আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

বিতার্কিকরা সবসময় এগিয়ে থাকবে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিতার্কিকরা সবসময় এগিয়ে আছে, এগিয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের বিতার্কিকরা সবসময় এগিয়ে আছে, এগিয়ে থাকবে। কারণ চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে এমন একটি বিপ্লবী চেতনা কাজ করে, যা তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ‘রবি-দৃষ্টি চট্টগ্রাম বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্ভাবনাময় আগামির প্রত্যয়ে আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের ৩২টি স্কুল ও সারাদেশের ১৬টি কলেজের শতাধিক বিতার্কিক অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সংগীত ও চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

চট্টগ্রামকে একটি প্রাকৃতিক শহর উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এখানে নদী আছে, সাগর আছে, পাহাড় আছে। এ শহরের মানুষ স্বাধীনচেতা। এ শহরকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেইফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নগরবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। ১ থেকে ১৫ বছর বয়সী সন্তানদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দিচ্ছি।

নারীদের ক্যান্সার সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করেছি। অক্টোবর মাসকে ‘পিংক মাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছি।জানুয়ারিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের স্কুল-কলেজ নিয়ে ‘মেয়র গোল্ডকাপ বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের ঘোষণা দেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, বাঙালি আর কিছু করতে পারুক বা না পারুক, বিতর্ক করতে পারে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে প্রথম হতে পারিনি। ক্রিকেটে, ফুটবলে সেরা হতে পারিনি। কিন্তু এক জায়গায় আমরা সেরা হতে পেরেছি, আর তা হলো বিতর্ক। এই সফলতার পেছনে কাজ করছে দৃষ্টি চট্টগ্রাম। গত ৩২ বছর ধরে মেধা ও মননে যুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম গড়তে কাজ করছে দৃষ্টি। তোমরাই আগামির ভবিষ্যৎ, তোমরাই নেতৃত্ব দেবে, তোমরাই আগামির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশ বিতর্কে ইতোমধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডা. তুষার আরও বলেন, জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা সমান্তরাল রেখার মতো। যে যত বেশি ব্যর্থ হয়েছে, সে জীবনে তত বড় সফল হয়েছে। আমাদের প্রতিটি কাজের মধ্যেই দুঃখ-বেদনা থাকে, আর সেগুলো কাটিয়েই মানুষ সফলতার উচ্চতায় পৌঁছে। অন্যের কষ্টে বেদনা অনুভব করো, নিজের বেদনায় কাতর হইও না। আমরা যদি এভাবে বাংলাদেশ গড়তে পারি, তবে সত্যিকারের বাংলাদেশ তৈরি করতে পারব, সমাজও বদলাবে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও সাসটেইনেবিলিটি শরিফ শাহ জামাল রাজ বলেন, রবি-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণ প্রজন্ম শেখে চিন্তা করা, যুক্তি গঠন করা ও ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা। রবি বিশ্বাস করে, প্রকৃত চিন্তা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নাগরিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। আগামি দিনের সত্যিকার নেতা তৈরি করতেই রবি সবসময় পাশে থাকবে। যুক্তি, বুদ্ধি ও চিন্তাধারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

দৃষ্টির প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল বলেন, বিতর্ক করা মানে নিজেকে সমৃদ্ধ করা। যুক্তি ও মননচর্চার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া যায়। মেধা ও মননে উন্নতির বড় ভূমিকা রাখে বিতর্ক।

দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি সাবের শাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজীদুর রহমান ও শিক্ষাবিদ বৃজেট ডায়েস।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সাংগঠনিক বিতর্কের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। আগামি বছর ৩১তম বিতর্ক প্রতিযোগিতা সারাদেশব্যাপী আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ