আজঃ বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ পরীক্ষা বর্জনের ডাক কর্মকর্তাদের।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্তৃপক্ষের ছাঁটাইয়ের ফাঁদ এড়াতে ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের হাজারো কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে পরীক্ষার জন্য মনোনীত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো কর্মকর্তা। আগামীকাল শনিবার এ পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সেই সমাবেশ থেকে তারা প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীককে স্মারকলিপি দেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, দেশের বেসরকারি আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম গ্রুপ, যেটি আগে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপ ধীরে ধীরে ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করে ও তাদের নিজস্ব লোক হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দারা ব্যাপক সংখ্যক নিয়োগ পান। এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম পটিয়ায় হওয়ায় ওই এলাকার লোকজনকে নিয়োগে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ইসলামী ব্যাংককে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে।

নতুন পর্ষদ আসার পর সম্প্রতি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তার বিশেষ সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে সিনিয়র অফিসার, অফিসার, অফিসার (ক্যাশ), জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ), অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদের কর্মকর্তারা আছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে নোটিশ জারি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা ড. এম কামাল উদ্দিন জাসিমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষা শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার জন্য মনোনীতদের অভিযোগ, ব্যাংকে ওই পদগুলোতে প্রায় ৮০০০ হাজারের মতো কর্মকর্তা থাকলেও কেবল ২০১৭ সালের পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের পরীক্ষা জন্য সার্কুলার দেওয়া হয়েছে।এই পরীক্ষার আড়ালে ব্যাংকটিতে কর্মরত চট্টগ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠেছে।

এ অবস্থায় পরীক্ষা বর্জনের ডাক শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংকটির শাখাগুলোতে কর্মরত চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। এসময় পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল ‘শ্রম দিলাম, ঘাম দিলাম, আবার কেনো দেবে টান’, ‘পরীক্ষা দেব তখনই, সবাই বসবে যখনই’, ‘কর্মস্থলে সুখ মানে শুধু বেতন না, বরং সম্মান, ভারসাম্য ও স্বীকৃতি’, ‘একবার দিলাম পরীক্ষা, দুইবার দিতে রাজি না’, ‘সিএইচআরও জানেন নাকি, স্বৈরাচারের দোসর আপনি’, ‘হাইকোর্ট অবমাননা কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’-সহ নানা লেখা ব্যানার-ফেস্টুন। সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইস্কান্দার সুজন, এস এম এমদাদ হোসাইন, মোহাম্মদ ইকবাল, দিলরুবা আক্তার, শারমিন আক্তার ও নাসরিন জান্নাত প্রমুখ।

এসময় পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বক্তারা বলেন, আমরা সরকারি সকল নিয়ম মেনে ব্যাংকে যোগদান করেছি। যোগদানের পর ব্যাংকের পদোন্নতিসহ নানা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। সেজন্য চাকরি থেকে ছাঁটাই করার এই প্রহসন ও বৈষম্যমূলক পরীক্ষা আমরা দেব না। সারা বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা এই পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা। তারা বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। সরকার যদি আমাদের দাবির বিষয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আমাদেরও কঠিন আন্দোলনের পথে হাঁটতে হবে। চট্টগ্রাম দেশের ব্যবসার চালিকাশক্তি। সারা বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি অচল করে দিতে আমাদের দুই মিনিটও সময় লাগবে না।

নতুন বাংলাদেশে কোনো প্রহসন-বৈষম্য চলবে না উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় বীর চট্টলার কৃতী সন্তান। চট্টগ্রামের এই সন্তানদের আকুতি আপনাকে শুনতে হবে। আপনি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশাবাদী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ হুবহু সুপারিশে একমত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’ হুবহু বিল আকারে সংসদের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই বাছাইয়ে সংসদের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিটি।

বিশেষ কমিটির সভাপতি বরিশাল ৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুবউদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, বিরোধী দল জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জিএম নজরুল ইসলাম।

পূর্বধলায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আশিক মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট ইলাশপুর এলাকায় দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক মিয়া ছোট ইলাশপুর গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আশিক মিয়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুর্গাপুরগামী একটি অজ্ঞাতনামা প্রাইভেট কার তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে আশিক মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি পালিয়ে গেছে। ঘাতক প্রাইভেটকারটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ