আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে

বোয়ালখালীতে মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামে বোয়ালখালী অভি মালচিং পদ্ধতিতে প্রথম বারের মতো গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার ৯ নং আমুচিয়া ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক অভি বড়ুয়া। উচ্চ মূল্যের সবজি উৎপাদনে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কন্টিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় এবার প্রথম বারের মতো বোয়ালখালীতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ করেছেন তিনি। যা দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন অন্যান্য কৃষকরাও। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে , গত মে মাসের শেষের দিকে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কন্টিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় এবার প্রথম বারের মতো বোয়ালখালীতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর দুটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। টমেটো সাধারণত শীতকালীন ফসল। তবে বর্তমানে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্রীষ্মকালে টমেটোর আবাদ করা যায়। অসময়ে বাজারে টমেটোর চাহিদার সাথে দামও ভালো পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা লাভবান হন। গতকাল সকালে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক অভি বড়ুয়ার টমেটো ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় দুলছে কাচা, পাকা/আধাপাকা টমেটো।
কৃষক অভি বড়ুয়া বলেন , গত মে মাসের শেষের দিকে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ৮ শতক জমিতে প্রথম বারের মতো মালচিং পদ্ধতিতে হাইব্রিড বারি -৮ জাতের ৫০০ টি গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা লাগিয়েছেন তিনি। এতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি চারা নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। অভি বলেন, জমি প্রস্তুত, সার, ওষুধ ও পরিচর্যার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনজুর আলমের কাছ থেকে সহযোগিতা ও নিয়মিত পরামর্শ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বাজারে টমেটো বিক্রি শুরু করেছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০/১০০ টাকা। এ পর্যন্ত ৬০ কেজি মতো বিক্রি করেছেন। আরো ৮০/১০০ কেজির মতো বিক্রির আশা করছেন তিনি। এতে করে খরচ বাদে ১২ হাজার টাকা তার মুনাফা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অল্প জমিতে অনেক লাভবান হওয়া যায়। কীটনাশক ও রাসায়নিক সারও কম লাগে, যার কারণে খরচ কম লাভ বেশি। টমেটো সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাহিদার সাথে দামও বেশি বাজারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, মালচিং হলো বিশেষ পলিপেপার দিয়ে গাছের গোড়ার মাটি ঢেকে দেওয়ার একটি বিশেষ পদ্ধতি। যা আগাছার বৃদ্ধি রোধ করে এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে। মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও মাটির গুণাগুণ উন্নত করতে সাহায্য করে। প্রয়োজনীয় পানি ধরে রাখতে এবং ফেলে দিতে সাহায্য করে। স্কাইনেট ব্যবহারে ফসলের ফুল, ফল ও চারাকে অতি রোদ-বৃষ্টি. পোকা, পাখি থেকে রক্ষা করে।এই পদ্ধতিতে সবজির আবাদ খুবই লাভজনক। সঠিক পদ্ধতি জেনে চাষাবাদ করলে অবশ্যই অল্প জায়গায় অধিক মুনাফা পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ উপজেলা কৃষি অফিস সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বোয়ালখালীতে তীব্র শীতে ব্যস্ত কৃষক বোরো ধান রোপনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৌষ মাসের শেষের দিকে দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হলে বোয়ালখালী উপজেলায় বোরো ধান চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগাচ্ছেন, আবার কেউ সেচ পাম্প ও পাওয়ারট্রলির মাধ্যমে জমি সেচ ও প্রস্তুত করছেন। বিশেষ করে আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিল এলাকায় ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষক মো. আবদুল জলিল জানান, তিনি ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন। ‘চারা প্রস্তুত হলে ও প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হতে পারে, তাই কিছুদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি,’ বলেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৩ কানি জমিতে বোরো চাষ করবেন একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন। তিনি জানান, এবার ব্রি ধান ৪৯, ৯২, ১০০ এবং স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান বেশি হবে।

ধান রোপণের শ্রমিকরা জানান, ভোরে কুয়াশার মধ্যে চারা সংগ্রহ করে মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দৈনিক আয় প্রায় ৮০০ টাকা। ‘শীতের মধ্যে এই কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে বলেন তারা।

বোয়ালখালী কৃষি অফিস সুত্রে জানায় চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০০ হেক্টর জমিতে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

‘উপজেলায় ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় ধান রোপণ শুরু হয়েছে। অনেকেই ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শতভাগ পুরোন হবে বলে আশা করছি। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে,।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ