আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

পূর্বধলায় সাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে অধ্যক্ষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান।

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্থা, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বিপর্যয়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বধলায় কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সংবাদকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান খান-এর মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২ নভেম্বর (রবিবার) সকালে সাংবাদিক নাহিদ আলম পূর্বধলা সরকারি কলেজে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সংবাদ প্রচার করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন বাধা ও হুমকির ইঙ্গিত দেন।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের মাধ্যমে কলেজের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান ভয়াবহভাবে নিম্নগামী করেছেন।

সংবাদকর্মীরা দাবি করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে অধ্যক্ষের এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একজন সাংবাদিকের মর্যাদার অবমাননা। এর আগে অনুরূপ ঘটনায় তিনি পূর্বধলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের অসদাচরণের প্রতিকার ও কলেজে একজন যোগ্য ও দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী শাহীনের সভাপতিত্বে এবং মানবকণ্ঠ এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ সাকিব এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পূর্বধলা প্রেসক্নাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েজুল ইসলামের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলার দর্পণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ার, দৈনিক সংবাদ এর উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য নূর উদ্দিন মণ্ডল দুলাল, দৈনিক সংগলাপ জেলা প্রতিনিধি।কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য জাকির আহমেদ খান কামাল প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি তৌহিদ কবির রাসেল, এনটিভি অনলাইন নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি এসএস ওয়াদুদ, পূর্বধলা দর্পণ এর স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল হক, দৈনিক সকালের সময় এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, আজকের আরবান এর বিশেষ প্রতিনিধি ইমতিয়াজ আহমেদ সজিব, রূপালী বাংলাদেশ এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. মিঠু সরকার, দৈনিক জবাদিহি এর উপজেলা প্রতিনিধি সাগর আহমেদ জজ, ইকরা স্টাফ রিপোর্টার আল আমিন শেখ, আজকের আরবান এর বিশেষ প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, ভোরের সময় স্টাফ রিপোর্টার শাহীন খন্দকার, সাংবাদিক মজিবুর রহমান তালুকদারসহ পূর্বধলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য বিলীন হয়ে যাবে।শিকাগো শহরে শ্রমিকরা তাদের রক্তের বিনিময়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, সেই চেতনা আজও আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো আমরা সব শ্রমিকের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে পারিনি।

তিনি শুক্রবার (১ মে) দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে ভবন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার প্রতিটি কাজে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। আজ আমরা যে উন্নত অবকাঠামো ও নগরজীবন উপভোগ করছি, তা শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ফল।

তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কোথাও পানি জমলে বা কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সেখানে ছুটে যাই, যাতে মানুষের কষ্ট কমানো যায়।

রুট লেভেলের শ্রমিকদের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, তাদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামে, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ১২০০ অস্থায়ী শ্রমিককে স্থায়ী করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এটি ছিল তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। ঝুঁকি নিয়েই আমরা এটি বাস্তবায়ন করেছি, কারণ তারা দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় ছিলেন।

এ সময় তিনি শ্রমিকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পাঁচটি আবাসন নির্মাণে ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের জন্য ৬০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদানকেও তিনি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষে মেয়র একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই নীতিকে বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তারা দেশের উন্নয়ন ও একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়তে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবু ফয়েজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর চৌধুরী, রাজনীতিবিদ তোফাজ্জল হোসেন, মিল্টন ডেকোরেটারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম সামশুল হক। বক্তব্য রাখেন মে দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক শামসুল ইসলাম আরজু, সদস্য সচিব মো. সোলাইমান সুমন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম ফিরোজী, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের নেতা কে এম শহীদুল্লাহ, কাজল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন তাপস, সাইফুল ইসলাম শাহীন, মো. হাসান, মিজানুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, রাসেল হাওলাদার, ইয়াছিন মিয়াজি, মনির হোসেন, মো. সোহাগ, আবদুস সালাম, মো. শফি, জসিম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, কাজী গোলাম মোস্তফা, এম এ হাকিম, এস এম ফজলুল হক, ওয়াজেদ আলী ওমর, ইমাম হোসেন মাসুদ প্রমুখ।

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ