আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুই বেশি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শীতকালে সাধারণত যেসব অসুখ শরীরে দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম নিউমোনিয়া। সঠিক সুরক্ষার অভাবে শিশু থেকে বয়স্ক সকলে আক্রান্ত হতে পারে নিউমোনিয়ায়। মূলত ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়। ফুসফুসে পানি জমেও হতে পারে নিউমোনিয়া। অল্প থেকে ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করে এই রোগ। ঠান্ডা লেগে বুকে ‘শ্লেষ্মা’ জমলে এই অসুখ ছড়ায়।

তবে ঠান্ডা লাগলেই যে সবার নিউমোনিয়া হবে, এমনও নয়। বরং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা বেশি আক্রান্ত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আসাদের বর্তমানে নিউমোনিয়ার তুলনায় ডায়রিয়ার রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি এবং ডায়রিয়ার উপসর্গে ভুগছে অনেকে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। শুধু হাসপাতাল নয়, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও ঠান্ডাজনিত রোগী বেড়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঢোকে দুই বছরের এক শিশু। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বার বার দিচ্ছে কাশি। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়- একটি শয্যায় শিশুটিকে রেখে নেবুলাইজার দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশের বেডগুলোতেও একই দৃশ্য। কেউ জ্বরে কাঁপছে, কেউ দুর্বল হয়ে পড়েছে ডায়রিয়ায়।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বৃহৎ চমেক হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতকালীন রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি ইউনিটে ১৮১ জন শিশু ভর্তি ছিল। নতুন ভর্তি হয়েছে ৫২ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, তীব্র শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হয় বলে তিনি জানান। চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা জানান, সাধারণত শীতের শুরু ও শীতের শেষের দিকে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি থাকে। বর্তমানে নিউমোনিয়ার তুলনায় ডায়রিয়ার রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শীতে ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। বাচ্চারা শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ও এজমায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী দেড় হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ নিউমোনিয়া ও ৬ শতাংশ ডায়রিয়া রোগী ছিল। ডিসেম্বরে নিউমোনিয়ার রোগী কিছুটা কমলেও বর্তমানে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেশি।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বহির্বিভাগে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা বেশি আসছে। ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। তিনি বলেন, শীতে শিশুদের অসুখ হওয়া কমন হলেও তা কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

চমেক হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, শীতকালে কমন কোল্ড, ব্রংকিওলাইটিস, ভাইরাল ফ্লু ও নিউমোনিয়ার রোগী বাড়ে। সম্প্রতি সময়ে বিশেষ করে এজমা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ও চিকিৎসকের চেম্বারে রোগীর ভিড় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ডায়াবেটিস, কিডনি ও একাধিক রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ সহজে ছড়ায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, মাথা ঢেকে রাখা, কুসুম গরম পানি পান করানো এবং অহেতুক বাইরে না নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা লাগলে বা কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন করানো উচিত নয়। পাশাপাশি যাদের শ্বাসকষ্ট বা এজমার সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে ২ বছরের বেশি বয়সী শিশু ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যালী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যাল

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: “একসাথে হাত ধরি, গ্লুকোমা মুক্ত বিশ্ব গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন করছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার পাহাড়তলীস্থ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় র‌্যালীর উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম। তিনি বলেন, গ্লুুকোমা চোখের নীরব ঘাতক রোগ। বিরাট জনগোষ্ঠী গ্লুুকোমা রোগের নামই শোনেননি। গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল রোগ, ধীরে ধীরে দৃষ্টি কমে যায়। এমনকি এক সময় রোগী অন্ধত্ববরণ করতে বাধ্য হয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই গ্লুকোমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, প্রফেসর ডা. জেসমিন আহমেদ, কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন, ডা. কাজী তাহমিনা আক্তার. ডা. ফারজানা আক্তার চৌধুরী, ডা. এ এস এম মাহাবুবুল আলম, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া,ডা. সুইটি বড়ুয়া, ডা. আমিনুর রহমান, ডা. শেলী বিশ্বাস, ডা. মো. ইফতেখার শামীম, ডা. মৌসুমী চৌধুরী প্রমূখ।

এর আগে সকাল ৮টায় ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে চোখের গ্লুকোমা নির্ণয় ও প্রতিরোধের বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম, মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন প্রমূখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লুকোমা বিভাগের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর। সেমিনারে বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ মারাত্মক দৃষ্টিনাশী রোগ গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়। শতকরা ৫০ জন লোক জানেন না তার গ্লুকোমা রোগ আছে। বিশেষ করে উপসর্গ থাকে না বলে বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগীই বুঝতে পারেন না এর উপস্থিতি। তুষের আগুনের মতো ভেতরে ভেতরে নষ্ট করে দেয় স্নায়ুতন্ত্র। বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগী আসেন অন্ধত্বের কাছাকাছি সময়ে। তখন বেশি কিছু করার থাকে না। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্লুকোমা শনাক্ত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নীরবে চোখকে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায় বলে গ্লুকোমাকে নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ উল্লেখ করে সেমিনারে আরো বলা হয়, গ্লুকোমা রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মতো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে গ্লুকোমা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্লুুুকোমা রোগ সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া সাপ্তাহব্যাপী কর্মসূচীতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের গ্লুুকোমা রোগ সম্পর্কে অবগত করছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ