আজঃ শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬

লালন স্মরণোৎসবে সাংবাদিকের উপর মাদক ব‌্যবসায়ী‌দের হামলা

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লালন স্মরণোৎস‌বের অনুষ্ঠান মঞ্চের পাশের দৃশ‌্য ক্যামেরায় ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা পোস্টের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি রাজু আহমেদ। মঙ্গলবার(১৪ অ‌ক্টে‌াবর) বেলা একটার দিকে কু‌ষ্টিয়ার কুমারখালী উপ‌জেলার ছেঁউরিয়া লালন আখড়াবা‌ড়ির অনুষ্ঠান প‌্যা‌ন্ডে‌লের পা‌শে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হ‌য়ে সাংবা‌দিক রাজু আহ‌মেদ‌ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চি‌কিৎসা নি‌য়ে‌ছেন।

তার দা‌বি মাদক ব‌্যবসায়ীরা প‌রিক‌ল্পিতভা‌বে এই হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছে। প্রত্যক্ষদর্শী স্টার নিউজের কু‌ষ্টিয়া প্রতি‌নি‌ধি জহুরুল ইসলাম জানান, দুপুরে খবরের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে লালন আখড়া বাড়িতে যান রাজু আহমেদ। এ সময় মরা কালী গঙ্গা নদীর পাড়ে লালনের অনুষ্ঠানের মুক্ত মঞ্চের পাশে কিছু মানুষকে গাঁজা সেবন করছিলেন। সেই সময় রাজু তার মু‌ঠো‌ফোনে ভিডিও ধারণ কর‌ছিল। গাঁজা সেবনকারীরা বিষয়টি টের পেয়ে রাজুর উপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় রাজু দৌড়ে পালিয়ে আসেন।

পরে তিনজন রাজুর পিছু নেন। সংবাদকর্মী রাজু দৌড়ে প্যান্ডেলের পাশে আসলে দুজন যুবক তার ওপর হামলা চালায়। তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় সেখানে থাকা অন্য সংবাদকর্মীরা প্রতিরোধ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। আহত সাংবা‌দিক রাজু আহ‌মেদ ব‌লেন, লালন স্মরণোৎসবের প্রস্তু‌তির সংবাদ সংগ্রহ কর‌তে আখড়াবা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে‌ছিলাম। এ সময় মূল মঞ্চ থে‌কে প‌্যা‌ন্ডে‌লের ছ‌বি ও ভি‌ডিও ধারণ কর‌ছিলাম। হঠাৎ ক‌রেই ক‌য়েকজন আমার উপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা সবাই মাদক‌ব‌্যবসায়ী ছিল। হামলায় কানে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে‌ছি। ‌জেনা‌রেল হাসপাতাল থে‌কে প্রাথ‌মিক চি‌কিৎসা নি‌য়ে‌ছি। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিও করেছেন।

কুমারখালী থানার ভা‌রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) খন্দকার জিয়াউর রহমান জানান,বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের তৎপরতা শুরু করেছে। শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আগামী ১৭,১৮ ও ১৯ অ‌ক্টোবর কু‌ষ্টিয়ার লালন আখড়াবা‌ড়ি‌তে শুরু হ‌তে যা‌চ্ছে তিন‌দিন ব‌্যাপী লালন স্ম‌রণোৎসবের অনুষ্ঠান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শহীদ জামালের মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আর্র্থিক সহায়তা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত নিহত শহীদ জামালের মেয়ে তানিয়া আক্তার রুমির বিয়ের খরচ ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের নেতৃত্বে শহীদ জামালের পরিবারকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিশেষ এই উপহার তুলে দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ সময় শহীদ জামালের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন।পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জপেল চাকমার হাতেও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন। একই সঙ্গে তাঁর পড়াশুনার জন্য মাসিক শিক্ষাবৃত্তি প্রদানেরও ঘোষণা দেন।এছাড়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্জিয়া আক্তার মাইশাকেও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

মানবিক এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল কাশেম, সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন ও সদস্য মাসুদ রানা লিটন প্রমুখ।

নেত্রকোনা সদর ও উপজেলাগুলোতে স্বাধীনতা দিবস পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বৈষম্যমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ আটপাড়া, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও পূর্বধলা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। ৩১ বার তোপধ্বনি, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং নানা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

নেত্রকোনা সদর: প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে নেত্রকোনা সদরে দিবসের সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কালেক্টরেট ভবন প্রাঙ্গণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্ট) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু এবং পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সরদার।

এছাড়া বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৮টায় আধুনিক স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় পাবলিক হলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

আটপাড়া: নানা আয়োজনে নেত্রকোনার আটপাড়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়েছে। সকালে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মরণ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মরহুম মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এসকল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহনূর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল শারমিন দৃষ্টি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুম চৌধুরী, উপজেলা প্রকৌশলী আল মুতাসিম বিল্লাহ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এম এ মোমিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক, সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন আহমেদ, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জুবায়দুল আলম এবং সাংবাদিক হাবিবুল ইসলাম প্রমুখ।

মোহনগঞ্জ ও বারহাট্টা: মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ আলী উসমান শিশু পার্কে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা একাদশের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

একইভাবে বারহাট্টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. জিনিয়া জামানের সভাপতিত্বে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ এবং বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর: কলমাকান্দায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, উপজেলায় তালিকাভুক্ত ৪১৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে বর্তমানে ১৭৫ জন জীবিত রয়েছেন।

দুর্গাপুরে সুসঙ্গ সরকারি কলেজ মাঠে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ইউএনও আফরোজা আফসানা’র সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। বিকেলে হা-ডু-ডু খেলা এবং সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি ও বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্বধলা: জে.এম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউএনও তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে দিবসের মূল অনুষ্ঠান পালিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা।

দিনভর রাজনৈতিক দলগুলোর পৃথক কর্মসূচি লক্ষ্য করা গেছে। বেলা ১১টায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবার জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে একটি র ্যালি ও সংকিপ্ত আলোচনা সভা এবং দুপুর ১টায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ ইমরানের নেতৃত্বে পৃথক র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়াও বাকি উপজেলাগুলোতে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ