আজঃ বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬

প্রার্থী- ৯০৮, ভোটার ২৫ হাজার ৫২১

সাড়ে তিন দশক পর চাকসু নির্বাচন নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কঠোর নিরাপত্তায় বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন। সাড়ে তিন দশক পর এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার কেন্দ্রে কেন্দ্র সরঞ্জাম পাঠিয়ে দিয়েছে চাকসু নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের টহল চলছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়। বেলা ১২টার মধ্যে সব কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পৌঁছানো হয় বলে জানান চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। এর আগে ১৯৭০ সালে চাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১ সালে এবং ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসুর নির্বাচন হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে চাকসু ভবনের সামনে পিকআপ গাড়িতে করে ব্যালট বাক্স আনা হয়। সেখান থেকে পাঁচটি অনুষদ ভবন যথাক্রমে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ ও প্রকৌশল অনুষদে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়।

এই পাঁচ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। এসব অনুষদের ৬০টি কক্ষে প্রায় ৭০০ বুথে ভোটগ্রহণ হবে।এছাড়া দৃষ্টিহীনদের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ কেন্দ্রে শুধু দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা দুই নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে ভোট দেবেন।

জানতে চাইলে চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে। বুধবার ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সকালে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।

প্রতিটি কেদ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ব্যলট বাক্স।নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ওএমআর ব্যালট শিটে শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন। চাকসুতে থাকছে চার পৃষ্ঠার এবং হল ও হোস্টেল সংসদের থাকছে এক পৃষ্ঠার ব্যালট।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৫২১ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ১৬ হাজার ৮৪ জন ও ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩২৯ জন।

চাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ১৩ টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র থেকে মোট ৯০৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬টি পদে ৪১৫ জন এবং হল সংসদে ১৪টি পদে ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভিপি পদে ২৪ জন, জিএস পদে ২২ জন এবং এজিএস পদে ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজারখানেক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দলও ক্যাম্পাসে টহল দিচ্ছে। ভোটের দিন বিজিবি, এপিবিএনও থাকবে। এছাড়া প্রত্যেক অনুষদ ভবনে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাসে পুলিশ-র‌্যাব মিলিয়ে এক হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন আছে। র‌্যাবের ৮টি টিম আমরা রেখেছি, তারা টহল দিচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর, স্বাভাবিক আছে। আশা করি, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ হুবহু সুপারিশে একমত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’ হুবহু বিল আকারে সংসদের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই বাছাইয়ে সংসদের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিটি।

বিশেষ কমিটির সভাপতি বরিশাল ৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুবউদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, বিরোধী দল জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জিএম নজরুল ইসলাম।

পূর্বধলায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আশিক মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট ইলাশপুর এলাকায় দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক মিয়া ছোট ইলাশপুর গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আশিক মিয়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুর্গাপুরগামী একটি অজ্ঞাতনামা প্রাইভেট কার তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে আশিক মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি পালিয়ে গেছে। ঘাতক প্রাইভেটকারটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ