আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

৩৩ বছরের পানিসংকট নিরসনে কর্ণফুলী আবাসিকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা ও কর্ণফুলী আবাসিক প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (দুপুরে চট্টগ্রাম সিডিএ ভবনের মিলনায়তনে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম। এদিকে দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনোয়ারা বেগম। সমিতির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান।
অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, দৃষ্টিনন্দন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিডিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এটি শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়—বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেন কর্ণফুলী হাউজিংয়ের প্লট মালিকরা সরাসরি উপকৃত হন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের নগর পরিকল্পনায় নাগরিক সেবার মানোন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। সময়সীমা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নাগরিকরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি মনোয়ারা বেগম বলেন, ভান্ডারজুড়ি প্রকল্পের আওতায় ৫১৯টি প্লট মালিক পানি সংযোগের হকদার। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হবে এবং অর্থ প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যেই সংযোগ কার্যক্রম শুরু হবে, ইন শা আল্লাহ্। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ যেন পানির মতো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি প্লট মালিককে ৪০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় পানির পাইপলাইন সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একাধিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই চুক্তির বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সিডিএ কর্ণফুলী হাউজিং এলাকার দীর্ঘ ৩৩ বছরের পানিসংকট নিরসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে সিডিএর পক্ষে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম, সচিব রবীন্দ্র চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, স্টেট অফিসার মো. আলমগীর খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস প্রমুখ এবং ওয়াসার পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।প্লট মালিক সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, সহ-সভাপতি গোলাম ওয়ারেস, সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল হুদা, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেলিম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সাইফুজ্জামান রাফি, অ্যাডভোকেট আশীষ কিরণ দাশ, অ্যাডভোকেট কে. এম. শান্তনু চৌধুরী প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ