আজঃ শনিবার ১৩ জুন, ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় সাংবাদিক নুরুল আজম আটক।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক নুরুল আজমকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে খুলশী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদক কারবারিদের সঙ্গে আর্থিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট যোগসাজশের কারণেই একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের সংবাদকর্মীকে দমন করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং একটি পুরোনো মামলায় সন্দিগ্ধ দেখিয়ে সাংবাদিক নুরুল আজমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের দাবি, ৫ আগস্টের পুলিশ লাইন ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; তবুও সেই মামলাকেই ভিত্তি করে তাকে আটক দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৯ তারিখ ভোর ছয়টার দিকে খুলশী থানার এসআই আনোয়ার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নুরুল আজমের বাসায় উপস্থিত হন। ভিডিওতে তাকে ফোনে বিএনপির একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর ‘ওসি সাহেব কথা বলবেন’এই অজুহাতে নুরুল আজমকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন তিনি। প্রায় ১৭ মিনিটের ওই ভিডিওতে বারবার বিনা ওয়ারেন্টে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা, বক্তব্যে অসংগতি এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি স্পষ্ট। একাধিকবার এসআই আনোয়ারকে নুরুল আজমের বেডরুমে ঢুকতে দেখা যায়। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী, কোলে তিন বছরের শিশু কন্যা ও বৃদ্ধা মা। পরিবারের অনুরোধ উপেক্ষা করে তাকে থানায় নেওয়ার ঘটনায় শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ার দৃশ্যও ভিডিওতে ধরা পড়ে। ‘ওসি ডাকছে’ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের প্রশ্ন—ভোরবেলায় এভাবে থানার ওসি কেন একজন সাংবাদিককে ডাকবেন? সচেতন নাগরিকদের মতে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এ ধরনের তৎপরতা সন্দেহজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এসআই আনোয়ারের আচরণকে ‘অপেশাদার’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেন। পুরোনো স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে একটি মাদকবিরোধী মানববন্ধনে রাজনৈতিক ব্যানারে উপস্থিত থাকার ঘটনাকে পুঁজি করে নুরুল আজমকে আটক রাখা হয়। অথচ পরবর্তী সময়ে তিনিই নিয়মিতভাবে খুলশী এলাকায় মাদক কারবার, অবৈধ হোটেল ও রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এসব সংবাদে ক্ষুব্ধ মাদক কারবারিরা পুলিশের একটি অংশের সঙ্গে আঁতাত করে তাকে ‘টার্গেট’ করেছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খুলশী থানায় প্রতি মাসে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। নুরুল আজম এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে দমন করতেই এই মামলা। সূত্র মতে, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনকারী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে এসআই আনোয়ার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে খুলশী থানার ওসি জাহেদুল ইসলামও মামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওসির বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একজন সাংবাদিককে হয়রানি করা এবং ভোরে তার বাসায় পুলিশ পাঠানো ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। তাদের মতে, “রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়।” সাংবাদিক নেতারা একে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নুরুল আজমের বিরুদ্ধে আনা মামলাটি ‘হালকা মাত্রার’ এবং রাজনৈতিক একটি দলের চাপ থাকায় তাকে মামলার আওতায় আনা হয়েছে। তবে সাংবাদিক হিসেবে তার সম্মান বিবেচনায় গুরুতর ধারা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়।

এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক চাপের কথা স্বীকার করাই প্রমাণ করে মামলাটি স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়ায় হয়নি। রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে মামলা হলে তা পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “আইনের রক্ষকরা যখন নিজেরাই আইন ভাঙেন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। আজ একজন সাংবাদিক, কাল যে কেউ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এডিসের প্রজনন দুর্গ খুঁজতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এছাড়া গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের মূলে ছিল এডিস মশার অস্বাভাবিক প্রজনন।

বিগত বছরের সেই বিষাদ অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবার ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মশার বংশবিস্তার চিহ্নিত করতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিনব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে জরিপকারী দলের সদস্যরা কোতোয়ালীর পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, নন্দনকাননসহ আশপাশের এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বায়েজিদ এলাকার শেরশাহ ও আশপাশের এলাকাতেও মশার লার্ভা শনাক্তে ল্যাব-নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে কাজির দেউড়ি, ব্যাটারি গলি ও বাগমনিরাম এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনেও পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই বিশেষ টিম।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুন থেকে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কীটতাত্ত্বিকদের বিশেষ টিম এই জরিপ পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জরিপের মাধ্যমে নগরের কোন কোন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব (ব্রেটো ইনডেক্স) বেশি, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কাজ শুরু করেছ।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর (২০২৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে, সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে পাওয়া গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান (১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আর চলতি জুনের প্রথম ১১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন। আক্রান্তের এই চিত্র গত বছরের তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই নিশ্চিন্ত হতে নিষেধ করছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে যেখানে আক্রান্ত ছিল ২৮৩ জন, জুলাইয়ে তা এক লাফে পৌঁছায় ২ হাজার ৩১১ জনে। একইভাবে ২০২৫ সালের জুনে ১৭৬ জনের বিপরীতে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় ৪৩০ জন। যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে।

চিকিৎসকদের মতে, জুলাই মাস থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর আসল ‘পিক সিজন’ বা বিপজ্জনক সময় শুরু হয়। আর সেই হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য নগরের এডিসের প্রজনন দুর্গগুলো খুঁজতে জুনের আগাম এই জরিপ।

এদিকে, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ করে ‘এডিসের হটস্পট’ বা রেড জোনগুলো চিহ্নিত করে দিলেও, মশক নিধনের মূল দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এই ‘বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন’ বা ম্যাপ ব্যবহার করে চসিক এবার কতটা সফলভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে চলতি বছরের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ইতিমধ্যে মশক নিধনের জন্য বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপের ফলাফল হাতে আসলে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যক্রম চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যে অস্বাভাবিক প্রজননের কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল, এবার মৌসুমের শুরুতেই মাঠপর্যায়ে জরিপ ও লার্ভা চিহ্নিতকরণের এই উদ্যোগ এবং চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শতভাগ কার্যকর হলে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল। এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ