খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় চট্টগ্রামে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাদে জুহুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিভাগীয় জামে মসজিদ, রহমতগঞ্জ, চট্টগ্রামে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে সড়ক ও জনপদ ঠিকাদার সমিতি ও গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম–৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু এবং সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মহসিন, একরামুল হক ছুট্টু, সৈয়দ আবুল বশর ও নুরুল আলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদের ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ইউনুস চৌ হাকিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল মোর্শেদ মুন্না, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুল জলিল, এম এ হামিদ, মোহাম্মদ সিরাজদৌল্লা, মোহাম্মদ আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি ওসমান আলী সেগুন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর ইসলাম মামুন, সৈয়দ আবুল বশর, একরামুল হক ছুটটু, খলিল, মোহাম্মদ আনাছ, ইমতিয়াজ আহমেদ অপু, মোহাম্মদ মহসিন, বাপ্পি, রনিসহ নেতৃবৃন্দ ।

দোয়া মাহফিল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতীক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। আজ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় আমাদের এই দোয়া মাহফিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন করে শক্তি যোগাবে।”

চট্টগ্রাম–৯ আসনের ভোটারদের প্রধান সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন,“এই এলাকার মানুষের মূল সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিরাপদ বসবাস ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার না থাকায় তাদের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে আছে। আমি মাঠে ঘুরে মানুষের কথা শুনছি, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছি এবং নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সমাধানের পথে হাঁটবো।”

তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,” তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু আজ তারা বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে। আমরা তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং মেধাভিত্তিক রাজনীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। তরুণদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলেই তারা রাষ্ট্র গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে।”

দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করার ঘোষণা দেন। একই সাথে প্রায় ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের আরও কাছাকাছি থেকে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা জানান।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন মাহবুবের রহমান শামীম। পরিচিতি সভায় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হবে জেলা পরিষদের প্রধান লক্ষ্য। তাই সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পরিচিতি সভায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাত, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. এসএম খালেদ উদ্দীন জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছ উদ্দীন ভূঞাসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শামীম বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সংস্কৃতি ছিল। আমরা চাই সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জেলা পরিষদ পরিচালনা করতে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমি আপস করবো না। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনগণের আরও কাছাকাছি গিয়ে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। জেলা পরিষদের প্রতিটি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করে নবনিযুক্ত প্রশাসক বলেন, আমি এখানে নতুন হলেও আপনারা অভিজ্ঞ। তাই আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলবেন। কাজের পরিবেশ এমন হবে, যাতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

জেলা পরিষদের সীমিত বাজেটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে শিশু আয়নী হত্যাকান্ডে রুবেলের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলীতে নয় বছরের শিশু আয়নীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় রুবেলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ ২০ জুলাই চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী। নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশু আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় শিশুটির মা মামলা করলে মামলার তদন্তে আসামী সবজি বিক্রেতা রুবেলের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর রুবেল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে শিশু আয়নীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দেন। ঘটনার নয়দিন পর সেই ডোবা থেকে শিশু আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ