আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর জুড়ে দেবী বন্দনার প্রস্তুতি : শেষ সময়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শরৎ ঋতু শুরুর পর থেকে মাঠের ধারে কিংবা নদীর তীরে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে দেবী পক্ষের। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্যে দিয়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা। নগর জুড়ে তাই শুরু হয়েছে দেবী বন্দনার প্রস্তুতি। এবার নগরের ১৬ থানায় ২৯৫টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। শৈল্পিক কারুকার্য আর রঙ তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় সেজে উঠছে অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিমাগুলো। আর তাঁর ছোঁয়া যেন লেগেছে সনাতনীদের মনেও। মৃৎ শিল্পীদের হাতে সেজে ওঠা এসব প্রতিমা দেখতে এখন থেকেই ভিড় লেগেছে। এনায়েত বাজার গোয়ালপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তুলির আঁচড়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন মৃৎশিল্পী বিশ্বজিত পাল। সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন প্রতিমা।এছাড়া নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে গেট, প্যান্ডেল এবং সাজসজ্জার কাজও। ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। রঙ আর তুলির আঁচড়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত প্রতিমা তৈরির কারিগররা। সদরঘাট, এনায়েতবাজার, আগ্রাবাদ, হাজারীলেন, রাজাপুর লেন, চকবাজার, কাট্টলীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে রয়েছেন প্রতিমা তৈরির এসব মৃৎশিল্পীরা।

মৃৎশিল্পী বিশ্বজিত পাল বলেন, আষাঢ় মাস থেকেই শুরু হয়েছে আমাদের প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। প্রথমে বাঁশ, কাঠ, খড়, সূতলি ও মাটি দিয়ে প্রতিমার আকার তৈরি করে শুকানোর জন্য কিছুদিন রেখে দেয়া হয়। মাটি শুকানোর পর শুরু হয় প্রতিমায় রঙের কাজ। বর্তমানে রঙের কাজ প্রায় শেষ। প্রতিমা সাজানো এবং অলঙ্কার স্থাপনের কাজ বাকি আছে।’ এবার তিনি ১৪টি মণ্ডপের জন্য প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১২টি কারখানায় এবং দুটি প্রতিমা পূজা মণ্ডপে তৈরি করা হয়েছে।কারখানায় তৈরি এসব প্রতিমা নেওয়া শুরু হবে মহালয়ের পরদিন থেকে ষষ্ঠীর আগ পর্যন্ত।

বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তৈরি করা এসব প্রতিমার বেশিরভাগ নিয়ে যাওয়া হবে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে। বাকি প্রতিমা চলে যাবে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, রাউজান, পটিয়া, কর্ণফুলী, বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপে।
মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জী বলেন, নগরের ১৬ থানায় এবার ২৯৫টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এরমধ্যে পূজা উদযাপনের প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি থানা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা হয়েছে।
এর আগে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ও মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মহানগর পূজা পরিষদ। এছাড়া আগামীকাল বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর সিএমপি কমিশনারের সাথে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় নগর পূজা পরিষদ। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১০ জুন ২০২৬খ্রি. বুধবার বাদ মাগরিব গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফ এর ব্যবস্থাপনায় ৫ দিন ব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল-২০২৬ উপলক্ষে ২য় প্রস্তুতি সভা কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল মাহফিল এর অতিথি ও বক্তা নির্ধারণ, অনুষ্ঠানের দাওয়াত ও প্রচার, সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে, বিবিধ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ছালেহ সুফিয়ান, কাজী হাবিবুল হোসাইন, মো.ফজলুল হক, মো. শওকত হোসাইন, মো. খোরশেদ আলম, মো.রুকুনুজ্জামান টুটুল, আবদুল মান্নান, মাওলানা মুজিবুল হক, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, এসএম জাবেদ হোসাইন, হারুনুর রশিদ, কাজী আশরাফ হোছাইন, মো. জিয়াউল হাসান সাইফ, মো. শাহীন মুরাদ রাজা, সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিব, মো. আকতার মিঞা সমন্বয়কারী, মোহাম্মদ আব্দুর রব, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিমন, দিদারুল আলম লোকমান, মো. মুজিবুর রহমান রাসেল, লায়ন ডা.বরুণ কুমার আচার্য বলাই, বাবু প্রবোধপাল, দেবরাজ পাল, সৈযদ আবু আহমদ, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. নুরমিয়া, মো. রানা সরকার, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মো. কামাল উদ্দীন, মো. শাহজাহান মনজু, মো. ইদ্রিস আলী, মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, মু. আমান উল্লা খান চৌধুরী লিটন প্রমূখ।

চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের নামাজ আদায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি। আজ বৃহস্পতিবার ২৮ মে সকাল ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। নামাজ শেষে তিনি ঈদের খুতবা প্রদান করেন এবং কোরবানির তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা ও মাংস বণ্টনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান তুলে ধরেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন।একই স্থানে সকাল ৮টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি দেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ