আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

চাকসু নির্বাচনে ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৭ জন, মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

জয়ে কোমর বেঁধে নামছে শিবির, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছাত্রদল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চাকসু ভবনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৬৩৭ জন ছাত্র-ছাত্রী। রোববার সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে চাকসু নির্বাচন কমিশন।

এদিকে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের সাফল্যে উজ্জীবিত ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে নামছে চাকসু জয়ের জন্য। ৪৫ বছর পর আরেকবার চাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে জয়ের আশা করছে সংগঠনটি। অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনে পরাজয় ও জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর চাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের মত হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

জানা গেছে, ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য হল সংসদের মনোনয়ন ফি রাখা হয়েছে ২০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩০০ টাকা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীরা ডোপ টেস্টের কার্ড পাবেন। পরে চবি মেডিক্যালে ৩৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে নমুনা দিতে হবে।

চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। ভোটগ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের সাফল্যে উজ্জীবিত ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামলেও নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের মত হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮টি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) ২৩টি পদে জয় পায় ছাত্রশিবির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কোনো নির্বাচনে বিশাল এ বিজয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে।

এর পর গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জাকসু) নির্বাচন হয়। দু’দিন পর ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) ১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টিতে জয় পেয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আগে কখনো কোনো নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেনি।

প্রথমবারের মতো এ সাফল্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মনোবল আরও অটুট করেছে, এমনটাই বলছেন সংগঠনটির নেতারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ডাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির বিশাল জয় পেয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরেও আমাদের অধিকাংশ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমাদের নেতাকর্মীরা উজ্জীবীত হচ্ছেন, খুবই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সভা বর্জন করে বেরিয়ে যান ছাত্রদলের নেতারা। এর পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
ফেসবুকের পোস্টে আব্দুল্লাহ আল নোমান লিখেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের অধীনে কতটুকু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। এই দলকানা প্রশাসনের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব কিনা তা এখন ভেবে দেখার বিষয়।
জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একপেশে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাদের দলকানা মনোভাব এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়েছে। আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে। আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো শুনতে হবে। অন্যথায় আমরা নির্বাচনে যাব কিনা, সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।
চাকসু নির্বাচন কমিশন নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ছাত্রশিবিরও। তবে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে জয়ের পর তাদের আপত্তি আর জোরালো অবস্থায় নেই বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছি। এর মধ্যে গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার কার্যক্রম জোরালো করেছি। আমাদের প্রার্থীদের রেডি করছি। তবে কৌশলগত কারণে আমরা কারও নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।
ডাকসু-জাকসু’র মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকসুতেও শিবিরের ওপর আস্থা রাখবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর থেকে গত একবছর ধরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব অনেক কার্যক্রম করেছি। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালে শিবির একবার চাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছিল। এবারও আমরা আরেকবার সেই বিজয় দেখব বলে আশাবাদী।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর মোট ছয়টি চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে চাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১ সালে এবং ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসুর নির্বাচন হয়। ১৯৮১ সালে ভিপি পদে জসীম উদ্দিন সরকার ও জিএস পদে আব্দুল গাফফারসহ ছাত্রশিবিরের পূর্ণ প্যানেল জয়ী হয়।

এরপর ১৯৯০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তৎকালীন জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা নাজিম উদ্দিন (ভিপি), আজিম উদ্দিন (জিএস) ও ছাত্রদলের মাহবুবের রহমান শামীম (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হলে চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত ৩৫ বছরে আর চাকসুতে নির্বাচন হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শেক্সপিয়ার স্মরণে নানা আয়োজন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইংরেজি সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার, সাহিত্যিক ও কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।

বিভাগীয় প্রধান আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজিস্ট্রার এএফএম মোদাচ্ছের আলী, কলা, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নাট্যাংশ, সংগীত এবং শেক্সপিয়ারের সাহিত্যকর্মভিত্তিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও তাঁর সাহিত্যকর্ম, নাট্যচর্চা এবং বিশ্বসাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্যচর্চা মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অন্যান্য বক্তারা বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য শুধু ইংরেজি সাহিত্যের সম্পদ নয়, বিশ্ব সভ্যতারও এক অমূল্য ঐতিহ্য।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই: সিভাসু উপাচার্য।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেছেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোন বিকল্প নেই। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গবেষণার একটি আদর্শ স্থান। সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম ব্লু-ইকোনমিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিভাসু অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি গবেষণা উপপ্রকল্পের ইনসেপশন সেমিনারে উপাচার্য প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। হিট (হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন) প্রকল্পের আওতায় সিভাসু’তে গবেষণা উপপ্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গবেষণা উপপ্রকল্পের এসপিএম (সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার) প্রফেসর ড. মো: আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভাসু’র পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) প্রফেসর ড. আবদুল আহাদ, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর মো: আ: হালিম এবং সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম।সেমিনারে উপপ্রকল্পের সামগ্রিক চিত্র তুলেন এসপিএম প্রফেসর ড. মো: আসাদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য এবং প্রকল্পের বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন এএসপিএম (অ্যাসিসটেন্ট সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান খাঁন। সেমিনারে উপপ্রকল্পের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। গবেষণা উপপ্রকল্পটির মেয়াদ তিন বছর।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ