পূর্বধলায় সাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে অধ্যক্ষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান।

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্থা, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বিপর্যয়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বধলায় কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সংবাদকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান খান-এর মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২ নভেম্বর (রবিবার) সকালে সাংবাদিক নাহিদ আলম পূর্বধলা সরকারি কলেজে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সংবাদ প্রচার করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন বাধা ও হুমকির ইঙ্গিত দেন।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের মাধ্যমে কলেজের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান ভয়াবহভাবে নিম্নগামী করেছেন।

সংবাদকর্মীরা দাবি করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে অধ্যক্ষের এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একজন সাংবাদিকের মর্যাদার অবমাননা। এর আগে অনুরূপ ঘটনায় তিনি পূর্বধলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের অসদাচরণের প্রতিকার ও কলেজে একজন যোগ্য ও দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী শাহীনের সভাপতিত্বে এবং মানবকণ্ঠ এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ সাকিব এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পূর্বধলা প্রেসক্নাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েজুল ইসলামের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলার দর্পণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ার, দৈনিক সংবাদ এর উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য নূর উদ্দিন মণ্ডল দুলাল, দৈনিক সংগলাপ জেলা প্রতিনিধি।কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য জাকির আহমেদ খান কামাল প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি তৌহিদ কবির রাসেল, এনটিভি অনলাইন নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি এসএস ওয়াদুদ, পূর্বধলা দর্পণ এর স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল হক, দৈনিক সকালের সময় এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, আজকের আরবান এর বিশেষ প্রতিনিধি ইমতিয়াজ আহমেদ সজিব, রূপালী বাংলাদেশ এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. মিঠু সরকার, দৈনিক জবাদিহি এর উপজেলা প্রতিনিধি সাগর আহমেদ জজ, ইকরা স্টাফ রিপোর্টার আল আমিন শেখ, আজকের আরবান এর বিশেষ প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, ভোরের সময় স্টাফ রিপোর্টার শাহীন খন্দকার, সাংবাদিক মজিবুর রহমান তালুকদারসহ পূর্বধলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে ল’ফার্ম নিয়োগ হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।রোববার ২ আগস্ট রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন-সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন—বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চিংড়ি প্রকল্পের দখল নিয়ে শেষ রাতে গোলাগুলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিংড়ি প্রকল্পের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাজুরঘোনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ থেকে ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, স্থানীয়ভাবে তৈরি একনলা বন্দুক দিয়ে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এলাকায় নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুরঘোনা এলাকার একটি চিংড়ি প্রকল্পের মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় কবির গ্রুপ ও মনসুর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে কয়েকজন পথচারীসহ সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযানে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. ইব্রাহীম, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ জেলা পুলিশের একটি বড় দল অংশ নেয়।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ