আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে।

এতে আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।এদিকে হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীবরদীর জামায়াতের সেক্রেটারি নিহতের ঘটনায় ঢাবি ছাত্রদের প্রতিবাদ মিছিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান। এই প্রাণহানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ