আজঃ সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

পূর্বধলায় সাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে অধ্যক্ষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান।

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্থা, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বিপর্যয়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বধলায় কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সংবাদকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান খান-এর মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২ নভেম্বর (রবিবার) সকালে সাংবাদিক নাহিদ আলম পূর্বধলা সরকারি কলেজে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সংবাদ প্রচার করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন বাধা ও হুমকির ইঙ্গিত দেন।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের মাধ্যমে কলেজের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান ভয়াবহভাবে নিম্নগামী করেছেন।

সংবাদকর্মীরা দাবি করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে অধ্যক্ষের এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একজন সাংবাদিকের মর্যাদার অবমাননা। এর আগে অনুরূপ ঘটনায় তিনি পূর্বধলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের অসদাচরণের প্রতিকার ও কলেজে একজন যোগ্য ও দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী শাহীনের সভাপতিত্বে এবং মানবকণ্ঠ এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ সাকিব এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পূর্বধলা প্রেসক্নাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েজুল ইসলামের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলার দর্পণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ার, দৈনিক সংবাদ এর উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য নূর উদ্দিন মণ্ডল দুলাল, দৈনিক সংগলাপ জেলা প্রতিনিধি।কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য জাকির আহমেদ খান কামাল প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি তৌহিদ কবির রাসেল, এনটিভি অনলাইন নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি এসএস ওয়াদুদ, পূর্বধলা দর্পণ এর স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল হক, দৈনিক সকালের সময় এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, আজকের আরবান এর বিশেষ প্রতিনিধি ইমতিয়াজ আহমেদ সজিব, রূপালী বাংলাদেশ এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. মিঠু সরকার, দৈনিক জবাদিহি এর উপজেলা প্রতিনিধি সাগর আহমেদ জজ, ইকরা স্টাফ রিপোর্টার আল আমিন শেখ, আজকের আরবান এর বিশেষ প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, ভোরের সময় স্টাফ রিপোর্টার শাহীন খন্দকার, সাংবাদিক মজিবুর রহমান তালুকদারসহ পূর্বধলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে পহেলা বৈশাখ ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ কে স্বাগত জানাতে উন্মুখ পুরো দেশ। সারাদেশের মতো বাঙালির এ প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে।

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজন নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের আয়োজন নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতি বছরের ন্যায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা, রশি টানা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সম্মিলিত বর্ষবরণ উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার দাশের দীঘির পাড়ে সকাল ৯টা থেকে সংগীতানুষ্ঠান, বলিখেলা, কাওয়ালী গানের আসর, গীতা আলেখ্য ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল, মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।

বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি, আনন্দ ও আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করার এ দিনটি যুগে যুগে বাঙালির জীবনে নিয়ে এসেছে নতুন আশার বার্তা। প্রকৃতির রঙে রঙিন এই সময়টাতে শহর থেকে গ্রাম, দেশ থেকে প্রবাস সবখানেই এক অনন্য উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়। লাল-সাদা পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মঙ্গল শোভাযাত্রাসব মিলিয়ে বৈশাখ হয়ে ওঠবে এক মহামিলনমেলায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, “বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ বাংলা নববর্ষ বরণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা প্রাণের এ উৎসবে মেতে ওঠার।”

এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এল তিন জাহাজ, পথে আরও দুইটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এলপিজি (তরল পেট্টোলিয়াম গ্যাস) বোঝাই তিনটি জাহাজ পৌঁছেছে। একইসঙ্গে আরও অন্তত দুইটি গ্যাসবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে ‘ডিএল লিলি’।
এছাড়া ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে ‘গ্যাস ক্যারেজ’। জাহাজ দুইটি বহির্নোঙরের চার্লি ও ব্রাভোতে অবস্থান করছে। এছাড়া রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে ‘কংটং’ নামে আরো একটি জাহাজ এসেছে। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসবে ‘পল’।

১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে দেশে ঢুকবে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’। ১৮ এপ্রিল আসবে এলএনজিবাহী ‘লবিটো’।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব কাটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করছে সরকার।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ