আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

দারুননাজাতের তরুণ শিক্ষাবিদের আল-আজহারে প্রথম স্থান অর্জন।

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের আকাশে সাফল্যের যে নক্ষত্রেরা ঝলমল করে, তাঁদের কাতারে যুক্ত হলো আরেক উজ্জ্বল নাম—মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীন আজহারী। মেধা, শ্রম ও অদম্য স্বপ্নের সমন্বয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কায়রোর প্রাচীনতম ও বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস বিভাগ থেকে পিএইচডি তামহীদিতে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি শুধু নিজেকে নয়, সমগ্র জাতিকে করেছেন গর্বিত।

শিহাব উদ্দীনের শিক্ষাযাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে, যেখানে শৈশব থেকেই তিনি মেধা ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০১২ সালের দাখিল ও ২০১৪ সালের আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন তিনি। পরে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাযিল এবং বাংলাদেশ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কামিল সম্পন্ন করে ইসলামী জ্ঞানের ভাণ্ডারে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁর সাফল্যের পদচিহ্ন, প্রতিটি স্তরে ছিল বিশ্বমঞ্চে নিজেকে গড়ে তোলার প্রস্তুতি।

২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত স্কলারশিপ নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাষা শিক্ষা কোর্স শেষে ২০১৭ সালে তিনি ভর্তি হন উসুলুদ্দীন অনুষদে। শুরু হয় দীর্ঘ সাধনা আর কঠোর পরিশ্রমের অধ্যায়। ২০২১ সালে সফলভাবে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর ২০২১/২২ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৮৩ শতাংশ নম্বর অর্জন করেন, যা এ প্লাসের সমতুল্য। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁর এমফিল থিসিস সম্পন্ন করে তিনি পান সর্বোচ্চ গ্রেড মুমতাজ বা এক্সেলেন্ট। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালে তাঁর অধ্যবসায়ের শীর্ষ ফসল মিলল—৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ফলাফলে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগে পিএইচডি তামহীদির ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি ৮৫.২২ শতাংশ নম্বর (A+) পেয়ে ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

শিহাব উদ্দীনের কৃতিত্ব কেবল পাঠ্যপুস্তক ও পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্যও হয়ে উঠেছেন এক নির্ভরতার ঠিকানা। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা হিসেবে টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতা দিয়ে একটি প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়া যায়। তাঁর দিকনির্দেশনায় সংগঠনটি হয়ে উঠেছে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও আত্মপ্রত্যয়ের উজ্জ্বল প্রতীক।

এছাড়া ২০২০ সালের জুন মাসে তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় মারকায সওতুল ইসলাম, যা আজ বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টা ও অদম্য সাধনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৭ জন শিক্ষার্থী আল-আজহার, মদিনা, কিং আব্দুল আজিজ, তাবুক, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ, আল-কাসিমিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও ইরাকের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আল-মদিনা অ্যাপ্লিকেশনস-এর মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানও তিনি গড়ে তুলেছেন, যা দিন দিন হয়ে উঠছে আগ্রহী তরুণদের আশার আলো।

মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীনের এই সাফল্য নিছক ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক বিরল গৌরব। তিনি প্রমাণ করেছেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে একজন তরুণ শুধু বিশ্বমানের শিক্ষাঙ্গনে আলো ছড়াতে পারে না, বরং প্রজন্মের জন্য প্রেরণার আলোকবর্তিকাও হয়ে উঠতে পারে। তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের নামকে যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল করেছে, তেমনি নতুন প্রজন্মকে দেখিয়েছে স্বপ্ন দেখার নতুন দিগন্ত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ -২০২৬ শুভ সূচনায় মেক্সিকোর চমক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তিনটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। পঞ্চাশ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে ১০ জনের দলে নেমে যায় সফরকারীরা।এরপর ছেষট্টি মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। এক গোল পেছনে পড়ে এবং একজন কম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুরাশি মিনিটে আরও একবার লাল কার্ড দেখে বিপদ বাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন থেম্বা জেওয়ানে। যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস, ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা যায়।শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ