আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে সেতুর মুখে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচীতে যানজটে ভোগান্তি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতুর প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শত, শত যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে শত, শত যাত্রী।পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার দুপুর ২টার দিকে শ’খানেক তরুণ-যুবক নগরীর বাকলিয়া এলাকায় সেতুর প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। পরে সেখানে আরও লোকজন এসে জড়ো হন।

অবস্থানকারীরা জাতীয় পতাকা, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে লেখা প্লেকার্ড নিয়ে স্লোগানে-স্লোগানে মুখর করে তুলে পুরো এলাকা। হাদির খুনিদের সবাইকে গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আজাদির লড়াইয়ে শহীদ হাদি একটি অনুপ্রেরণার নাম। বাংলাদেশকে আর কারও করদ রাজ্যে পরিণত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। শহীদ হাদি যুগ যুগ ধরে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখিয়ে যাবেন।তারা আরও বলেন, ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হাদি হত্যার মূল আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারা সরকারের চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।

এদিকে প্রবেশমুখে অবস্থানের কারণে সেতু অতিক্রম করতে বাস, ট্রাকসহ অনেক যানবাহন সেতুর ওপর আটকে থাকে। এর ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে সেতুর একপাশ থেকে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেন। এতে সেতুর ওপর দিয়ে কক্সবাজারমুখী লেইনে গাড়ি চলাচল ধীরগতিতে শুরু হয়। তবে আরেকপাশে অবস্থানের কারণে নগরীতে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারেনি।

বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, প্রথমে সেতুর উভয় লেইন তারা আটকে রেখেছিল। আমরা পরে বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে একপাশের লেইন সচল করেছি। এখন কক্সবাজারের দিকে গাড়ি চলাচল সীমিত আকারে চলছে। আরেকপাশ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে।

আগেরদিন শনিবার বিকেলে নগরীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ ও র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। তবে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হাদির অনুসারীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শেক্সপিয়ার স্মরণে নানা আয়োজন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইংরেজি সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার, সাহিত্যিক ও কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।

বিভাগীয় প্রধান আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজিস্ট্রার এএফএম মোদাচ্ছের আলী, কলা, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নাট্যাংশ, সংগীত এবং শেক্সপিয়ারের সাহিত্যকর্মভিত্তিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও তাঁর সাহিত্যকর্ম, নাট্যচর্চা এবং বিশ্বসাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্যচর্চা মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অন্যান্য বক্তারা বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য শুধু ইংরেজি সাহিত্যের সম্পদ নয়, বিশ্ব সভ্যতারও এক অমূল্য ঐতিহ্য।

চট্টগ্রামের আবাসিক হোটেলে অভিযানে গ্রেফতার-১১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে রাজাখালীর ইউনিপার্ক হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. শাহীন (২০), মো. কামাল উদ্দীন (২৫), মো. নয়ন (২৬), শারমিন আক্তার (১৯), রিনা আক্তার (৩৮), বিউটি আক্তার (২০), শারমিন আক্তার (২০), মো. ইউসুফ (৩২), মনি আক্তার (২৫), মো. শাহাদাত হোসেন (২৫) এবং মনি আক্তার (১৯)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এদের বিরুদ্ধে সিএমপি অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নম্বর মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ