আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

বিতার্কিকরা সবসময় এগিয়ে থাকবে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিতার্কিকরা সবসময় এগিয়ে আছে, এগিয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের বিতার্কিকরা সবসময় এগিয়ে আছে, এগিয়ে থাকবে। কারণ চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে এমন একটি বিপ্লবী চেতনা কাজ করে, যা তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ‘রবি-দৃষ্টি চট্টগ্রাম বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্ভাবনাময় আগামির প্রত্যয়ে আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের ৩২টি স্কুল ও সারাদেশের ১৬টি কলেজের শতাধিক বিতার্কিক অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সংগীত ও চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

চট্টগ্রামকে একটি প্রাকৃতিক শহর উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এখানে নদী আছে, সাগর আছে, পাহাড় আছে। এ শহরের মানুষ স্বাধীনচেতা। এ শহরকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেইফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নগরবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। ১ থেকে ১৫ বছর বয়সী সন্তানদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দিচ্ছি।

নারীদের ক্যান্সার সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করেছি। অক্টোবর মাসকে ‘পিংক মাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছি।জানুয়ারিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের স্কুল-কলেজ নিয়ে ‘মেয়র গোল্ডকাপ বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের ঘোষণা দেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, বাঙালি আর কিছু করতে পারুক বা না পারুক, বিতর্ক করতে পারে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে প্রথম হতে পারিনি। ক্রিকেটে, ফুটবলে সেরা হতে পারিনি। কিন্তু এক জায়গায় আমরা সেরা হতে পেরেছি, আর তা হলো বিতর্ক। এই সফলতার পেছনে কাজ করছে দৃষ্টি চট্টগ্রাম। গত ৩২ বছর ধরে মেধা ও মননে যুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম গড়তে কাজ করছে দৃষ্টি। তোমরাই আগামির ভবিষ্যৎ, তোমরাই নেতৃত্ব দেবে, তোমরাই আগামির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশ বিতর্কে ইতোমধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডা. তুষার আরও বলেন, জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা সমান্তরাল রেখার মতো। যে যত বেশি ব্যর্থ হয়েছে, সে জীবনে তত বড় সফল হয়েছে। আমাদের প্রতিটি কাজের মধ্যেই দুঃখ-বেদনা থাকে, আর সেগুলো কাটিয়েই মানুষ সফলতার উচ্চতায় পৌঁছে। অন্যের কষ্টে বেদনা অনুভব করো, নিজের বেদনায় কাতর হইও না। আমরা যদি এভাবে বাংলাদেশ গড়তে পারি, তবে সত্যিকারের বাংলাদেশ তৈরি করতে পারব, সমাজও বদলাবে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও সাসটেইনেবিলিটি শরিফ শাহ জামাল রাজ বলেন, রবি-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণ প্রজন্ম শেখে চিন্তা করা, যুক্তি গঠন করা ও ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা। রবি বিশ্বাস করে, প্রকৃত চিন্তা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নাগরিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। আগামি দিনের সত্যিকার নেতা তৈরি করতেই রবি সবসময় পাশে থাকবে। যুক্তি, বুদ্ধি ও চিন্তাধারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

দৃষ্টির প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল বলেন, বিতর্ক করা মানে নিজেকে সমৃদ্ধ করা। যুক্তি ও মননচর্চার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া যায়। মেধা ও মননে উন্নতির বড় ভূমিকা রাখে বিতর্ক।

দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি সাবের শাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজীদুর রহমান ও শিক্ষাবিদ বৃজেট ডায়েস।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সাংগঠনিক বিতর্কের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। আগামি বছর ৩১তম বিতর্ক প্রতিযোগিতা সারাদেশব্যাপী আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ
আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে স্বাক্ষর নকল ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার দায়ে নজরুল ইসলাম একজনকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খানের আদালত এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নজরুল ইসলাম পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি মোকাররম হোসাইন। তিনি বলেন, রায়ের সময় আসামি পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও মো. শাহাজাহান ডবলমুরিং এলাকার মেসার্স নবী এন্ড সন্সের কর্মচারী ছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। ২০০৭ সালের ৩ জুন দুপুর ২টার দিকে নগরীর সদরঘাট এলাকার স্ট্যান্ড রোডের জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে তারা দুই কর্মচারী মিলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বড় ভাই মো. সেলিমের স্বাক্ষর জাল করে ৬টি চেক জনতা ব্যাংকে জমা দেয় টাকা উত্তোলনের জন্য। পরে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা টাকা দিতে নিষেধ করেন। পরদিন অর্থাৎ ওই বছরের ৫ জুন চেকগুলোর মাধ্যমে টাকা প্রদান না করার জন্য ব্যাংক বরাবর লিখিত আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু সাদাত মোহাম্মদ শামীম। পরে ওই বছরের ১৮ জুলাই তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ২ নম্বর আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় শাহাজাহানকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই মামলায় আজ আসামি নজরুল ইসলামকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সৌদি আরবের উপহার চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরবের উপহার
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ
ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: সৌদি আরব থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া খেজুর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন বরাদ্দ দয়ো হয়েছে। এদিকে খেজুর বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খেজুর বরাদ্দের তালিকা সামনে আসতে শুরু করে এবং কোথায় কত কার্টন খেজুর গেছে তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দের পরিমাণ, বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এসব খেজুর পৌঁছাচ্ছে কি না, এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার জানান, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে ৩৯ কার্টন, আনোয়ারায় ২৫ কার্টন, হাটহাজারীতে ৩৫ কার্টন, পটিয়ায় ৩৭ কার্টন এবং সীতাকুণ্ডে ২৫ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সন্দ্বীপে ৩৭ কার্টন, মিরসরাইয়ে ৩৭ কার্টন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৫ কার্টন, বোয়ালখালীতে ২৫ কার্টন, রাউজানে ৩৫ কার্টন এবং চন্দনাইশে ২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বাঁশখালীতে ৩৭ কার্টন, লোহাগাড়ায় ২৫ কার্টন, সাতকানিয়ায় ৩৭ কার্টন, কর্ণফুলীতে ১৫ কার্টন এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের বাদশাহ প্রতিষ্ঠিত ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৫ মার্চ সংশোধিত এক আদেশের মাধ্যমে এই বরাদ্দ চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে পাঠিয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাত ও ইউনিয়নের সংখ্যা বিবেচনা করে এই খেজুর বণ্টন করা হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ