আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে প্রার্থী হতে নারাজ চিত্রনায়ক মেগাস্টার উজ্জ্বল ।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো কারণ দেখেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেগাস্টার খ্যাত চিত্রনায়ক ‘আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল’। একান্ত আলাপনে মেগাস্টারের কাছে আসন্ন নির্বাচনে কেন প্রার্থী হলেন না ও মনোনয়ন পেলে কী করতেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলীয় মতামতের ভিত্তিতে দল পরিচালনা করেন।

তা ছাড়া দীর্ঘ পথচলায় বিএনপির রাজনীতির ভেতর ও বাহির তাঁর নখদর্পণে। নমিনেশনই নির্বাচনের সবকিছু নয়। এত বড়ো দলকে বিজয়ের মঞ্চে সংবর্ধনা দিতে হলে কিছু রাজনীতিককে ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। কারণ ঘাম ও ত্যাগের উপরই সাফল্যের পতাকা উড়ে। মনে রাখতে হবে জনাব তারেক রহমানের একটি পরিকল্পনা আছে। সতেরো বছরের ক্রান্তিকালে অনেক ত্যাগী নেতা আছেন। একথাও আমাদের মনে রাখতে হবে।’ সাফল্যের জন্য দলীয় প্রার্থীদের বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেধাবী টিম দরকার। যারা দলীয় প্রচারণায় কাজ করবেন।

‘আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল,’ তৎকালীন বৃহত্তর পাবনা জেলা শহরে ও সিরাজগঞ্জের দুই জায়গাতেই পৈতৃক ভিটা থাকলেও তাঁর শৈশব কেটেছে সান্তাহারে। কারণ তাঁর আব্বা ডা: মো. ইয়াছিন উদ্দিন রেলওয়ের ডাক্তার হিসেবে শান্তাহারে কর্মরত ছিলেন। মা সাবেরা বেগম একজন গৃহিণী। নায়ক উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে আইআর-এ মাস্টার্সডিগ্রী লাভ করেন।
স্কুলে পড়াকালীন সময়ে কবিতা আবৃত্তি দিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলেও একই সময়ে স্কুলের মঞ্চনাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। সেই থেকে শুরু।

বাবার বদলির চাকরি হওয়াতে তাঁকে বেশ কয়েকটি জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে হয়েছে। হার্ভে গার্লস স্কুল শান্তাহার, বগুড়া, লালমনিরহাট হাইস্কুল, লালমনিরহাট, কারমাইকেল কলেজে, রংপুর ও সৈয়দপুর কলেজ, সৈয়দপুর, খুলনা জেলা স্কুল, খুলনা। মঞ্চগুলোতে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে অভিনয় করেন। অভিনয় নেশা হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি এসএম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। সেই সুবাদে হলের বাৎসরিক নাটক ও টিএসসির মঞ্চে প্রধান চরিত্রে নিয়মিত অভিনয় চর্চা চালাতে থাকেন। সেই সময়ে টিএসসি’র মঞ্চে অধ্যাপক আসকার ইবনে শাইখের লেখা ‘লালন ফকির’ নাটকের লালন চরিত্রে অভিনয় করলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে নাটকটি পরপর তিনদিন মঞ্চস্থ হয়।

চারিদিকে সুনাম ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে অভিনেতা ও সঙ্গীত শিল্পী নাজমুল হুদা বাচ্চু তাঁকে রেডিও ও টেলিভিশনে অডিশনের মাধ্যমে নাট্যশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে সহযোগিতা করেন। মঞ্চ, রেডিয়ো ও টেলিভিশনে দুর্দান্ত অভিনয়ের কারণে নাট্যাঙ্গনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এরই ফাঁকে তিনি ফ্লাই ক্লাবের সদস্য হন। বিমানেও কিছুদিন সংযুক্ত ছিলেন।
নাটকের জনপ্রিয়তার ঢেউ গিয়ে পৌঁছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। ১ জানুয়ারি ১৯৭০ খ্যাতিমান পরিচালক সুভাষ দত্ত উজ্জ্বলকে নায়ক ও কবরীকে নায়িকা হিসেবে কাস্ট করে ‘ বিনিময় ‘ ছবির মহরত করেন। একই বছর সিনেমাটি প্রদর্শিত হলে চলচ্চিত্রাঙ্গনে সাড়া পড়ে যায়।

ব্যাবসায়িক ভাবে অত্যন্ত সফল হয়। সিনেমা প্রেমিক দর্শকের কাছে রোমান্টিক হিরো হিসেবে সমাদৃত হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পর একে একে মুক্তি পায় অরুণোদয়ের অগ্নি সাক্ষী, কাচের স্বর্গ, লালন ফকির, সমাধান, ইয়ে করে বিয়ে, শনিবারের চিঠি, গরমিল, সমাধি, অনুভব, রুপালি সৈকতে, অগ্নিশিখা, অচেনা অতিথি, দাবি, বন্ধু, ফকির মজনু শাহ, মহেশখালীর বাঁকে, অনুরাগ, জনতা এক্সপ্রেস, কুদরত, লাল কাজল ইত্যাদি। সিনেমার মাস্টার মেকার চলচ্চিত্র পরিচালক মমতাজ আলি, নায়ক উজ্জ্বলের রোমান্টিক নায়কের পর্দা-ইমেজ ভেঙে প্রতিবাদী নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তৎসময়ের দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তা এতই তুঙ্গে ওঠে যে তিনি ভক্তদের কাছে মেগাস্টার উজ্জ্বলে রূপান্তরিত হন।

একে একে মুক্তি পায় নালিশ, নসিব, উসিলা, আমি উস্তাদ, নিয়ত, বিশাল, বীরাঙ্গনা সখিনা, দোস্তি, নিয়তির খেলা ও জান আমার জান। তিনি সবমিলিয়ে প্রায় শতাধিক সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে বেশ কয়েকটি সিনেমা পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি গঠনের পেছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন চিত্রনায়ক উজ্জ্বল। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সদস্য। তিনি সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচিত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বও পালন করেছেন। চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনার জন্য এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। চব্বিশের আন্দোলনে চলচ্চিত্রাঙ্গনের ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ মিরসরাই উপজেলা শাখার কমিটি গঠন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ মিরসরাই উপজেলা শাখার এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহবায়ক লায়ন তাহের আহম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পরিষদের উত্তর জেলার সদস্য সচিব আবু সাঈদ, পরিষদের উত্তর জেলার যুগ্ন আহবায়ক আবুল কাশেম আজাদ (ভিপি শামীম), যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন,নাছির উদ্দিন বিপ্লব। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাবেক ছাত্রনেতা মো. দেলোয়ার হোসেনকে আহবায়ক, অধ্যাপক ছালাহুদ্দীন মোহাম্মদ ছলিম নিজামীকে সদস্যসচিব এবং শহিদুল ইসলাম, আবুল বশর, মো. নিজাম উদ্দিন, মেসকাত উদ্দিন, কামরুল হাসান আজাদ, শামছু উদ্দিন, জিয়া উল হক জিল্লু, ইসমাইল হোসেন খোকন, সিরাজুল ইসলাম লিটন প্রমূখকে সদস্য করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেন জেলার নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ