আজঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শঙ্কা ঈদযাত্রায়

মোজাম্মেল হক চৌধুরী লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শস্কা নানা প্রতিকূলতার কারণে এবারের ঈদুল আজহার যাতায়াতে দুর্ভোগ আমাদের সঙ্গী হতে চলেছে। বিদায়ী ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটির কারণে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার সমীক্ষা ছাড়াই ছুটি ঘোষণা করায় দেশের যাত্রীসাধারণ এবারের আসন্ন ঈদুল আজহায় ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়তে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের মাননীয় সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও মাননীয় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ এহসানুল হক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিম ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে ও তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। গত ১২ মে ২০২৫ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঈদের প্রস্তুতি সভায় বিষয়টি দেশের যাত্রী সাধারণের স্বার্থে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে তুলে ধরেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেউ আমলে নেননি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত ২৫ বছরের মধ্যে বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রার পেছনে মূলত তিনটি কারণ ছিল, ১। ঈদের আগে ৪ দিনের লম্বা ছুটি ২। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী মাফিয়া নেতারা পালিয়ে যাওয়ায় সড়কে মাস্তানিতন্ত্রের অবসান হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে বড় বড় ব্যান্ডের গাড়িগুলোর কর্মকর্তা ও চালকদের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। ৩। আমাদের সেনাবাহিনী নিরলস মাঠে ছিল, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় ছিল, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে মানুষ ভোগান্তিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা গেছে। এই কারণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনা ২১.০৫ শতাংশ, নিহত ২০.৮৮ শতাংশ, আহত ৪০.৯১ শতাংশ কমেছিল। যা অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অর্জন হিসেবে নানা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবারের ঈদের লম্বা ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন ২ দিন ছুটি নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো সক্ষম হবে। কিন্তু সরকারের কোন সমীক্ষা না থাকায় বিষয়টি আমলে নিলেন না।

সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রয়েছে। লম্বা ছুটির কারণে এবারের ঈদে বেশি মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবেন এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায় রাজনীতিবিদেরও মাঠে আনাগোনা বাড়বে। ফলে বেশি মানুষের যাতায়াত হবে এটাই নিশ্চিত। কেবল মুসলমানেরা নয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাবেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতিবছর কি পরিমাণ মানুষের ঈদে যাতায়াত হয় তার একটি সম্ভাব্য সমীক্ষা রিপোর্ট গণমাধ্যমে দিয়ে থাকেন। তাদের এবারের সমীক্ষা বলছে, ঢাকা থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ও ঢাকার আশেপাশে জেলা থেকে আরো ৩০ লাখসহ ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে দেড়কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতে পারে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আরো ৩ কোটি মানুষের যাতায়াত হতে পারে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জুন ২০২৫ পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। ঈদের আগে ৫ ও ৬ জুন বৃহস্পতি এবং শুক্রবার মাত্র ২ দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। এই দুইদিনের ঈদের ছুটিতে একদিনে ৭৫ লাখ করে দুই দিনে দেড় কোটি মানুষ গ্রামের বাড়ি পাঠাতে গেলে ভরা বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে এবারের ঈদযাত্রায় ভয়াবহ ভোগান্তি আমাদের সামনে উপস্থিত। দুইদিনের ছুটিতে দেড়কোটি মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পাঠানোর মত সড়ক, রেল, নৌ কোন পথের যানবাহনের সক্ষমতা আমাদের দেশে নেই। ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের পার্থক্য আছে। ঈদুল আজহায় সড়কের পাশে পশুরহাট বসে, ঐ হাটকে কেন্দ্র করে মূল সড়কে ট্রাক থেকে পশু নামানো হয়। এতে যানজট-জনজট একাকার হয়ে যায়। যানবাহনের গতি কমে আসে। এছাড়াও পশুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে বাসের গতি কমে আসে। বাজার সংলগ্ন এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। ফলে যানবাহনের গতিও কমে যায়। তাহলে সমাধান কি? দীর্ঘদিন যাবত সড়কে নিরাপদ যাতায়াত ও যাত্রী স্বার্থ নিয়ে কর্মরত যাত্রী কল্যাণ সমিতি পক্ষ থেকে এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে দেওয়া ১১ ও ১২ জুন ২ দিনের ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন মঙ্গল ও বুধবার এগিয়ে নিয়ে আসার দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু হয়নি।

এখন দায়িত্ব নিতে হবে দেশের জনগণকে। জনসাধারণ নিজ দায়িত্বে পরিবার পরিজনকে আগে-ভাগে বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে এখনি। মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা করতে হলে বেস্ট পরিধান করতে হবে। পরিবার পরিজনকে সহযাত্রী বানানো যাবে না। লাগেজ-ব্যাগেজ পার্সেল বা কুরিয়ারে আগে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ফিটনেস বিহীন যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিআরটিএ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের নাম্বার সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে প্রয়োজনে যাতে সহযোগিতা নেওয়া যায়।

এবারের ঈদুল আজহায় ঈদের পরে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ৭ দিনের ছুটি অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। অথচ সরকারের দায় ও দায়িত্ব থাকলে ঈদের পেছনের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি ৩ ও ৪ জুন এগিয়ে আনলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হতো। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমে আসতো।

এবারের ঈদুল আজহায় যাতায়াতে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নৌ-পথে। একদিকে ভরা বর্ষা মৌসুম হওয়ায় নৌ-পথ উত্তাল রয়েছে। অন্যদিকে, দমকা-হাওয়াসহ ঝড়ো বাতাস। এই কারণে যাতায়াতের পিক আওয়ারে নৌ-সতর্কতা সংকেত চালু থাকলে নৌ-পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে এই চাপ গিয়ে সড়কের উপরে পড়বে। তাছাড়াও ভরা বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ৬০ ফিটের নীচের লঞ্চ চলাচল যেকোনোভাবে বন্ধ রাখতে হবে, যা দারুণ চ্যালেঞ্জের। লঞ্চগুলো লোড লাইন মেনে যাত্রী বহন নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ নৌ-পথে ভয়া, বাতি, সিগন্যাল লাইট কিছুই নেই। যদিও ঈদের আগে পরে বালুবাহী বাল্কহেড বন্ধের নির্দেশনা থাকে। কোনো কোনো নৌ-পথে তা শতভাগ মানা হয় না। বৃষ্টির রাতে বাল্কহেড ও ডুবোচর শনাক্ত করা মুশকিল। কালবৈশাখি মৌসুম হওয়ায় এবারের ঈদে নৌ-পথে ফিটনেস বিহীন লঞ্চ চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। ফলে লঞ্চে যাত্রীর চাহিদা বাড়বে। এহেন সংকটকে পুঁজি করে নৌ-পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

পৃথিবীর দেশে দেশে ঈদ পূজা পার্বণে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশে অন্যান্য পণ্যের মত সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে গণপরিবহন সংকট এবং বিপুল যাত্রী চাহিদা পুঁজি করে কতিপয় অসাধু পরিবহন মালিকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য মেতে উঠেন। প্রতিবছর ঈদে এমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সামর্থহীন মানুষ বিশেষ করে, কর্মজীবী, শ্রমজীবী, নিন্ম আয়ের লোকজন গণপরিবহনের পরিবর্তে পণ্যবাহী পরিবহনকে তাদের যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। কেউ ট্রেনে ছাদে যাতায়াত করেন, কেউ আবার বাসের ছাদে চেপে বসেন। আবার কেউ স্ত্রী পরিজন নিয়ে খোলা ট্রাকে পণ্যের উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ আনন্দ উদ্যাপন করতে বাড়ি যান। এসব যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়লে একসাথে বহু মানুষের জীবনহানি ঘটে। পত্রিকার পাতায় বড় শিরোনাম হয়। আবার পরের বছর একই কায়দায় তারা বাড়ি যান। অথচ যেহেতু আমরা ঈদে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় যানবাহনের সক্ষমতা বাড়াতে পারি না সেহেতু ঈদযাত্রায় ছুটির ব্যবস্থাপনা ঠিক করে প্রতিবছর ঈদের আগে ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীসাধারণের এহেন দুর্ভোগ ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারো এই ব্যাপারে কোনো সমীক্ষা নেই, গবেষণা নেই, প্রচেষ্টা নেই, দায় নেই, দায়িত্বও নেই।

এবারের ঈদুল আজহায় ঈদের পরে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ৭ দিনের ছুটি অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। অথচ সরকারের দায় ও দায়িত্ব থাকলে ঈদের পেছনের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি ৩ ও ৪ জুন এগিয়ে আনলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হতো। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমে আসতো। মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমতো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ৪ দিন ছুটি ছিল, মানুষজন ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলেই গত ২৫ বছরের মধ্যে বিগত ঈদুল ফিতরে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

এখন আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সর্বোপরি সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া এহেন যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে উত্তরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেননা ইতোমধ্যে ঈদযাত্রা শুরু থেকে বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট এবং ভারি বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের শিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। আমাদের রেলপথ বহু পুরোনো, অনেক রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রায়শই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। একটি লাইনচ্যুতির ঘটনায় একাধিক রেলপথের কয়েকজোড়া ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়। ফলে স্টেশনে স্টেশনে আটকে থাকেন যাত্রীরা। এমন নারকীয় দুর্ভোগ এবারের ঈদে ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন রেলপথ বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নজরে রাখবেন আশা করি। নৌ-পথে কখনো কখনো রেড সিগন্যালে নৌ-পথ সাময়িক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদুল আজহায় বিভিন্ন পথে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের জ্বালানিবাহী ১৪ জাহাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমন্বয় সভা
সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের
জ্বালানিবাহী ১৪ জাহা
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং আগমনের পথে রয়েছে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ।

বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে জাহাজগুলোর ধারাবাহিক এই আগমনের ফলে বন্দরে কোনো জট নেই এবং দেশের সাপ্লাই চেইন সুশৃঙ্খল রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেয়ায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বলা হয়, বন্দরের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং সুনিশ্চিত করাসহ অপারেশনাল কার্যকারিতা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে আসা জাহাজসমূহের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজসমূহের অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে নগণ্য। তিনি জ্বালানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উপসাগরীয় (গালফ) অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত ও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ৫টি এলএনজ এবং ২টি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে অথবা আসার পথে রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি এই জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এই জাহাজগুলোর ধারাবাহিক আগমন এবং দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

রোববার অনুষ্ঠিত সভায় বন্দরের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। তাঁরা জানান যে, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান – তাজকিয়ার সেমিনার ও কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিল  অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র মাহে রামাদানে যুবসমাজকে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তারুণ্য নির্ভর সংগঠন ‘তাজকিয়া’র উদ্যোগে “তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৬ মার্চ, ২০২৬) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-

লেখক ও গবেষক মাহাদী গালিব। তিনি তার সারগর্ভ আলোচনায় উল্লেখ করেন, “পবিত্র মাহে রামাদান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের এক অনন্য সুযোগ।” তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আধুনিক যুগের নানা বিভ্রান্তি, ইন্টারনেট নির্ভর জীবন ব্যবস্থা এবং  ব্যস্ততার মধ্যেও রামাদানের চেতনাকে ধারণ করে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়াই প্রকৃত সফলতা।”
আলোচনায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তরুণ সমাজ যদি রামাদানের শিক্ষা, সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধি যদি নিজেদের জীবনে বাস্তবভাবে ধারণ করতে পারে, তবে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার  শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।তাছাড়া, উক্ত সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সম্মানিত সচিব জনাব এ. ওয়াই. এমডি. জাফর, তাজকিয়ার প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী  সৈয়দ আবু নাসের নূর অন্তু,…….
তাজকিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শাখা প্রতিনিধিবৃন্দ,বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর বিভিন্ন শাখা পর্যায়ের শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ, বিভিন্ন তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা রামাদানে নিজেদের করণীয়, সময় ব্যবস্থাপনা, ইবাদতের ধারাবাহিকতা এবং নৈতিক জীবন গঠনের নানা দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

উক্ত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন তাজকিয়া কেন্দ্রীয় পর্ষদ এর সম্মানিত সভাপতি জনাব মোঃ রমিজ আলী।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, যুব সমাজের মাঝে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তুলে ‘ঐশী প্রেমের জাগরণ সৃষ্টি’ করতে ভবিষ্যতেও তাজকিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে মিলাদ-কিয়াম ও মুনাজাত পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে ইফতার গ্রহণ পরবর্তী উক্ত আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আলোচিত খবর

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ