আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যাকে বিপুল জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়নি:সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা  মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট, এখানে তেমন কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। কিন্তু আমাদের একটি অনন্য সম্পদ আছে। সেটি হচ্ছে বিপুল জনসংখ্যা। এই বিপুল জনসংখ্যাকে অনেকে বোঝা বলেন, সেটি নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে হতে পারে। বিপুল জনসংখ্যাকে বিপুল জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়নি। আমরা যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম, সেটা আমরা পারিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষামূলক কর্মসূচি- ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘চাকরি মেলা ২০২৫ ও এসএসসি ফলাফল উদযাপন’ অনুষ্ঠানে সচিব এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাটে একটি কনভেনশন হলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশাল জনসংখ্যার মাঝে অনন্য সাধারণ সম্ভাবনা ও স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। তাদের যদি আমরা হাতে-কলমে, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি, তাহলে তারা আমাদের দেশের শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি-পশুপালন, সমুদ্র সম্পদের ব্যবহারসহ এ দেশের সার্বিক খাতে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। আবার এই বিশাল জনশক্তিকে বিদেশে রফতানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও উন্নত করতে পারব, যদি আমরা এই বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে চতুর্থ বিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, ইউসেপের প্রতিষ্ঠানগুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিভিন্ন ট্রেনিং কোর্স ইতোমধ্যে চালু করেছে। আমরা মনে করি, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কর্মের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং একইসঙ্গে চাকুরি বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা নিলে তরুণরা প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্বাবলম্বী হবে।

ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে ও উপ-ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক কাজী নাজিমুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) শরীফ উদ্দিন, ইউসেপ চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মাসুদ আলম বক্তব্য দেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউসেপ জানিয়েছে, ইউসেপ-বাংলাদেশে থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার লক্ষ্যে এ চাকরি মেলা আয়োজন করা হয়েছে।
দিনব্যাপী মেলায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, বিএসআরএম, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, কোর্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, পাহাড়তলী টেক্সটাইল, ট্রান্সকম বেভারেজ, ক্লিফটন গ্রুপ, এভারকেয়ার হসপিটাল, আল ইত্তেহাদ, কেওয়াই টু টন, ম্যাফ স্যুজ, এন মোহাম্মদ গ্রুপ, আরজেএন ফুটওয়্যার, উত্তরা অটোমোবাইলস, জেনেক্স ইনপোসিজসহ মোট ১৫ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

মেলার মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ৯৩ জন চাকরি পেয়ে নিয়োগপত্র নেন। ৬৭১ জন চাকরি প্রত্যাশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইউসেপ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালিত ৮টি টেকনিক্যাল স্কুলের জিপিএ-৫ পাওয়া ১৭৭ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং সেরা শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের আগে সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নগরীর মোহরায় এ কে খানইউসেপ টিভিইটি ইনস্টিটিউট ও এ কেখান ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সিভাসু’তে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ‘দ্গ্ধুজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সিভাসু’র পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিআরটিসি’র বোর্ড মিটিং কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধক মো. ইসমাইল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ঢাকার যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুব্রত কুমার সিকদার। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিভাসু’র সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দশ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা, লাবাং, বোরহানি, মাঠা ইত্যাদি তৈরির বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সিভাসু’র ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মো: সাইফুল বারী ও ডা. উম্মে সালমা আমিন,

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ, সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) প্রকৌ. মো: মাহফুজুর রহমান এবং ট্রেড গ্লোবাল লিমিটেড, ঢাকার সিনিয়র সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মো: শরিফ হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলের দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ