আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

রাজশাহীতে প্রতারণা করে ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ।

মো : গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীতে প্রতারণা করে ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর আমলী বোয়ালিয়া থানা আদালতে এ মামলা দায়ের করেন গ্রীণ প্লাজা রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন, নওগাঁর রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন এবং তার স্বামী প্রকৌশলী কাজীমুল হক। কাজীমুল হককে এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরআগে তাদের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে আইনী নোটিশও পাঠানো হয়।এছাড়া সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অভিযোগও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, দীর্ঘদিনেও বকেয়া টাকা না পেয়ে গত ২৪ মে আদালতে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে আইনজীবীর মাধ্যমে বাদী উল্লেখ করেন, রাজশাহী নগরীতে ‘গ্রীন মনোয়ারা প্যালেস’ নামের সাততলা আবাসিক ভবনের ৩য় তলার (বি-২) নম্বর ফ্ল্যাট বাজারমূল্য অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ায়ী ৭৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় কিনতে সম্মত হন কাজীমুল হক দম্পতি। এর প্রেক্ষিতে জমির অংশসহ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারন হয়।

তবে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযুক্তরা দলিলমূল্য ২৭ লাখ টাকা উল্লেখ করে দলিল প্রস্তুত করান। এটিই ছিলো প্রথম প্রতারণার অংশ। এ ঘটনায় বাদী বিস্মিত হলে আসামীপক্ষ জানায়, দলিলমূল্য যা থাক নির্ধারিত দাম ৭৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হবে। সে হিসেবে ওইদিনেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।

সেদিনই নগদ ১৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ডিবিবিএল ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ও বিকাশে ২৫ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
এছাড়া একই সময় মামলার প্রধান আসামী কাজীমুল হক গ্রীন প্লাজার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করেন এবং বাকী টাকা কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যাংক হিসেবে জমা প্রদান করবেন বলে জানান। তবে জমিসহ ফ্লাট রেজিস্ট্রি হওয়ার পর ব্যাংক সময় পর্যন্ত কোন টাকা জমা হয়নি।

পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তারা কালক্ষেপন শুরু করেন। তবে এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি ও ২৮ মার্চ পর্যন্ত তারা আরো ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এখনো ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এখন এ টাকা পরিশোধের জন্য বলা হলে অভিযুক্তরা সরাসরি অস্বীকার করে। এমনকি আর টাকা চাইলে প্রাণনাশেও হুমকি দেওয়া হয়। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বাদী তাদের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বুধবার বিকেলে প্রকৌশলী কাজিমুল হকের মোবাইল নম্বরে কল দেয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় শোনার পর তিনি রং নাম্বার বলে ফোন কেটে দেন। এর পরই অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুনের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেন নি। এক পর্যায়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি চাকরিবিধিও লঙ্ঘন করেছে। টাকার কথা বললে হত্যার হুমকি দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভোট চুরি করতে আসলে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আসতে হবে সারজিস আলম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এবার যে ভোট চুরি করতে আসবে, তাকে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন বলে মন্তব্য করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের এনসিপি দলের প্রার্থী সারজিস আলম। পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী শেষ জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন-রক্ত দিয়ে দিবেন, জীবন দিয়ে দিবেন, একটা ভোট চুরি করতে দিবেন না। যে ভোট চুরি করার আশায় আসবে তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল। তাকে বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন। আমরা স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে বলতে চাই, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের নীল নকশা কেউ যদি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে, সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি যেন তারা মনে রাখে। তার গলায় জুতার মালা ছিল, আপনার গলায় কোন মালা থাকবে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ১২ তারিখের লড়াই আমাদের মুক্তির লড়াই। ১২ তারিখের লড়াই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই। আমরা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে এ লড়াইয়ে বিজয়ী হবো।

পাবনা-০৩ আসনে জামায়াতের এমপি পদপ্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে পাবনা-০৩ (চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা আলী আছগার তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মহি উদ্দিন সাহেব আমীরে জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখা।

“চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ” শিরোনামে ঘোষিত এ ইশতেহারে-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, নারী ও শিশু কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়, নির্বাচিত হলে চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর এই তিন উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা খাতে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিকায়ন, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
কৃষি খাতে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ, সার-বীজ সহজলভ্য করা এবং সরকারি উদ্যোগে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প স্থাপন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা আলী আছগার বলেন, ৭০,পাবনা-০৩ এলাকায় “আমি নির্বাচিত হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করব ইনশাল্লাহ।একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতেই আমার এই অঙ্গীকার।”তিনি উন্নয়ন ও সুশাসন বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ