আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাবাজারে জেলেপাড়ায় ভোর এল বিষাদের বার্তা নিয়ে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমার ছেলে পরীক্ষা দিতে স্কুলে গেছে। সে এখনও জানে না তার বাবা নেই। ছোট মেয়েটা শুধু বাবা, বাবা করছে। আমি তাদের কী জবাব দেব ! তুমি আমাকে কোথায় ফেলে গেলে ! সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেল মর্গে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুরের বাংলাবাজারে জেলেপাড়ার নিহত অজিত দাসের স্ত্রী টকি রাণী। সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার সিটি গেইটে সড়কে দাঁড়ানো একটি কাভার্ডভ্যানে সীতাকুণ্ড থেকে আসা পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপের পাঁচ যাত্রী নিহত ও চারজন আহত হন। এর মধ্যে অজিত দাসও রয়েছেন।

এর আগে গত রোববার ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা, যে পূজা চট্টগ্রামে খুবই সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুরের বাংলাবাজারে জেলেপাড়ায় পূজার উৎসবে মেতেছিল সবাই। কে জানতো, আনন্দ দিনের পরের ভোরটাই আসছে তাদের জন্য বিষাদের বার্তা নিয়ে!

দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- আকাশ দাস (২৬), অজিত দাস (২৪), রনি দাস (২৫), জুয়েল দাস (১৮) ও মো. সোহাগ (৩২)। এদের চারজনই বাংলাবাজার জেলেপাড়ার বাসিন্দা। সোহাগ পিকআপ ভ্যানের চালক। তার বাড়িও সীতাকুণ্ডে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের লাশ সামনে রেখে আহাজারি করছিলেন আকাশ দাসের মা। একটিবার ছেলেকে পাবার জন্য মায়ের আকুতিতে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত লোকজনও।

তার বন্ধু বিলাস দাস সাংবাদিকদের বলেন, আকাশ, অজিত, রনিসহ আমরা বন্ধুরা গতকাল সারাদিন মনসা পূজা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ভোরে শুনি, তাদের পিকআপ সিটি গেইটে অ্যাকসিডেন্ট করেছে। প্রথমে সিটি গেইট আসি। সেখান থেকে হাসপাতালে আসি। কী থেকে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না ! ১০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে গেল। রাতে আর ফিরল না। সকালে শুনলাম, আমার ছেলে আর নেই!
জুয়েল দাসের বাবা গোপন দাস উদভ্রান্তের মতো হাসপাতালে ছেলের লাশ খুঁজছিলেন। ছেলের নিথর মুখ দেখে বুক চাপড়ে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, মনসাপূজা নিয়ে জুয়েল সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে ছিল। সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরে রাতে আবার বের হচ্ছিল। আমি তাড়াতাড়ি ফিরতে বললাম। ১০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে গেল। রাতে আর ফিরল না। সকালে শুনলাম, আমার ছেলে আর নেই!
অজিত দাসের স্ত্রী টকি রাণীকে কোনোমতেই সামলানো যাচ্ছিল না। আহাজারি করতে করতে বারবার ছুটে গিয়ে মৃত স্বামীর বুকের ওপর পড়ছিলেন। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে নবম শ্রেণিতে এবং ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সবার ছোট মেয়ের বয়স মাত্র দুই বছর। বাবাকে চেনার আগেই পিতৃহীন হলো মেয়েটি।

নিহত রনি দাসের মা রাজবালা দাস জানান, ছেলের যখন দেড় বছর বয়স তখন তিনি স্বামীকে হারান। একমাত্র ছেলেকে অনেক কষ্টে বড় করেছেন। বিয়ে দিয়েছেন ছেলেকে। বৌ এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘ছেলেটাও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমি কারে নিয়ে বাঁচব, আমার বৌমা কীভাবে বাঁচবে! তার সন্তান এসে কারে বাবা ডাকবে ?
আকাশের বন্ধু বিলাস জানান, চট্টগ্রাম নগরীর ফিশারিঘাট থেকে মাছ কিনে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট বাজারে নিয়ে তারা বিক্রি করেন। প্রতিদিন ভোরে তারা ফিশারিঘাটে পৌঁছেন। সকালের মধ্যে পিকআপ ভ্যানে মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বাজারে পৌঁছে যান। বিলাস ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারায় তাকে রেখেই অন্যরা ফিশারিঘাটে যাচ্ছিলেন। পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আকবর শাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, পিকআপ ভ্যানে চালকসহ মোট ১০ জন ছিলেন। এর মধ্যে সামনে চালকসহ তিনজন বসেছিলেন। পেছনে ছিলেন আরও সাতজন।তিনি আরও বলেন, সড়কে দাঁড়ানো ছিল কাভার্ডভ্যান। পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ড ভ্যানের নিচে ঢুকে পড়ে। চালকসহ সামনে থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। এছাড়া, চিকিৎসাধীন আছেন চারজন।

ওসি আরও জানান, পিকআপ ভ্যানটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। কাভার্ডভ্যানের চালক-সহকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগে যানবাহনটির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ