আজঃ শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝে রেখেই বাড়ানো হচ্ছে সড়ক।

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার খোকসায় সড়কের মাঝেই বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এছাড়া একটি খালের সুইচগেটসহ একাধিক বস্ক কালভার্টের গাইড ওয়াল ঢেকে দিয়ে রাস্তা করায় পথচারীদের কাছে বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জানিপুর ও বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু ১১ কিলোমিটার ৫৩৫ মিটার সড়কে খানা-খন্দ থাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আর সি আই পি প্রকল্পের অধীন ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা মেরামতের টেন্ডার হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদাস কার্যাদেশ পাওয়ার পর কমলাপুর-একতারপুর জিসি রোড, বহরমপুর-বনগ্রাম ভায়া কাতলাগাড়ি ঘাট ও চাঁদট-বনগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তা পাকা করনের কাজ শুরু করে। রাস্তার সিংহ ভাগ অংশে তিন ফুট চওড়া ও দুই ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে এ রাস্তায় চলাচলকারীরা ভোগান্তিতে পরে। ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অপরিকল্পিতভাবে এসব রাস্তার মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে। সম্প্রতি নির্মাণ করা লাইনের প্রায় ১১৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তার তিন ফুট ভিতরে চলে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার ভিতর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু করে।

এ ছাড়া চাঁদট খালের উৎস মুখের সুইচ গেটসহ একাধিক বস্ক কালভার্টের গাইড ওয়াল থেকে এক দেড় ফুট উঁচু করে রাস্তা সংস্কার কাজ করে। তবে গ্রামবাসীরা এভাবে রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বাঁধা উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বহরম পুর-বনগ্রাম ভায়া কাতলাগারি ঘাট ও চাঁদট-বনগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তার ম্যাকাড্রামের কাজ শেষ করেছে। এ কাজের মান নিয়েও এলাকাবাসীদের অভিযোগ রয়েছে। এখন বাকি শুধু কার্পেটিং করা।

বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল উদ্দিন বলেন, রাস্তার ৩-৪ ফুট ভিতরে পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য খুঁটি রেখে কাজ করা হয়েছে। খুঁটি সরানোর বিষয়ে ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা রাস্তার ভিতরে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু স্থানে রাস্তা উঁচু করায় সুইচ গেটসহ একাধিক বস্ক কালভার্টের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে না। ফলে অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বৃদ্ধ তোফাজ্জেল হোসেন জানান, পাকা রাস্তার ভিতরে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে কাজ করার সময় তারা বাঁধা দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান মেম্বরদের কথা কেউ শোনে না। খুঁটি রেখেই রাস্তা করা হয়েছে। খুঁটির কারণে ফসলের গাড়ি বাড়িতে নিতে সমস্যা হচ্ছে। অটোভ্যান চলাচলেও সমস্যা হয়। খালের সুইগেটের পাশের ওয়াল রাস্তার মাটির নিচে চলে গেছে। খাল আছে বোঝা যাচ্ছে না। কেউ ভুল করলেই প্রায় ২০/২৫ হাত গভীর খালের নিচে গিয়ে পড়ে যাবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদাসের প্রতিনিধি আব্দুল হালিমের মোবাইলফোনে কল দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। এলজিউডির কার্যসহকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার ভেতর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি তোলার জন্য উপর মহলে আলোচনা চলছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান, রাস্তার মাঝখান থেকে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কথা চলছে। তবে খালের সুইচ গেট ও বস্ক কালভার্টের গাইড ওয়াল সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। মানুষের প্রাণহানী করে এমন কাজ করা ঠিক হবে না। ভিজিট করে ব্যবস্থা নেয়ো হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনায় শারীরিক প্রতিবন্ধী হিরনের পাশে দাঁড়ালেন মদন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী এক হাত এক পা বিকলাঙ্গ হিরন মিয়ার একটিমাত্র সম্বল ছিল তার একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক।
গত ২২ জানুয়ারি রাতে এই ইজিবাইকটি কেবা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের বাহন হারিয়ে আজ পরিবার দু’মুঠো আহার যোগাতে দুচোখ দিয়ে অশ্রুজল ঝরছে প্রতিবন্ধী হিরন মিয়া।
এই চুরি হওয়া ঘটনাটি ঘটেছে মদন উপজেলার মদন ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে।প্রতিবন্ধী হিরণ মিয়া বাজিতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক এর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,
১০ বছর পূর্বে টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর হিরন মিয়া একটি পা এবং একটি হাত প্যারালাইস অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ে প্রতিবন্ধী হিরন মিয়া পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তা তাকে একটি ইজিবাইক ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা কিনে দেন তাকে।

ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা দিয়ে যা উপার্জন হতো পরিবারের ৫ সদস্যদের কোনরকম ডাল ভাত খেয়ে জীবন যাপন করছিল।গত ২২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত তিনটার দিকে কেবা কারা এই ইজি বাইকটি চুরি করে নিয়ে যায়।

অটোরিক্সা ৪টা ব্যাটারি অটো রিক্সার মটারটা নিয়ে গিয়ে মদন উচিতপুর ব্রিজের পাশে খালি অটো রিক্সাটা ফেলে রেখে চলে যায় চুরচক্রের সদস্যরা।প্রতিবন্ধী হিরনের স্ত্রী বলেন, অটোরিক্সা দিয়ে যা উপার্জন করত বিকেল বেলা চাল ডাল নিয়ে আসতো আমার স্বামী আমাদের পরিবার চলত । অটো রিক্সার ব্যাটারি চুরি হওয়াতে এখন আমরা খুব কষ্টে আছি।

এমন সময় হতদরিদ্র হিরন মিয়ার পাশে দাঁড়ালেন মদন উপজেলার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। নিজেদের উদ্যোগে এবং নিজেদের অর্থায়নে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে হিরন মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মদন উপজেলা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্ট কবি সাহিত্যিক সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম হিরু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল,বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মদন উপজেলা শাখার সভাপতি দৈনিক আমাদের সময় উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ, সহ-সভাপতি দৈনিক অগ্নিশিখা জেলা প্রতিনিধি এ এম শফিক, দৈনিক যুগ যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রাজিব প্রমুখ। এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পাবনার ভাঙ্গুড়ার গুমানি নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে চুরি, ডাকাতি ঠেকাতে গ্রামবাসীর উদ্যোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে সম্প্রতি নৌ-পথে চুরি ও ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী গুমানি নদীর মাঝেই বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। নদীর মাঝ অংশে একটির পর একটি বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ বাঁশের বেড়া। একটি অংশে নৌ চলাচলের পথ রাখা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি বেতুয়ান গ্রাম থেকে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারে সোনার দোকানে ডাকাতি এবং কয়েকটি পৃথক স্থানে গরু চুরির ঘটনা এই গুমানি নৌ-পথেই হয়েছে।
দুর্বৃত্তরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে গুমানি নদী দিয়ে ভাটির দিকে পালিয়ে যায়। এ কারণেই নিজ এলাকা নিরাপদ রাখাতে গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে গুমানি নদীর মাঝেই বাঁশের বেড়া দিয়েছেন।


বেতুয়ান গ্রামের তানজু শেখ বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি মহিষ ও একটি গরু নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আমরা গ্রামে নিরাপত্তা বাড়াতে নিজেরাই নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া দিয়েছি।

একই গ্রামের বাসিন্দা রুমান উদ্দিন বলেন, রাতের বেলা নৌকা নিয়ে চোরদের গ্রামে ঢুকার ভয় ছিল। এখন বেড়া থাকায় আমরা অনেকটা নিরাপদ বোধ করছি।গ্রামের অন্য একজন বাসিন্দা রুকসানা আক্তার বলেন, গ্রামবাসী সবাই মিলে কাজ করেছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য এটি খুব জরুরি উদ্যোগ ছিল।

দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম সজীব খাঁন জানান, বাঁশের খুঁটি পুঁততে তিন দিন সময় লেগেছে। গ্রামের মানুষ রাতের অন্ধকারে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন। বেড়ার একটি অংশে নৌ চলাচলের জন্য পথ রাখা হয়েছে যাতে দিনে নৌকা চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাাফিজুর রহমান বলেন, নৌ-পথে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তারা গ্রামবাসী গুমানি নদীর মাঝ বরাবর বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের বেড়া কাজ করেছে। দিনে নৌকা চলাচলে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে গ্রামবাসীর পক্ষে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বেশি সময় লাগতে পারে- ইসি সচিব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুই ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় প্রক্রিয়াতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার ও দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যালট ব্যবহৃত হবে। এর সঙ্গে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে সচিব বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ভোটার ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লা জেলায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার পোস্টাল পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। একটি কেন্দ্রে সাধারণত তিন হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি, যা ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ