আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত ডার্মাটাইটিস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রায় ৬২ শতাংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠী ডার্মাটাইটিস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত। প্রায় ৫ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় প্রবীণদের চর্মরোগ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি রোগের উপস্থিতি, পরিবেশগত প্রভাব এবং সচেতনতার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আক্রান্তের কারণে দৈনন্দিন জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন গবেষণায় ওঠে এসেছে, বয়স ৬০ বা তার বেশি বয়সী রোগীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডার্মাটাইটিস (ত্বকের শুষ্কতা ও প্রদাহজনিত রোগ) ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের প্রায় ৬২ শতাংশ আক্রান্ত এ দুই চর্মরোগে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডায়াবেটিসের সঙ্গে সংক্রামক চর্মরোগের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ও কম শিক্ষিত রোগীদের মধ্যে ছত্রাক সংক্রমণ বেশি, যা স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতার অভাবের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিআইএমসিএইচ) ডার্মাটোলজি বহির্বিভাগ ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই তিন বছরে আসা ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪ হাজার ৭৭০ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে। তাদের এই পর্যবেক্ষণে প্রবীণদের মধ্যে ডার্মাটাইটিস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রধান চর্মরোগের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সজনিত ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি রোগের উপস্থিতি এবং পরিবেশগত প্রভাব মিলেই প্রবীণদের চর্মরোগ বাড়াচ্ছে। ত্বকের সাধারণ শুষ্কতাকে অবহেলা করার ফলেই অনেক ক্ষেত্রে জটিল ডার্মাটাইটিস বা সংক্রমণে রূপ নিচ্ছে। তাই রোগের প্রকৃতি ও ঝুঁকির কারণগুলো জানা থাকলে উন্নত চিকিৎসা পরিকল্পনা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং রোগীর ব্যবস্থাপনা সহজতর হবে।

ডার্মাটোলজি ও ভেনেরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আরা বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ত্বকসহ শরীরের সব অঙ্গ পরিবর্তিত হয়। ত্বক পাতলা হয়ে যায়, আর্দ্রতা কমে, পুনর্গঠন ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রবীণদের মধ্যে চর্মরোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, এই বয়সে চর্মরোগের প্রকৃতি ও বিস্তার জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, ডার্মাটাইটিস, বিশেষ করে ইরিটেন্ট বা এলার্জিক কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, বয়সজনিত ত্বকের শুষ্কতার কারণে বেড়ে গেছে। ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ও কম শিক্ষিত রোগীদের মধ্যে, যা স্বাস্থ্যবিধি অজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো গবেষণা। রোগ ও রোগী নিয়ে নিয়মিত গবেষণা ছাড়া নতুন চিকিৎসা ও সেবার দ্বার উন্মোচন সম্ভব নয়। গত এক দশক ধরে আমরা চিকিৎসা খাতের বিভিন্ন রোগ ও রোগী নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করছি।
সিআইএমসির ডার্মাটোলজি ও ভেনেরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আরার পরিচালিত গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ডার্মাটাইটিসে আক্রান্তের হার ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ২২ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য চর্মরোগের মধ্যে গবেষণায় স্ক্যাবিস, সোরিয়াসিস, বুলাস ডিজিজ, ঔষধজনিত ত্বক প্রতিক্রিয়া এমনকি কিছু স্কিন ক্যানসারের রোগীও শনাক্ত হয়েছে। যা প্রবীণ বয়সে চর্মরোগের বহুমাত্রিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, সামগ্রিকভাবে প্রবীণদের মধ্যে অ-সংক্রামক চর্মরোগের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সংক্রামক রোগের হার ছিল ৪০ দশমিক ২ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৬৫ দশমিক ৬ বছর। এর মধ্যে ছিল ২৮৬২ জন নারী (৬০%) এবং ১৯০৮ জন পুরুষ (৪০%)। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বেশি, আর নারীদের মধ্যে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এডিসের প্রজনন দুর্গ খুঁজতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এছাড়া গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের মূলে ছিল এডিস মশার অস্বাভাবিক প্রজনন।

বিগত বছরের সেই বিষাদ অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবার ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মশার বংশবিস্তার চিহ্নিত করতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিনব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে জরিপকারী দলের সদস্যরা কোতোয়ালীর পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, নন্দনকাননসহ আশপাশের এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বায়েজিদ এলাকার শেরশাহ ও আশপাশের এলাকাতেও মশার লার্ভা শনাক্তে ল্যাব-নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে কাজির দেউড়ি, ব্যাটারি গলি ও বাগমনিরাম এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনেও পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই বিশেষ টিম।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুন থেকে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কীটতাত্ত্বিকদের বিশেষ টিম এই জরিপ পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জরিপের মাধ্যমে নগরের কোন কোন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব (ব্রেটো ইনডেক্স) বেশি, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কাজ শুরু করেছ।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর (২০২৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে, সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে পাওয়া গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান (১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আর চলতি জুনের প্রথম ১১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন। আক্রান্তের এই চিত্র গত বছরের তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই নিশ্চিন্ত হতে নিষেধ করছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে যেখানে আক্রান্ত ছিল ২৮৩ জন, জুলাইয়ে তা এক লাফে পৌঁছায় ২ হাজার ৩১১ জনে। একইভাবে ২০২৫ সালের জুনে ১৭৬ জনের বিপরীতে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় ৪৩০ জন। যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে।

চিকিৎসকদের মতে, জুলাই মাস থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর আসল ‘পিক সিজন’ বা বিপজ্জনক সময় শুরু হয়। আর সেই হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য নগরের এডিসের প্রজনন দুর্গগুলো খুঁজতে জুনের আগাম এই জরিপ।

এদিকে, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ করে ‘এডিসের হটস্পট’ বা রেড জোনগুলো চিহ্নিত করে দিলেও, মশক নিধনের মূল দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এই ‘বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন’ বা ম্যাপ ব্যবহার করে চসিক এবার কতটা সফলভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে চলতি বছরের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ইতিমধ্যে মশক নিধনের জন্য বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপের ফলাফল হাতে আসলে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যক্রম চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যে অস্বাভাবিক প্রজননের কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল, এবার মৌসুমের শুরুতেই মাঠপর্যায়ে জরিপ ও লার্ভা চিহ্নিতকরণের এই উদ্যোগ এবং চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শতভাগ কার্যকর হলে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল। এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ