আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অর্থপাচারের এজেন্ট’ আরামিটের দুই কর্মকর্তা, জবানবন্দিতে স্বীকার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারে এজেন্ট হিসেবে কাজ করা উৎপল পাল ও দেশের সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আবদুল আজিজ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা সাবেক এই মন্ত্রীর অবৈধ সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন।
আব্দুল আজিজ আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড এজিএম এবং উৎপল পাল আরামিট গ্রুপের এজিএম (ফিন্যান্স)। এই দুই প্রতিষ্ঠানই সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের পারিবারিক মালিকানাধীন।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি এড. মোকাররম হোসাইন বলেন, ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় দুদকের মামলায় রিমান্ডে থাকা উৎপল পাল ও মো. আবদুল আজিজ আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা শুধু আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাই ছিলেন না, জাবেদ এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবেও তারা কাজ করতেন। সাবেক এই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশও দেখাশোনা করতেন। দেশে যে জাবেদের অবৈধ সম্পদ ছিলো, সেগুলোর দেখাশোনাও তারাই করতেন। তারা এসব জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন।

গত ২৪ জুলাই ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগে জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার তথ্যানুযায়ী, সেই ঋণ নিতে গিয়েও জাবেদ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে নেওয়া হয় ঋণ। সেই ঋণ আরও কয়েকটি নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এর পর সেই টাকা পাচার করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

ওই মামলা তদন্তে নেমে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আরামিট গ্রুপের দুই সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আব্দুল আজিজ ও উৎপল পালকে নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদকের টিম। এরপর তাদের আদালতের নির্দেশে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক বলছে, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশের সম্পদ অর্জন ও দেখাশোনার দায়িত্ব ছিলেন উৎপল পাল। তিনি দেশ থেকে দুবাই ও দুবাই থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে জাবেদের পরিবারের অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড। অন্যদিকে আব্দুল আজিজ জাবেদের সম্পদ কেনা-বেচা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহমানের আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করে দুদক। পরে ২১ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার সিকদার বাড়ি থেকে সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিদেশে থাকা সম্পদের দলিল, ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ২৩ বস্তা নথিপত্র জব্দ করে দুদক। বাড়িটি জাবেদের স্ত্রী ইউসিবিএল’র সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামানের গাড়িচালক মো. ইলিয়াছের।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান নথিপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর জানিয়েছেন, তারা কিছু সম্পদের নাম পেয়েছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তিনটি, মালয়েশিয়ায় দুইটি, থাইল্যান্ডে চার-পাঁচটি সম্পদ আছে জাবেদের। এভাবে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায়ও কিছু কিছু সম্পদ তার নামে রয়েছে। এর আগে, যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি এবং আমেরিকায় ১০টি সম্পদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিলো। এছাড়া দুবাইতে ২২৮টি সহ সব মিলিয়ে কমপক্ষে নয়টি দেশে এ পর্যন্ত তার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

পরে লন্ডনে তার অবস্থানের তথ্য প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুদক তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে। এর পর জাবেদের নিজ মালিকানাধীন ব্যাংক ইউসিবিএল থেকে লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার ও বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ার একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় জেলার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুরো চট্টগ্রাম জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ১১৫ জন জুডিশিয়াল ও অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে এবং তারা সার্বক্ষণিক টহল ও মুভমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ জব্দ করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের লক্ষ্য কেবল ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি ভোটার যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন-সেই নিশ্চয়তা প্রদানই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।

সীতাকুণ্ড ও রাউজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ প্রতিটি উপজেলা বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং কোনো ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে নির্বাচনের পরিবেশ স্বস্তিকর।

চট্টগ্রাম জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন।নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭০ জন। এসব ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন জেলার মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ৮ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালীতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী ) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।


নিবার্চন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালীতে ৮২ টি কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ জন। এছাড়া বোয়ালখালী উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ভোট গ্রহণের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে ইতোমধ্যে প্রিজাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে।নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ