আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম ক্ষেত্র ভূমিসেবা ঃ বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ‘নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করি, নিজের জমি সুরক্ষিত রাখি’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড ও ভুমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী আগামী ২৫ থেকে ২৭ মে রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ ১১টি জেলা, ১০৩টি উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি
অফিসসমূহ নিজ নিজ উদ্যোগে ‘ভূমি মেলা’ আয়োজন করবে।

অনুষ্ঠিতব্য মেলায় ভূমি সেবা প্রদান ও ভূমিসেবা বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হল জনবান্ধব ভূমিসেবা জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবা সমূহ অটোমেশনের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ সকল কার্যক্রম সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আকারে প্রচার প্রচারণা করা আবশ্যক। আগামী ২৫ মে রোববার সকাল ১০টায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে ভূমি মেলার শুভ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তিন দিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ভূমি মেলা’ উপলক্ষে ঐদিন সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে বিভাগীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সাথে সমন্বয়পূর্বক ‘ভূমি মেলা-২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শুভ উদ্বোধন পরবর্তী গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সমাজকর্মী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীগণ, সেবা গ্রহীতা তথা সাধারণ নাগরিকগণের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ নুর উল্লাহ নূরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাদি-উর রহিম জাদিদ, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) এস.এম অনীক চৌধুরীসহ বিভাগীয়-জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মহানগর ভূমি সার্কেলের সহকারী কমিশনারগণ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, মেলা চলাকালীন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে ১২টি স্টলের মধ্যে ৬টি স্টলে মহানগরের ৬টি সার্কেলের যাবতীয় ভূমি সেবা প্রদান করা হবে। ২টি স্টলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল.এ শাখা ও রেকর্ডরুমের সেবা, ২টি স্টলে চট্টগ্রাম জেলার জরিপ ও ভূমির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সেবা এবং অপর ২টি স্টলের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তের ভূমি বিষয়ক সেবা অর্থ্যাৎ ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, ই-নামজারীর আবেদনসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা হবে।
মেলার প্রধান আকর্ষণসমূহ ঃ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম, ই-নামজারির আবেদন গ্রহণ, নিষ্পত্তিকৃত এলএ কেইসের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান, অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং

তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহ। এছাড়া মেলা চলাকালীন অনলাইনে মৌজা ম্যাপ ডাক বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ, জরিপ কার্যক্রম বিষয়ক সেবা, ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্তকৃত কৃষি খাস জমির কবুলিয়ত ও দলিল হস্তান্তর, অংশগ্রহণকারী দপ্তরসমূহের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী কার্যক্রম উপস্থাপন, সেবা গ্রহীতাদের সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব সরাসরি উত্তর প্রদানের জন্য সেবা বুথে একজন কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। সকল নাগরিককে ভূমি মেলা-২০২৫-এ অংশগ্রহণ করে আধুনিক ও ডিজিটাল ভূমি সেবা গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম বলেন, আগামী ২৫ থেকে ২৭ মে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিতব্য ভূমি মেলায় জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত স্টলে এসে গ্রাহকেরা তাদের জমির ই-নামজারীর আবেদন

করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে কোন ধরণের হয়রানি ছাড়াই দিনে দিনে পর্চা সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। একইসাথে আবেদনের তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এল.এ কেইসের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান, মৌজা ম্যাপ সরবরাহ, অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহের টার্গেট থাকবে। দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা আমাদের উদ্দেশ্য।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ