আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

অর্থপাচারের এজেন্ট’ আরামিটের দুই কর্মকর্তা, জবানবন্দিতে স্বীকার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারে এজেন্ট হিসেবে কাজ করা উৎপল পাল ও দেশের সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আবদুল আজিজ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা সাবেক এই মন্ত্রীর অবৈধ সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন।
আব্দুল আজিজ আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড এজিএম এবং উৎপল পাল আরামিট গ্রুপের এজিএম (ফিন্যান্স)। এই দুই প্রতিষ্ঠানই সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের পারিবারিক মালিকানাধীন।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি এড. মোকাররম হোসাইন বলেন, ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় দুদকের মামলায় রিমান্ডে থাকা উৎপল পাল ও মো. আবদুল আজিজ আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা শুধু আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাই ছিলেন না, জাবেদ এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবেও তারা কাজ করতেন। সাবেক এই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশও দেখাশোনা করতেন। দেশে যে জাবেদের অবৈধ সম্পদ ছিলো, সেগুলোর দেখাশোনাও তারাই করতেন। তারা এসব জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন।

গত ২৪ জুলাই ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগে জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার তথ্যানুযায়ী, সেই ঋণ নিতে গিয়েও জাবেদ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে নেওয়া হয় ঋণ। সেই ঋণ আরও কয়েকটি নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এর পর সেই টাকা পাচার করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

ওই মামলা তদন্তে নেমে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আরামিট গ্রুপের দুই সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আব্দুল আজিজ ও উৎপল পালকে নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদকের টিম। এরপর তাদের আদালতের নির্দেশে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক বলছে, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশের সম্পদ অর্জন ও দেখাশোনার দায়িত্ব ছিলেন উৎপল পাল। তিনি দেশ থেকে দুবাই ও দুবাই থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে জাবেদের পরিবারের অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড। অন্যদিকে আব্দুল আজিজ জাবেদের সম্পদ কেনা-বেচা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহমানের আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করে দুদক। পরে ২১ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার সিকদার বাড়ি থেকে সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিদেশে থাকা সম্পদের দলিল, ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ২৩ বস্তা নথিপত্র জব্দ করে দুদক। বাড়িটি জাবেদের স্ত্রী ইউসিবিএল’র সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামানের গাড়িচালক মো. ইলিয়াছের।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান নথিপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর জানিয়েছেন, তারা কিছু সম্পদের নাম পেয়েছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তিনটি, মালয়েশিয়ায় দুইটি, থাইল্যান্ডে চার-পাঁচটি সম্পদ আছে জাবেদের। এভাবে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায়ও কিছু কিছু সম্পদ তার নামে রয়েছে। এর আগে, যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি এবং আমেরিকায় ১০টি সম্পদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিলো। এছাড়া দুবাইতে ২২৮টি সহ সব মিলিয়ে কমপক্ষে নয়টি দেশে এ পর্যন্ত তার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

পরে লন্ডনে তার অবস্থানের তথ্য প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুদক তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে। এর পর জাবেদের নিজ মালিকানাধীন ব্যাংক ইউসিবিএল থেকে লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার ও বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ার একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এনসিটি ইজারা বন্ধের দাবি চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার অপারেশনাল কার্যক্রম,রোববার প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ’র পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সারাদেশ নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যে আছে৷ এর ফাঁকে সরকার চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সবচেয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমরা এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে।আমরা মনে করি এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া চরম আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব চরমভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে।

কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেছি। আগামী শনিবার ৮ ঘণ্টা বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপরও সরকার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার অপারেশনাল কার্যক্রম,রোববার প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ’র পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সারাদেশ নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যে আছে৷ এর ফাঁকে সরকার চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সবচেয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমরা এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে।আমরা মনে করি এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া চরম আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব চরমভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে।

কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেছি। আগামী শনিবার ৮ ঘণ্টা বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপরও সরকার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আলোচিত খবর

কোস্ট গার্ডের সাড়ে তিন হাজার সদস্য উপকূলীয় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকবে : মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, কোস্ট গার্ড উপকূলবাসীর কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্দ্বীপের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে বশিরিয়া আহমদিয়া আবু বকর সিদ্দিক ফাজিল মাদরাসা মাঠে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।পাশাপাশি জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কোস্ট গার্ড উপকূলবাসীর কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষভাবে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৮ দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সদস্যের ১০০টি প্লাটুন উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে।

এই প্লাটুনগুলো স্থলভাগ ও জলভাগে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত টহল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি উৎসব মুখর ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অন্তর্বতীকালীন সরকার একই দিনে গণভোটের আয়োজন করেছে। আমরা আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সব বয়স ও শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষদের নিকট গণভোটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর ব্যবস্থা করছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা দমনে সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।নির্বাচনকালীন অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ