আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যাকে বিপুল জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়নি:সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা  মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট, এখানে তেমন কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। কিন্তু আমাদের একটি অনন্য সম্পদ আছে। সেটি হচ্ছে বিপুল জনসংখ্যা। এই বিপুল জনসংখ্যাকে অনেকে বোঝা বলেন, সেটি নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে হতে পারে। বিপুল জনসংখ্যাকে বিপুল জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়নি। আমরা যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম, সেটা আমরা পারিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষামূলক কর্মসূচি- ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘চাকরি মেলা ২০২৫ ও এসএসসি ফলাফল উদযাপন’ অনুষ্ঠানে সচিব এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাটে একটি কনভেনশন হলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশাল জনসংখ্যার মাঝে অনন্য সাধারণ সম্ভাবনা ও স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। তাদের যদি আমরা হাতে-কলমে, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি, তাহলে তারা আমাদের দেশের শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি-পশুপালন, সমুদ্র সম্পদের ব্যবহারসহ এ দেশের সার্বিক খাতে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। আবার এই বিশাল জনশক্তিকে বিদেশে রফতানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও উন্নত করতে পারব, যদি আমরা এই বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে চতুর্থ বিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, ইউসেপের প্রতিষ্ঠানগুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিভিন্ন ট্রেনিং কোর্স ইতোমধ্যে চালু করেছে। আমরা মনে করি, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কর্মের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং একইসঙ্গে চাকুরি বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা নিলে তরুণরা প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্বাবলম্বী হবে।

ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে ও উপ-ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক কাজী নাজিমুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) শরীফ উদ্দিন, ইউসেপ চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মাসুদ আলম বক্তব্য দেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউসেপ জানিয়েছে, ইউসেপ-বাংলাদেশে থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার লক্ষ্যে এ চাকরি মেলা আয়োজন করা হয়েছে।
দিনব্যাপী মেলায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, বিএসআরএম, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, কোর্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, পাহাড়তলী টেক্সটাইল, ট্রান্সকম বেভারেজ, ক্লিফটন গ্রুপ, এভারকেয়ার হসপিটাল, আল ইত্তেহাদ, কেওয়াই টু টন, ম্যাফ স্যুজ, এন মোহাম্মদ গ্রুপ, আরজেএন ফুটওয়্যার, উত্তরা অটোমোবাইলস, জেনেক্স ইনপোসিজসহ মোট ১৫ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

মেলার মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ৯৩ জন চাকরি পেয়ে নিয়োগপত্র নেন। ৬৭১ জন চাকরি প্রত্যাশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইউসেপ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালিত ৮টি টেকনিক্যাল স্কুলের জিপিএ-৫ পাওয়া ১৭৭ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং সেরা শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের আগে সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নগরীর মোহরায় এ কে খানইউসেপ টিভিইটি ইনস্টিটিউট ও এ কেখান ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ