আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

ভোলা জেলা: দ্বীপের রাণী

মোঃ মহিউদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেঘনা আর তেতুলিয়ার কোলে শুয়ে আছে ভোলা, যেন প্রকৃতির আঁচলে বাঁধা এক অনিন্দ্যসুন্দর রাণী। সবুজ শ্যামলে ভরা এ দ্বীপ যেন স্বপ্নের দোলা। সোনার মাটি, নদীর গীতিময় স্রোত আর ফসলি জমিতে দুলে ওঠা সোনালী ধান মিলে ভোলাকে বানিয়েছে প্রকৃতির এক মহিমান্বিত চিত্রপট।
ভোলার সকাল জাগে পাখির ডাকে। শিশিরভেজা হাওয়া যখন মাঠের বুক ছুঁয়ে যায়, তখন কৃষকের ঘামে ভিজে ওঠে শস্যশ্যামলা জমি। ধানের শীষে ঝরে পড়া সোনালি রোদ আর কৃষকের হাসি যেন একে অপরের পরিপূরক। মেঘনার ঢেউয়ে ইলিশের নৃত্য আর জেলেদের জালে স্বপ্ন ধরা—এই ভোলার নিজস্ব ঐশ্বর্য।

এ দ্বীপের আকাশে-বাতাসে মিশে আছে বক, মাছরাঙা, শালিক ও টিয়ার কিচিরমিচির। প্রকৃতির এমন সুরেলা কলতানে মন ভরে ওঠে মুগ্ধতায়। কাশবনের নরম দোলা, নদীর বুকে ভাটিয়ালি গানের সুর, আর নৌকার পাল মেলে বাতাসে ভেসে চলা—সবই ভোলার সৌন্দর্যের অনন্য উপাখ্যান।
ভোলা শুধু প্রাকৃতিক রূপে নয়, প্রাণের টানে রাণী। এখানে সমুদ্রের নোনা হাওয়া মাটির গন্ধে মিশে এক অদ্ভুত আবেশ ছড়ায়। কাঁকড়ার হাঁসি, ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, আর জেলেদের উচ্ছ্বসিত গান মিলে ভোলার সুরের মূর্ছনা তৈরি করে। জোছনার আলোয় নদীর বুকে ভেসে থাকা স্বপ্ন যেন হৃদয় জুড়ে এক অমলিন কবিতা হয়ে বাজে।

ভোলা জেলার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে রঙিন মায়া, নদীর আঁকাবাঁকা পথ ধরে ছুটে চলে জীবনের স্রোত। তাই তো একে দ্বীপের রাণী বলা হয়। এ রাণীর সৌন্দর্য শুধু চোখে ধরা পড়ে না, হৃদয়ের গভীরে চিরকাল বেজে চলে।যেথায় যাই, মন পড়ে থাকে এই নদী-নদীর দেশে, কাশবনের বাতাসে, ইলিশের নৃত্যে, কৃষকের সোনালি হাসিতে। ভোলা শুধু একটি জেলা নয়, সে এক স্বপ্ন, এক ভালোবাসা—এ যে আমাদের প্রিয় দ্বীপের রাণী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্মরণে বরণে  ভোলার বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

রিপন শান #

পলিমাটির জনপদ দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ মার্চ ২০২৬ । বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ১৯৪৪ সালের ২৭ এপ্রিল ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুল হাই, মাতা শামর্থ ভানু।

ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পারিবারিক সুত্র থেকে জানা যায় : তারুণ্যে পদার্পণ করেই তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। অকুতোভয় এ সাহসী সৈনিক তাঁর কর্মজীবনে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরমধ্যে, ২৯ বার হেলিকপ্টার হতে প্যারাসুট জাম্প ও দীর্ঘ দৌড়ে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন । কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তান, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, করাচি এবং দেশের বিভিন্নস্থানে দক্ষতা ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যশোর সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিদ্রোহ করেন এবং, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্সের অধীন যশোর অঞ্চলে তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ বিজয়ের শেষদিকে সাথী যোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় শত্রু পক্ষের অনেকেই ঘটনাস্থলে মারা যান। অতঃপর বহু প্রতিকুল পথ পেরিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনিই প্রথম ভোলা জেলার মুক্তিযোদ্ধা ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি কর্ণেল এমএজি ওসমানীর সান্নিধ্য পান।

বীরযোদ্ধা আব্দুর রউফের নিজ এলাকা কাচিয়া ইউনিয়নে তিনি ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। এ প্রসংগে বীরমুক্তিযোদ্ধার সাথী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান : “১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ সকাল ৮ টার সময় যশোর ক্যান্টম্যান্টের ১ম ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের ওপর তিনদিক থেকে পাকহানাদার বাহিনী (নাইন ভেলুস) হামলা চালায়। সেই যুদ্ধে নায়েক গাজী আব্দুর রউফ নিজের জীবনকে বিপন্ন জেনেও এমএমজি (মিডিয়াম মেশিন গান) দিয়ে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।এসময় পাকবাহিনীর অনেকে হতাহত হন। সেদিন, রউফ সাহেব এগিয়ে এসে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। ”

একজন রাষ্ট্রস্বীকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মু্ক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটের লাল মুক্তিবার্তায় ক্রমিক নং ০৬০৪০৬০০০৩৮/২০০১, বেসামরিক গেজেট ৩৩৫/১৭এপ্রিল২০০৫, সামরিক গেজেট সেনা ৩২১২ নথিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ ২০১৭ সালের ১২ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ভোলার নিজ বাড়ি০৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া ০৫ নং ওয়ার্ডে সেনাবাহিনীর গার্ড অব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মরহুমের প্রথম জানাজা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মসজিদ মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর জানাজায় যশোর ক্যান্টমেন্টের সেনাবাহিনীর একটি টিম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং স্থানীয় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আছিয়া বেগম, ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। তাঁর বড় পুত্র সাংবাদিক ও লেখক ডা. গাজী মো. তাহেরুল আলম লিটন, ছোট সন্তান গাজী মো. হাসান ও কন্যা রূপজান বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, গাজী মো. হোসেন অব. সেনা সৈনিক, গাজী মোক্তাদির ও গাজী মো. রানা সম্মানজনক পেশায় কর্মরত ।

দেশ ও জাতির কৃতি সন্তান এ বীরসেনানীর মৃত্যুতে নিজ এলাকার সামাজিক ও আদর্শিক উন্নয়নকর্মে তাঁর শুন্যতা আজীবন থাকবে। যতোদিন রবে মেঘনা তেতুলিয়া ইলিশা বঙ্গোপসার বহমান থাকবে; যতোদিন স্বাধীনতার লালসবুজ পতাকা পতপত করেউড়বে বাংলার আকাশে, ততোদিন দ্বীপজেলা ভোলার বীরসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজী আব্দুর রউফের নাম ও জীবনস্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে।

ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী তুহিন ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন-অগ্রসর পাঠকের দৈনিক অমৃতালোক এর সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব এম এ আহাদ চৌধুরী তুহিন ।গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : নদীমাতৃক গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কবি রিপন শান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক তরিকুল ইসলাম রণির সঞ্চালনায় ক্লাবের ১১ সদস্যবিশিষ্ট সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামj ও ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সিং এর মাধ্যমে : সর্বসম্মতিক্রমে অত্যন্ত সম্মানজনক এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক আহাদ চৌধুরী তুহিন । তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বীরমুক্তিযোদ্ধা , ইউরোবাংলাটাইমস এর এডিটর ইন চিফ মাহবুবুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন ।

রাজধানী ঢাকা ও দ্বীপজেলা ভোলা থেকে একযোগে প্রকাশিত মূলধারার দৈনিক অমৃতালোক সম্পাদনা ছাড়াও জনাব আহাদ চৌধুরী তুহিন ; দীর্ঘসময় ধরে দেশের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ইত্তেফাক এবং জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল- এটিএন বাংলার ভোলা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সুনাম ও সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ভোলা জেলার সংবাদজগতে নানামুখী সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকান্ডে জনপ্রিয় গণমাধ্যম সংগঠন ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হওয়ায় ; নন্দিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সিনিয়র সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী তুহিন কে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন- বিএনএনআরসির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এএইচএম বজলুর রহমান, সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন আল মামুন, দৈনিক দেশের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক কবি নাসির আহমেদ, ডেইলি স্টেট ও দৈনিক আলোর বার্তা সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল্লাহ সিকদার,

জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সভাপতি অধ্যক্ষ কবি কায়সার আহমেদ দুলাল , প্রজন্ম একাডেমির সভাপতি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক কালাম ফয়েজী , দৈনিক ভোরের দর্পণের সাহিত্য সম্পাদক কবি শাহ মতিন টিপু, পাক্ষিক সময় পূর্বাপর সম্পাদক কবি হাসান মাহমুদ, দৈনিক মহাসময় সম্পাদক কবি নোমান সালমান, দৈনিক বাংলা খবর ও ভোলার কণ্ঠ সম্পাদক কিরণ শর্মা, দৈনিক বাংলাদেশ বাণী সম্পাদক আযাদ আলাউদ্দিন প্রমুখ ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ