আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চাঁদাবাজির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে: চরমোনাই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. গোপালগঞ্জ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফ্তি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেছেন। চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারে জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদরাসায় তাদের মধ্যে বৈঠক হয়।

চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, গতকাল (বুধবার) এনসিপির ওপর যে মর্মান্তিক একটা অনাকাঙ্খিত আক্রমণ হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাঁচ আগস্টের পরে একটা সভ্য দেশে যে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, এটা আমাদের চিন্তা ও কল্পনার বাইরে ছিল। এনসিপি নেতারা ওখানে যাবে এবং সেটা স্পর্শকাতর একটা জায়গা গোপালগঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্বটা আরও ভালোভাবে পালন করবে বলে আমরা চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু সে ব্যাপারে আমরা দুবর্লতা দেখেছি। কী কারণে তারা এই দুর্বলতা দেখিয়েছে, যারা দায়িত্বে আছেন আশা করি তারা সেটা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।
আমরা অন্তবর্তী সরকারসহ প্রশাসনকে বলব, আপনাদের দায়িত্বের বিষয়ে আপনারা সচেষ্ট হবেন। যারা দেশবিরোধী, যারা এদেশের টাকা পাচার করেছে, মানুষকে খুন করেছে, গুম করেছে, এরা যেন এ বাংলাদেশের ভেতরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, এ ব্যাপারে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে বলবো, আমরা যারা জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে একাকার হয়ে কাজ করেছিলাম, আমাদের ঐক্য যেন দেশের স্বার্থে নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সবাই সচেষ্ট থাকবো। এ বিষয়ে আমরা সবাই আন্তরিকভাবে লক্ষ্য রাখবো।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে চরমোনাই পীর বলেন, পাঁচ আগস্টের পরে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চাঁদাবাজির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জায়গা দখল, স্টেশন দখল, মামলা বাণিজ্যসহ নানা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। কে বা কারা করেছে এটা আমাদের সকলের কাছে পরিস্কার। এ ব্যাপারে যৌক্তিক আলোচনা-সমালোচনা করতেই হবে। এটা যদি না হয় তাহলে তো দেশে সুন্দর একটা পরিবেশ থাকবে না। এটা করতে গিয়ে যদি কারও গায়ে লাগে, আমি অনুরোধ করবো, দেশ রক্ষার স্বার্থে আপনারা বিষয়টাকে নজরে রাখবেন, গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন যেন এটা আর না থাকে, সেভাবে আপনারা কাজ করবেন।ঐক্যমত্য কমিশনের কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনের কার্যক্রম ও আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি, আমাদের যে আশা-আকাঙ্খা সেটা আমরা দেখিনি। আমাদের সবাইকে দেশের কল্যাণের ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। দেশকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য আমি সকলকে অনুরোধ করবো।
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চেয়েছি। দেশ গঠনের জন্য এটা আমরা সুন্দর মনে করেছি। কেউ আগের নিয়মে করার কথা বলেছেন। কিন্তু আগের নিয়মের নির্বাচনে, সেখানে তো দিনের ভোট রাতে হয়েছে, জনগণ ভোট দিতে পারেনি এবং ফ্যাসিস্ট চরিত্রের সরকার তৈরি হয়েছে, এককভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে দল।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রতিটি ভোটারের মূল্যায়ন হবে। এককভাবে ক্ষমতা নেয়ার মতো সুযোগ থাকবে না। এজন্যই আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি। ৯১টা দেশে এ পদ্ধতি চলছে, এটা তো নতুন কিছু নয়। এটা বলার কারণে যদি কারও গায়ে লাগে, তাহলে আমরা বলব, দেশের কথা চিন্তা করে তারা যেন ব্যক্তিস্বার্থটাকে অগ্রাধিকার না দেয়।
মুফতি ইজাহারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, জানতে চাইলে চরমোনাই পীর বলেন, সেখানে ইসলামের পক্ষে দেশ গঠন করার বিষয়ে আমরা যেন সবাই এক হয়ে কাজ করতে পারি, এ বিষয়টাতে হুজুর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা উনার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। এছাড়া সিংহভাগ ইসলামী দল, আমরা একমত হয়েছি যে, ইসলামী দলগুলোর সব ভোট যেন একটা বাক্সে আনা যায়। এর বাইরে আরও যারা দেশপ্রেমিক এবং মানবতাপ্রেমিক আছে, তাদের নিয়ে আমরা যেন সবাই মিলে দেশ গড়তে পারি, এ ধরনের একটা নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশা করি, আল্লাহর রহমতে এটা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ