আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

রেলক্রসিংয়ে জনসাধারণের ভোগান্তি, মুক্তি পেতে নির্মিত হবে দুটি ওভারপাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম  মহানগরে একাধিত রেল ক্রসিংয়ের কারণে যানজট লেগে থাকে। যার ফলে চলাচলরত পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে রেনল ক্রসিংয়ে দুটি ওভারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। ওভারপাসগুলো নির্মিত যানজট অনেককাংশে হ্রাস পাবে এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাধারণত ৫-৭ মিনিট সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় একটি ট্রেন ক্রসিং পার হওয়ার সময়। সে হিসাবে মহানগরের ইস্পাহানি এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ ঘণ্টা এবং ঝাউতলা এলাকায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ কারণে চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশের অন্যতম প্রধান দ্বার-জাকির হোসেন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে লাখো মানুষ। ঘটে দুর্ঘটনাও। চউক’র কর্মকর্তারা জানান-নগরবাসীকে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে ঝাউতলা ও ইস্পাহানি রেলক্রসিংয়ের ওপর দুটি ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ওভারপাস হয়ে গেলে ট্রেন চলাচলের সময়েও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

চউক সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন সড়কের দুটি রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চউক। ঝাউতলা ও ইস্পাহানি রেলক্রসিংয়ের ওপর এসব ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এজন্য একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভে করা হয়েছে। তবে আরও বিশদভাবে সার্ভে করার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।

জানা গেছে, ঢাকা, কক্সবাজার, চাঁদপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৫৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন যাতায়াত করে। এরমধ্যে ইস্পাহানি রেলক্রসিং হয়ে ৩৩টি এবং ঝাউতলা রেলক্রসিং হয়ে ২৩টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের সময় ক্রসিংয়ের দুই পাশে প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নগরে যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, নগরে অসংখ্য রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় গাড়ি আটকে থাকে। ফলে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে যানজট লেগে যায়। চউক’র এ বোর্ড সদস্য আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রতিটি রেলক্রসিংয়ের ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়, তাহলে নগরের অভ্যন্তরে যানজট কমে আসবে। রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনাও কমবে।

অন্যাদিকে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের বক্তব্য আরো স্পষ্ট। তিনি বলেন, নগরের মধ্যে অনেক রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিংয়ের কারণে জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোর ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যানজট থেকে মুক্তি পাবে।

চউক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিকভাবে জাকির হোসেন সড়কের ঝাউতলা ও ইস্পাহানি এলাকার দুটি রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভেও করা হয়েছে। তবে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে- যেসব এলাকায় ওভারপাস না থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, তার প্রতিটিতে ওভারপাস নির্মাণ করা। আরও বিশদভাবে সার্ভে করার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ