আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

ছাত্রদলের সাবেক নেতা আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ

নাহিদুজ্জামান নিশাদের রক্তে বিএনপির রাজনীতি মিশে আছে৷

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধ ঃ

৩১ দফা প্রচারে ও সাংগঠনিক উন্নয়নে ব্যস্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

  1. গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ৮নং জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বগারভিটা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী মন্ডলের পরিবারের পুর্বপুরুষ ছিলেন পীর মোহাম্মদ মন্ডল। তিনি মৃত্যু বরণ করলে পুত্র ফরিদ মন্ডল, ফরিদ মন্ডল মৃত্য বরণ করলে পুত্র নুর হোসেন মন্ডল, নুর হোসেন মন্ডল মৃত্য বরণ করলে পুত্র আব্দুল লতিফ মন্ডল, আব্দুল লতিফ মন্ডল মৃত্য বরণ করলে পুত্র আব্দুল্লাহ মন্ডল থাকেন । এই আব্দুল্লাহ মন্ডলের পুত্র আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ মন্ডল।
    পিতার হাত ধতে আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদের পিতা আব্দুল্লাহ মন্ডল বগুড়া শহরে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন৷ তিনি বগুড়া শহরে বিএনপি’র রাজনীতি করতেন। তিনি বগুড়া শহর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন। তিনি বগুড়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি প্রভাবশালী পরিবহন নেতাও ছিলেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায় ব্যপক সাফল্য লাভ করেন৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ গত  ১ ডিসেম্বর ১৯৭৬  জন্ম গ্রহণ করেন৷ তাঁর রক্তে পৈত্রিক সুত্রে জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারা প্রবাহমান থাকে৷ তাই তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন৷ তিনি ১৯৯৪ খ্রি: সনে বগুড়া শহর ছাত্রদলের সেউজগাড়ি আঞ্চলিক কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন৷ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ১৯৯৭ খ্রিঃ সনে বগুড়া শহরের এক বিশিষ্ট শিল্পপতির কন্যাকে বিবাহ করেন৷ তাঁর স্ত্রীও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী৷ নিশাদ দম্পতির ঘরে এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে৷ তাঁদের কন্যা ডাক্তার এবং বড় ছেলে আমেরিকায় এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত৷ তাঁদের ছোট ছেলেও ছাত্র৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদের একমাত্র বোন বর্তমানে স্বামীর সাথে আমেরিকা প্রবাসি। এই বোনের স্বামী মেজর (অব:) মো: রাসেল পি,এস,সি, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এস,এস,এফ) এর সদস্য হিসেবে ২০০১ খ্রি: সনে বি এন পি সরকার গঠন করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন । সেই কারণে পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে চাকরি ছেড়ে প্রবাস জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ২০০১  প্রথম হজ্ব ব্রত পালন করেন৷ এরপরে আরো ৪ বার হজ্বব্রত ও ৭/৮ বার ওমরা পালন করেন।
    মোঃ নাহিদুজ্জামান নিশাদ পিতার হাত ধরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন৷ তিনি যে ব্যবসায় হাত দিয়েছেন, সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন৷ বর্তমানে তিনি নানা ধরণের ব্যবসা ও শিল্পকারখানার মালিক৷ তিনি একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদের পিতা মৃত্য বরণ করলে বিএনপি’র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সেসময়ে তাঁদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত প্রার্থনা করেন ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান। সেসময় তিনি এই পরিবারের রাজনৈতিক অবিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ২০০৫  বগুড়া চেম্বার এন্ড কমার্সের ডিরেক্টর পদে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শুধু মাত্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারনে তাঁর জন্য চেম্বার ভবনের দরজা বন্ধ হয়ে যায়৷
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক জীবনে দারুণ সফলতা পেলেও তার মনের মধ্যে নিজ এলাকার মানুষের জন্য ছিল অফুরন্ত ভালোবাসা৷ তাই তিনি সময় পেলেই ছুটে যান সাঘাটা ফুলছড়িতে৷ তিনি চেনা-অচেনা মানুষের খোজ খবর রাখতেন৷ তিনি বিএনপি’র নেতা কর্মিদের পাশে থাকতেন৷
    ২০১৮  সনের নির্বাচনের পর ২০২১ সনের দিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের নির্মম নির্যাতন পুনরায় শুরু হলে মুক্তিকামী বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের বহু নেতা কর্মী আটক হতে থাকে৷ নিশাদ এই সময় সাঘাটা ফুলছড়ি সহ গাইবান্ধার আটক নেতা কর্মীদের জেল খানার পিসিতে অর্থ জমা, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও জামিনের ব্যবস্থা করতে থাকেন। এই তালিকায় ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা কমিটিরও নেতা কর্মি আছে। দলের দুর্দিনে নেতা কর্মিদের নিকট যখন ১ টাকা ১ লক্ষ টাকার সমান মনে হতো তখন তিনি বলতে গেলে একাই এই সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন । বিএনপি’র প্রতি ভালোবাসায় তাঁকে নেতা কর্মির প্রতি এমন দায়িত্ববান করেছিল। প্রতিদানে সাঘাটা ফুলছড়ি সহ গাইবান্ধা জেলার বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীও তাঁকে আপন করে নিয়েছে।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ বগুড়া শহরে একটি রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল স্থাপন করেন৷ এখানে তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্র হতে আগত বিএনপি’র নেতা কর্মীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা৷ ফ্যাসিস্ট শাসকের তাবেদার প্রশাসনের ভয়ে বগুড়ায় আগত কেন্দ্রীয় নেতা সহ অন্যান নেতা কর্মীদের যখন অনেকেই আবাসন দিতো না তখন নিশাদের হোটেল হোটেল ছিল অন্যতম ভরসা। বিএনপি নেতা কর্মিদের আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য তাঁকে হেনস্তা হতে হয়েছে বারবার।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদের রক্তে বিএনপির রাজনীতি মিশে আছে৷ তাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক জনাব রহমানের দেওয়া দায়িত্ব (সহ-সভাপতি, গাইবান্ধা জেলা বিএনপি) নিষ্ঠার সাথে পালন করে সাঘাটা ফুলছড়ির আপামর জনতা ও বিএনপির উন্নয়নে সার্বক্ষণিক কাজ করে চলেছেন৷ তিনি দীর্ঘকাল ধরে দাদার হাতে প্রতিষ্ঠিত জুমারবাড়ি দারুল হাদিস সালাফিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি সাঘাটা ফুলছড়ি এলাকায় কয়েকটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপশানালয়ের উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন উচ্ছেদের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ৫ আগষ্ট পূর্ববর্তী উত্তাল দিনগুলোতে বগুড়ার রাজপথে দলীয় নেতা কর্মি সহ জনতার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে স্বৈরাচারের পতন তরান্বিত করেছেন । তাঁর এই আন্দোলন সংগ্রামের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়েছে।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে বিএনপি’র একজন কর্মি হিসেবে সাঘাটা ফুলছড়িতে কাজে আত্ন নিয়োগ করেন। কিন্তু বিএনপির রাজনীনিতে তাঁর অবদান, ত্যাগ, দুর্দিনে নেতা কর্মির পাশে দাঁড়ানো ও দলের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি দেখে সাঘাটা ফুলছড়ি সহ গাইবান্ধা জেলা বিএনপির ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সুপারিশে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নিজস্ব অনুসন্ধানে যোগ্য প্রমাণ হওয়ার মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদ লাভ করেন। এই সময়ে বিএনপিতে সদস্য পদ প্রদান স্থগিত থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান নিজে নিশাদকে এই সম্মানিত রাজনৈতিক পদ প্রদান করেন।
    সাঘাটা ফুলছড়ি ঘুরে দেখা গেছে আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদ সাঘাটা ফুলছড়ি বিএনপির মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করেছেন।
    বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতা কর্মি এবং সাধারণ ভোটার দের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হলে তিনি ইতিহাস গড়ে এই আসনটিতে জয় লাভ করবেন, যা অন্যদের দিয়ে সম্ভব হবে না।
    আলহাজ্ব নাহিদুজ্জান নিশাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সাঘাটা ফুলছড়ির মানুষের জন্য কাজ করছেন। বর্তমানে সাঘাটা ফুলছড়ি বিএনপির নেতা কর্মীগণ তার সাথে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রণীত ৩১ দফা প্রচারে ও সাংগঠনিক উন্নয়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁর প্রতি দলীয় নেতা কর্মি ও সাধারণ ভোটার যে আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন তাতে করে ধানের শীষ প্রতিকের মাধ্যমে জয় লাভ করে তিনি গাইবান্ধা-৫ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ