আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

ছাত্রদলের সাবেক নেতা আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ

নাহিদুজ্জামান নিশাদের রক্তে বিএনপির রাজনীতি মিশে আছে৷

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধ ঃ

৩১ দফা প্রচারে ও সাংগঠনিক উন্নয়নে ব্যস্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

  1. গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ৮নং জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বগারভিটা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী মন্ডলের পরিবারের পুর্বপুরুষ ছিলেন পীর মোহাম্মদ মন্ডল। তিনি মৃত্যু বরণ করলে পুত্র ফরিদ মন্ডল, ফরিদ মন্ডল মৃত্য বরণ করলে পুত্র নুর হোসেন মন্ডল, নুর হোসেন মন্ডল মৃত্য বরণ করলে পুত্র আব্দুল লতিফ মন্ডল, আব্দুল লতিফ মন্ডল মৃত্য বরণ করলে পুত্র আব্দুল্লাহ মন্ডল থাকেন । এই আব্দুল্লাহ মন্ডলের পুত্র আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ মন্ডল।
    পিতার হাত ধতে আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদের পিতা আব্দুল্লাহ মন্ডল বগুড়া শহরে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন৷ তিনি বগুড়া শহরে বিএনপি’র রাজনীতি করতেন। তিনি বগুড়া শহর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন। তিনি বগুড়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি প্রভাবশালী পরিবহন নেতাও ছিলেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায় ব্যপক সাফল্য লাভ করেন৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ গত  ১ ডিসেম্বর ১৯৭৬  জন্ম গ্রহণ করেন৷ তাঁর রক্তে পৈত্রিক সুত্রে জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারা প্রবাহমান থাকে৷ তাই তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন৷ তিনি ১৯৯৪ খ্রি: সনে বগুড়া শহর ছাত্রদলের সেউজগাড়ি আঞ্চলিক কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন৷ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ১৯৯৭ খ্রিঃ সনে বগুড়া শহরের এক বিশিষ্ট শিল্পপতির কন্যাকে বিবাহ করেন৷ তাঁর স্ত্রীও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী৷ নিশাদ দম্পতির ঘরে এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে৷ তাঁদের কন্যা ডাক্তার এবং বড় ছেলে আমেরিকায় এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত৷ তাঁদের ছোট ছেলেও ছাত্র৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদের একমাত্র বোন বর্তমানে স্বামীর সাথে আমেরিকা প্রবাসি। এই বোনের স্বামী মেজর (অব:) মো: রাসেল পি,এস,সি, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এস,এস,এফ) এর সদস্য হিসেবে ২০০১ খ্রি: সনে বি এন পি সরকার গঠন করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন । সেই কারণে পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে চাকরি ছেড়ে প্রবাস জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ২০০১  প্রথম হজ্ব ব্রত পালন করেন৷ এরপরে আরো ৪ বার হজ্বব্রত ও ৭/৮ বার ওমরা পালন করেন।
    মোঃ নাহিদুজ্জামান নিশাদ পিতার হাত ধরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন৷ তিনি যে ব্যবসায় হাত দিয়েছেন, সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন৷ বর্তমানে তিনি নানা ধরণের ব্যবসা ও শিল্পকারখানার মালিক৷ তিনি একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদের পিতা মৃত্য বরণ করলে বিএনপি’র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সেসময়ে তাঁদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত প্রার্থনা করেন ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান। সেসময় তিনি এই পরিবারের রাজনৈতিক অবিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ২০০৫  বগুড়া চেম্বার এন্ড কমার্সের ডিরেক্টর পদে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শুধু মাত্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারনে তাঁর জন্য চেম্বার ভবনের দরজা বন্ধ হয়ে যায়৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক জীবনে দারুণ সফলতা পেলেও তার মনের মধ্যে নিজ এলাকার মানুষের জন্য ছিল অফুরন্ত ভালোবাসা৷ তাই তিনি সময় পেলেই ছুটে যান সাঘাটা ফুলছড়িতে৷ তিনি চেনা-অচেনা মানুষের খোজ খবর রাখতেন৷ তিনি বিএনপি’র নেতা কর্মিদের পাশে থাকতেন৷
    ২০১৮  সনের নির্বাচনের পর ২০২১ সনের দিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের নির্মম নির্যাতন পুনরায় শুরু হলে মুক্তিকামী বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের বহু নেতা কর্মী আটক হতে থাকে৷ নিশাদ এই সময় সাঘাটা ফুলছড়ি সহ গাইবান্ধার আটক নেতা কর্মীদের জেল খানার পিসিতে অর্থ জমা, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও জামিনের ব্যবস্থা করতে থাকেন। এই তালিকায় ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা কমিটিরও নেতা কর্মি আছে। দলের দুর্দিনে নেতা কর্মিদের নিকট যখন ১ টাকা ১ লক্ষ টাকার সমান মনে হতো তখন তিনি বলতে গেলে একাই এই সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন । বিএনপি’র প্রতি ভালোবাসায় তাঁকে নেতা কর্মির প্রতি এমন দায়িত্ববান করেছিল। প্রতিদানে সাঘাটা ফুলছড়ি সহ গাইবান্ধা জেলার বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীও তাঁকে আপন করে নিয়েছে।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ বগুড়া শহরে একটি রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল স্থাপন করেন৷ এখানে তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্র হতে আগত বিএনপি’র নেতা কর্মীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা৷ ফ্যাসিস্ট শাসকের তাবেদার প্রশাসনের ভয়ে বগুড়ায় আগত কেন্দ্রীয় নেতা সহ অন্যান নেতা কর্মীদের যখন অনেকেই আবাসন দিতো না তখন নিশাদের হোটেল হোটেল ছিল অন্যতম ভরসা। বিএনপি নেতা কর্মিদের আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য তাঁকে হেনস্তা হতে হয়েছে বারবার।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদের রক্তে বিএনপির রাজনীতি মিশে আছে৷ তাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক জনাব রহমানের দেওয়া দায়িত্ব (সহ-সভাপতি, গাইবান্ধা জেলা বিএনপি) নিষ্ঠার সাথে পালন করে সাঘাটা ফুলছড়ির আপামর জনতা ও বিএনপির উন্নয়নে সার্বক্ষণিক কাজ করে চলেছেন৷ তিনি দীর্ঘকাল ধরে দাদার হাতে প্রতিষ্ঠিত জুমারবাড়ি দারুল হাদিস সালাফিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি সাঘাটা ফুলছড়ি এলাকায় কয়েকটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপশানালয়ের উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন উচ্ছেদের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ৫ আগষ্ট পূর্ববর্তী উত্তাল দিনগুলোতে বগুড়ার রাজপথে দলীয় নেতা কর্মি সহ জনতার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে স্বৈরাচারের পতন তরান্বিত করেছেন । তাঁর এই আন্দোলন সংগ্রামের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়েছে।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে বিএনপি’র একজন কর্মি হিসেবে সাঘাটা ফুলছড়িতে কাজে আত্ন নিয়োগ করেন। কিন্তু বিএনপির রাজনীনিতে তাঁর অবদান, ত্যাগ, দুর্দিনে নেতা কর্মির পাশে দাঁড়ানো ও দলের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি দেখে সাঘাটা ফুলছড়ি সহ গাইবান্ধা জেলা বিএনপির ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সুপারিশে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নিজস্ব অনুসন্ধানে যোগ্য প্রমাণ হওয়ার মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদ লাভ করেন। এই সময়ে বিএনপিতে সদস্য পদ প্রদান স্থগিত থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান নিজে নিশাদকে এই সম্মানিত রাজনৈতিক পদ প্রদান করেন।
    সাঘাটা ফুলছড়ি ঘুরে দেখা গেছে আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ সাঘাটা ফুলছড়ি বিএনপির মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করেছেন।
    বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতা কর্মি এবং সাধারণ ভোটার দের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হলে তিনি ইতিহাস গড়ে এই আসনটিতে জয় লাভ করবেন, যা অন্যদের দিয়ে সম্ভব হবে না।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সাঘাটা ফুলছড়ির মানুষের জন্য কাজ করছেন। বর্তমানে সাঘাটা ফুলছড়ি বিএনপির নেতা কর্মীগণ তার সাথে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রণীত ৩১ দফা প্রচারে ও সাংগঠনিক উন্নয়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁর প্রতি দলীয় নেতা কর্মি ও সাধারণ ভোটার যে আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন তাতে করে ধানের শীষ প্রতিকের মাধ্যমে জয় লাভ করে তিনি গাইবান্ধা-৫ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ