আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

পটিয়ার ঐতিহাসিক কালো মসজিদ: ঈমান, অলৌকিকতা ও এক বিস্ময়কর ইতিহাস।

ইমরান হোসেন মুন্না

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এক সময় এই জনপদে নেমে এসেছিল এক ভয়ংকর বিপর্যয়—বসন্ত রোগ। চারদিকে তখন কেবল আতঙ্ক, কান্না আর অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস। চিকিৎসাব্যবস্থা বলতে তেমন কিছুই ছিল না। মৃত্যু আর জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো তখন তাকিয়ে ছিল একমাত্র আল্লাহর রহমতের দিকে।কিন্তু প্রশ্ন ছিল—এই ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তির পথ কোথায়?

দিকনির্দেশনা খুঁজতে এলাকার ধার্মিক মানুষগুলো ছুটে যান হযরত আবুল খায়ের সুলতানপুরী (রহ.)-এর দরবারে। তিনি তখন এক অবাক করা কথা বলেন—
“তোমাদের পাশেই একজন আল্লাহর ওলি রয়েছেন। তাঁর শরণাপন্ন হও। আল্লাহর দয়ায় এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে।”

এই কথাই যেন বদলে দেয় পুরো জনপদের ভাগ্য। স্থানীয় মানুষজন ছুটে যান হযরত মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর দরবারে। আর আশ্চর্যের বিষয়—আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে সেই ভয়াবহ বসন্ত রোগ পুরোপুরি মিলিয়ে যায়।
এরপর থেকেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে হযরত মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর অলৌকিক খ্যাতি। জনশ্রুতি আছে, তিনি আরব দেশ থেকে এই অঞ্চলে আগমন করেন পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের মহৎ উদ্দেশ্যে। আজও তাঁর মাজার ঘিরে মানুষের অগাধ ভক্তি, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অটুট।

🛕 যে মসজিদ জন্ম নিয়েছিল প্রয়োজন থেকে, টিকে আছে বিশ্বাসে

পটিয়া মূল শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কচুয়াই গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত “কালো মসজিদ” নামে। ইতিহাস ও জনশ্রুতি বলছে, প্রায় ২৫০ বছর আগে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদতের সুবিধার্থে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

সে সময় শ্রীমাই ব্রিজ এলাকা থেকে অলিরহাট পর্যন্ত আর কোনো মসজিদ ছিল না। দূরত্ব, কষ্ট আর প্রয়োজন—সবকিছুকে জয় করেই ঈমানদার মানুষের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে গড়ে ওঠে এই পবিত্র উপাসনালয়।

শুরুর দিকে মসজিদটি ছিল মাটি দিয়ে তৈরি, আর এর ওপর দেওয়া হতো আলকাতরার প্রলেপ। সেই প্রলেপের কারণেই মসজিদটি কালো রঙ ধারণ করে—আর তখন থেকেই এর নাম হয়ে যায় কালো মসজিদ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মাটির কাঠামো হারিয়ে যায়। ১৯৮০ সালের দিকে মসজিদের মাটির দেয়াল ভেঙে ইটের গাঁথুনিতে রূপান্তর করা হয়। আজ ঐতিহ্যের স্মৃতি ধরে রাখতে মসজিদের দেয়ালে লাগানো হয়েছে কালো রঙের আধুনিক টাইলস—যেন অতীত আর বর্তমান এক সুতোয় বাঁধা।

🌙 মসজিদ, মাজার ও দ্বীন শিক্ষার এক পবিত্র কেন্দ্র

বর্তমানে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহসহ মোট প্রায় ৮০ শতক জমির উপর এই ধর্মীয় কমপ্লেক্স বিস্তৃত। এর মধ্যে মূল মসজিদটি রয়েছে প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর।
মসজিদের পাশেই অবস্থিত হযরত শাহ মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর মাজার শরীফ—যেখানে প্রতিদিন ভক্তরা এসে দোয়া, জিয়ারত ও আল্লাহর নিকট প্রার্থনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে বর্তমানে এতিমখানা ও হিফজখানা নির্মাণাধীন, যা ভবিষ্যতে দ্বীন শিক্ষার নতুন আলো ছড়াবে, ইনশাআল্লাহ।

🤲 আজও কেন মানুষ ছুটে আসে কালো মসজিদে?

আজও এই ঐতিহাসিক কালো মসজিদ ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি জুমার দিন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লি এখানে এসে ইবাদতে শরিক হন। পাশাপাশি হযরত মাসুম আউলিয়া (রহ.)-এর মাজারে জিয়ারত করে অনেকেই খুঁজে নেন হৃদয়ের প্রশান্তি, দোয়ার কবুলিয়াত ও আত্মিক সান্ত্বনা।

মাটির দেয়াল থেকে ইটের দালানে রূপান্তরিত হলেও, এই কালো মসজিদ আজও বহন করে চলেছে তার ঈমানি ইতিহাস, অলীদের স্মৃতি ও শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বাসের গল্প।

মনে হয়—এটি যেন একটি পুরোনো, অমূল্য গ্রন্থ; যার মলাট আধুনিক হলেও ভেতরের বাণী, বিশ্বাস আর ইতিহাস আজও অমলিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরে এলেন নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen এর নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরে আগমনের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জন সমূহ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

তিনি বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নী দূর্ঘটনা ও ডিজিটাইজেশনে বাধাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলা করে বন্দরের নানা যুগোপযুগি সংস্কার করেছেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন এরাউন্ড টাইম হ্রাস, ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি, সর্বাধিক মুনাফা অর্জন, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, ডিজিটাইজেশন, ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস এর জিরো অবজারভেশন প্রভৃতি বিষয়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি প্রতিনিধিদলকে আরো জানান যে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরটি বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল ও প্রতিবেশী দেশের মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ বাণিজ্যি হাবে পরিনত হবে যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে । এতে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে । চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানীকৃত রেফার কন্টেইনার সংরক্ষনে কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের ব্যাপারে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তাছাড়া বন্দরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকা থাকার কারনে বন্দরে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মর্মে মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বন্দরকে আরো দক্ষ, অধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাস্ট্র থেকে রপ্তানীকৃত পণ্য খালাস কাজে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিত কামনা করেন। সৌজন্য সাক্ষাতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধিদলেরে Micheal Pennell, Economic Unit Chief, Paul Frost, Commercial Counselor, Firoze Ahmed, Political Specialist, Asif Ahmed, Economic Specialist চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ ওমর ফারুক ও সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলাসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ