আজঃ শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে এক বছরে প্রায় ৩৭০০ ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান : ৮০ শতাংশই বাসিন্দা নগরীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চিকনগুনিয়া-ডেঙ্গু এবং জিকা- মশাবাহিত এই তিন রোগের মারাত্বক ঝুঁকিতে রয়েছে। চট্টগ্রামে এক বছরে প্রায় ৩৭০০ ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে যার ৮০ শতাংশই নগরীর বাসিন্দা। এদিকে চিকনগুনিয়ার সংক্রমণের প্রকোপ বেড়েছে একেবারে হঠাৎ করে এমনটি উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে তরুণদের আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তরুণ। আর চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীও পাওয়া গেছে চলতি বছর। বেসরকারি সংস্থা এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে চালানো এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার জন্য নির্ধারিত রোগীদের মধ্যে অনেকের চিকুনগুনিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গু-জিকা ভাইরাসও শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ জন চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্তের মধ্যে ১ দশমিক ১ শতাংশ ডেঙ্গু এবং শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ জিকা ভাইরাসে আক্রান্তও পাওয়া গেছে। এই সহ-সংক্রমণ এবারের পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

গবেষণাকর্মে যুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বলেন, আমরা যেটা পেয়েছি, ২০২৫ সালে অর্থাৎ চলতি বছরে এসে চট্টগ্রামে চিকনগুনিয়ার প্রভাব হঠাৎ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এখানে চিকনগুনিয়ার এত প্রকোপ ছিল না। গত বছর সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে মাত্র সাতশ-র মতো চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এবার আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ বা তারও কিছু বেশি। আর শহরে আক্রান্তের হারটা ছিল বেশি, প্রায় ৮০ শতাংশ। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকনগুনিয়াও এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক আবুল ফয়সাল মোহাম্মদ নুরুদ্দিন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নানের নেতৃত্বে গবেষক দলে আরও ছিলেন- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডা. এম এ সাত্তার, ডা. মারুফুল কাদের, ডা. নুর মোহাম্মদ, ডা. হিরন্ময় দত্ত, ডা. ইশতিয়াক আহমদ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডা. এ এস এম লুতফুল কবির শিমুল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. রজত বিশ্বাস, ইউএসটিসির আইএএইচএস এর ডা. আয়েশা আহমেদ, এপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ডা. মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. অরিন্দম সিং পুলক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের ড. মো. মাহবুব হাসান ও মহব্বত হোসেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএমএএম জুনায়েদ সিদ্দিকি।

চট্টগ্রামের ১১০০ রোগীর ওপর ভিত্তি করে চিকনগুনিয়া নিয়ে করা গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর ৭টি এলাকা এবং সংলগ্ন তিনটি উপজেলা চিকনগুনিয়া সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হয়ে ওঠে। এগুলো হচ্ছে- নগরীর কোতোয়ালী, বাকলিয়া, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, চকবাজার, হালিশহর ও পাঁচলাইশ এবং সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালী ও আনোয়ারা উপজেলা। তবে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই নগরীর বাসিন্দা। চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত শতভাগ রোগী তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভুগেছেন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রোগী তিন মাসেরও বেশি সময় চিকনগুনিয়ার প্রভাব ভোগ করেছেন। এছাড়া ৪৫ শতাংশ রোগীর শরীর ফোলা ছিল।
একেকজন রোগীকে চিকিৎসায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তবে সচেতনতার অভাবে পরীক্ষা না করা এবং কিটের স্বল্পতা ও ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে অনেকে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলেও পরীক্ষায় শনাক্ত হননি।

আদনান মান্নান বলেন, চিকনগুনিয়া এখন শুধুমাত্র একটি সাধারণ ও সাময়িক জ্বরের রোগ নয়। এটার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হচ্ছে। এটা মোকাবেলার জন্য আলাদা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। জনসাধারণকেও সচেতন করতে হবে। শুধুমাত্র ডেঙ্গু মোকাবেলার কৌশল দিয়ে চিকনগুনিয়া রোধ করা যাবে না।

অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ১৭৯৭ জন রোগীর ক্লিনিকাল এবং বায়োলজিক্যাল ডেটা নিয়ে গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে তরুণ জনগোষ্ঠী, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং আক্রান্তের হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। শিশু-কিশোর আক্রান্তের হার ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মধ্যবয়সী ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে ২২ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন।
ক্লিনিক্যাল উপসর্গ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় সব রোগীরই জ্বর ছিল। বমিভাব ও বমি, মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও চোখের পেছনে ব্যথা, পেটব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ উল্লেখযোগ্য হারে ছিল।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বক্তব্যে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগর এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। মশার প্রজননস্থল, মৌসুমি ও জলবায়ুগত প্রভাব, নগরের অবকাঠামো এবং মানুষের আচরণ—এসব বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ না করলে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে আরও একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তিনি বলেন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বোয়ালখালীর মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনগণ উজারভাবে আমাকে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী করেছেন। তাই আমি জনগণের আশা আকাংকার প্রতীক হিসেবে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বোয়ালখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের দাবী নতুন কালুরঘাট সেতু দ্রুত নির্মাণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া ইতোমধ্যে, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছেন। ক্রমান্নয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা বোয়ালখালীতেও কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া, শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচী হিসেবে সম্প্রতি আহল্লা কড়লডেঙ্গা ও আমুচিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হকখালী খালের খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। তাতে, কৃষকরা আগে দুই ফসলী চাষাবাদ করলেও খাল খননের কাজ শেষ হলে আগামীতে তিন ফসলী চাষাবাদ হবে তাতে কৃষকরা লাভবান হবে।

8
এছাড়া সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের পাহাড়ী এলাকা আহল্লা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া ও শ্রীপুর-খরণদ্বীপের জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আরও একটি উন্নতমানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

গতকাল (২৪ মার্চ) রাতে উপজেলার আমুচিয়া ধোরলা কিশোর লাইব্রেরী একতা সংঘ ও কানুনগোপাড়া পল্লী সমিতির উদ্যোগে পৃথক দু’টি ধর্মীয় আলোচনা সভায় উক্ত কথা বলেন।

ধোরলা কিশোর লাইব্রেরী একতা সংঘ সভাপতি প্রদীপ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলহাজ্ব আজিজুল হক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপি সদস্য শওকত আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইছহাক চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মন্নান চেয়ারম্যান, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বরেণ্য সাংবাদিক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সিকদার, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল মনছুর চৌধুরী, আবু সিদ্দিক, ইউপি সদস্য আবু জাফর তালুকদার, ইউপি সদস্য পংকজ চন্দ্র, ইউপি সদস্য দিলীপ দাশ, সুজিত দে, মোহরম আলী প্রমুখ।

বিজয় ৭১ এর উদ্দ্যেগে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজয় ৭১ এর উদ্দ্যেগে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে সকাল ৮ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ বিকাল ৪ ঘটিকায় মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমীতে সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, মুক্তিযোদ্ধাকে জানো শীর্ষক আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা ও কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচী সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উক্ত কর্মসূচীর সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমেদ, উদ্বোধক ছিলেন সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান, প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট নিলু কান্তি দাশ নীলমনি, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক লায়ন ডা: আর কে রুবেল, সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদল চন্দ্র বড়ুয়া, সার্ক মানবধিকার ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোমা মুৎস্সুদীর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খালেদা আক্তার চৌধুরী, কেয়া লাহেরী, নিবেদিতা চৌধুরী, দিলীপ সেন, সমীরণ পাল, পূরবী বড়ুয়া। বক্তারা বলেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে নীরস্ত্র মানুষের নৃশংস হামলার পর ২৬শে মার্চ এর প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেই থেকে দিনটি স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে যথাযথভাবে পালন করছে। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাঙ্গালী জাতির কাংখিত স্বাধীনতা।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ