আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

৩৩ বছরের পানিসংকট নিরসনে কর্ণফুলী আবাসিকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা ও কর্ণফুলী আবাসিক প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (দুপুরে চট্টগ্রাম সিডিএ ভবনের মিলনায়তনে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম। এদিকে দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনোয়ারা বেগম। সমিতির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান।
অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, দৃষ্টিনন্দন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিডিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এটি শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়—বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেন কর্ণফুলী হাউজিংয়ের প্লট মালিকরা সরাসরি উপকৃত হন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের নগর পরিকল্পনায় নাগরিক সেবার মানোন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। সময়সীমা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নাগরিকরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি মনোয়ারা বেগম বলেন, ভান্ডারজুড়ি প্রকল্পের আওতায় ৫১৯টি প্লট মালিক পানি সংযোগের হকদার। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হবে এবং অর্থ প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যেই সংযোগ কার্যক্রম শুরু হবে, ইন শা আল্লাহ্। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ যেন পানির মতো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি প্লট মালিককে ৪০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় পানির পাইপলাইন সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একাধিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই চুক্তির বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সিডিএ কর্ণফুলী হাউজিং এলাকার দীর্ঘ ৩৩ বছরের পানিসংকট নিরসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে সিডিএর পক্ষে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম, সচিব রবীন্দ্র চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, স্টেট অফিসার মো. আলমগীর খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস প্রমুখ এবং ওয়াসার পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।প্লট মালিক সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, সহ-সভাপতি গোলাম ওয়ারেস, সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল হুদা, অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেলিম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সাইফুজ্জামান রাফি, অ্যাডভোকেট আশীষ কিরণ দাশ, অ্যাডভোকেট কে. এম. শান্তনু চৌধুরী প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ