আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সোমবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্বে ড্রাই ডক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম টার্মিনাল নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বেসরকারি অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের জায়গায় সিডিডিএল দায়িত্ব নেবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডের (ডিপিএম) মাধ্যমে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ড্রাই ডক কর্তৃপক্ষ এনসিটির দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, এনসিটির পরিচালনায় বর্তমানে নিযুক্ত কর্মীরা আগের মতোই কাজ করবেন এবং চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনায় তাদের তত্ত্বাবধান করা হবে।

জানা গেছে, এনসিটি বিগত ১৭ বছর ধরে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড পরিচালনা করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির মেয়াদ ৬ জুলাই শেষ হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে। এনসিটির অবকাঠামোগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচটি জেটির প্রতিটিতে বড় সমুদ্রযাত্রার জাহাজ ভিড়তে পারে এবং একটি জেটিতে অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল করে। বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে এই টার্মিনাল। এখানে রয়েছে ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক সরঞ্জাম।

ড্রাই ডকের এই দায়িত্ব গ্রহণ মূলত ছয় মাসের জন্য একটি অন্তবর্তীকালীন চুক্তি, যার মধ্যে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এনসিটির মতো টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে না দিয়ে দেশের নিয়ন্ত্রণেই রাখার পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানান, ড্রাই ডকের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিক থেকে এটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। তবে আগামী ছয় মাসে টার্মিনাল পরিচালনায় দক্ষতা, স্থায়িত্ব ও কর্মসংস্থান রক্ষার দিকগুলো নির্ধারক হয়ে উঠবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য।এদিকে এনসিটি পরিচালনাকারী সাইফ পাওয়ারটেক জানায়, এনসিটি পরিচালনায় তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৩,৮০০ শ্রমিক বহাল থাকবে এবং তারা নৌবাহিনীকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।

বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এনসিটি টার্মিনালটির বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউ হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালিত হয়। এখানে চারটি জেটি রয়েছে, যাতে একসঙ্গে চারটি জাহাজ ভেড়াতে পারে। টার্মিনালটি প্রতিবছর প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ