আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাবাজারে জেলেপাড়ায় ভোর এল বিষাদের বার্তা নিয়ে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমার ছেলে পরীক্ষা দিতে স্কুলে গেছে। সে এখনও জানে না তার বাবা নেই। ছোট মেয়েটা শুধু বাবা, বাবা করছে। আমি তাদের কী জবাব দেব ! তুমি আমাকে কোথায় ফেলে গেলে ! সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেল মর্গে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুরের বাংলাবাজারে জেলেপাড়ার নিহত অজিত দাসের স্ত্রী টকি রাণী। সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার সিটি গেইটে সড়কে দাঁড়ানো একটি কাভার্ডভ্যানে সীতাকুণ্ড থেকে আসা পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপের পাঁচ যাত্রী নিহত ও চারজন আহত হন। এর মধ্যে অজিত দাসও রয়েছেন।

এর আগে গত রোববার ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা, যে পূজা চট্টগ্রামে খুবই সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুরের বাংলাবাজারে জেলেপাড়ায় পূজার উৎসবে মেতেছিল সবাই। কে জানতো, আনন্দ দিনের পরের ভোরটাই আসছে তাদের জন্য বিষাদের বার্তা নিয়ে!

দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- আকাশ দাস (২৬), অজিত দাস (২৪), রনি দাস (২৫), জুয়েল দাস (১৮) ও মো. সোহাগ (৩২)। এদের চারজনই বাংলাবাজার জেলেপাড়ার বাসিন্দা। সোহাগ পিকআপ ভ্যানের চালক। তার বাড়িও সীতাকুণ্ডে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের লাশ সামনে রেখে আহাজারি করছিলেন আকাশ দাসের মা। একটিবার ছেলেকে পাবার জন্য মায়ের আকুতিতে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত লোকজনও।

তার বন্ধু বিলাস দাস সাংবাদিকদের বলেন, আকাশ, অজিত, রনিসহ আমরা বন্ধুরা গতকাল সারাদিন মনসা পূজা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ভোরে শুনি, তাদের পিকআপ সিটি গেইটে অ্যাকসিডেন্ট করেছে। প্রথমে সিটি গেইট আসি। সেখান থেকে হাসপাতালে আসি। কী থেকে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না ! ১০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে গেল। রাতে আর ফিরল না। সকালে শুনলাম, আমার ছেলে আর নেই!
জুয়েল দাসের বাবা গোপন দাস উদভ্রান্তের মতো হাসপাতালে ছেলের লাশ খুঁজছিলেন। ছেলের নিথর মুখ দেখে বুক চাপড়ে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, মনসাপূজা নিয়ে জুয়েল সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে ছিল। সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরে রাতে আবার বের হচ্ছিল। আমি তাড়াতাড়ি ফিরতে বললাম। ১০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে গেল। রাতে আর ফিরল না। সকালে শুনলাম, আমার ছেলে আর নেই!
অজিত দাসের স্ত্রী টকি রাণীকে কোনোমতেই সামলানো যাচ্ছিল না। আহাজারি করতে করতে বারবার ছুটে গিয়ে মৃত স্বামীর বুকের ওপর পড়ছিলেন। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে নবম শ্রেণিতে এবং ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সবার ছোট মেয়ের বয়স মাত্র দুই বছর। বাবাকে চেনার আগেই পিতৃহীন হলো মেয়েটি।

নিহত রনি দাসের মা রাজবালা দাস জানান, ছেলের যখন দেড় বছর বয়স তখন তিনি স্বামীকে হারান। একমাত্র ছেলেকে অনেক কষ্টে বড় করেছেন। বিয়ে দিয়েছেন ছেলেকে। বৌ এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘ছেলেটাও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমি কারে নিয়ে বাঁচব, আমার বৌমা কীভাবে বাঁচবে! তার সন্তান এসে কারে বাবা ডাকবে ?
আকাশের বন্ধু বিলাস জানান, চট্টগ্রাম নগরীর ফিশারিঘাট থেকে মাছ কিনে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট বাজারে নিয়ে তারা বিক্রি করেন। প্রতিদিন ভোরে তারা ফিশারিঘাটে পৌঁছেন। সকালের মধ্যে পিকআপ ভ্যানে মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বাজারে পৌঁছে যান। বিলাস ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারায় তাকে রেখেই অন্যরা ফিশারিঘাটে যাচ্ছিলেন। পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আকবর শাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, পিকআপ ভ্যানে চালকসহ মোট ১০ জন ছিলেন। এর মধ্যে সামনে চালকসহ তিনজন বসেছিলেন। পেছনে ছিলেন আরও সাতজন।তিনি আরও বলেন, সড়কে দাঁড়ানো ছিল কাভার্ডভ্যান। পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ড ভ্যানের নিচে ঢুকে পড়ে। চালকসহ সামনে থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। এছাড়া, চিকিৎসাধীন আছেন চারজন।

ওসি আরও জানান, পিকআপ ভ্যানটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। কাভার্ডভ্যানের চালক-সহকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগে যানবাহনটির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রবাসীরা অকুতোভয় যোদ্ধার মতো পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থেই দেশের অর্ধেকের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো হয়।তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্যোগ ‘প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানি’ আয়োজন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এতে বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিজমা বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি খাত-গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী পরিবার ও সম্পত্তি–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এসব সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে প্রবাসীরা দূরে থেকেও আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাঁদের জানাতে চাই—তাঁরা দূরে নন, আমরা তাঁদের পাশেই আছি।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবিপ্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাঁদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এ সময় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের চট্টগ্রামস্থ সহকারী হাইকমিশনের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন আজ বুধবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডা. রাজীব রঞ্জনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় মেয়র বলেন, “বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। ভারতের এক একটি রাজ্য থেকে আরেকটি রাজ্যের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশকে ঐক্যবদ্ধ করে চলতে পারার কারণেই ভারত বিশ্বের বুকে একটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেকবার ভারতে গিয়েছি, এমনকি পড়াশোনার জন্যও গিয়েছি।তিনি আরও বলেন – বাংলাদেশের অনেক মানুষ ধর্মীয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। তাদের ভিসা প্রসেসিং সহজ হলে এবং ভিসা প্রদানের গতি বাড়লে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।”

বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগরী। কারণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা ও ফয়’স লেক এলাকা অত্যন্ত নয়নাভিরাম। চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় এবং নদীও অপূর্ব সুন্দর। পর্যটনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ