আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

সত্যের মৃত্যু নেই।

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানের নাম। জীবনযাপনের সকল বিষয় ইসলামে বিধৃত আছে। তাই সকল মুসলমান ইসলামের জীবন বিধানের অনুসরণ করা একান্ত কর্তব্য। আমরা সকলেই জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করতে চাই। এতে সফল হতে হলে সুন্দর নিয়ম নীতিগুলোরই অনুসরণ একান্ত প্রয়োজন। এ সকল সুন্দর নিয়মগুলো অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে দায়িত্ব অবহেলা, ওয়াদা খেলাপ, নানা ধরনের খারাপ কাজে সমাজ আজ পিষ্ট হচ্ছে। মানুষের কাছে সত্যবাদিতা লোপ পাচ্ছে।

মানুষের কাছে মনুষ্যত্বের গুণাবলী না থাকলে সে কীভাবে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হতে পারে! সত্যবাদী ন্যায়পরায়ণ মানুষই সমাজে মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে জীবন অতিবাহিত করতে পারে। মহৎ মানুষেরা যুগে যুগে সত্যের সাধনায় জীবনকে হাসিমুখে করেছে উৎসর্গ, নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিং-হোয়ের বিখ্যাত কথা, ‘মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না’। পৃথিবীর অনেক মহামানবকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু তাদের আদর্শকে হত্যা করা যায়নি। সত্যের মৃত্যু নেই, সত্য সত্যই থাকবে মহাপ্রলয়ের শেষ রজনী পর্যন্ত।

সমাজে সুবিধাবাদী, স্বার্থপর মানুষরাই মিথ্যার কাছে নিজের বিবেককে বন্দী রেখে ফায়দা গ্রহণ করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বান সত্যবাদীরা সমাজে সুখী থাকে। পবিত্র কোরানে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং পুণ্যকাজ করে তাদেরকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারে’। (সূরা মায়িদা, আয়াতঃ ৯)

সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন চলা এক বড় কঠিন জিহাদ। এই জিহাদে বিজয়ী হতে কঠোর সাধনার প্রয়োজন। সত্য ও শান্তির জন্য প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল-আমিন’ উপাধী অর্জন করেছিলেন। মিথ্যাকে চরমভাবে ঘৃণা করতেন তিনি। মিথ্যাবাদীরাই সব পাপাচার করতে পারে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘মিথা সকল গুনাহের মূল’। সত্যের শক্তি অসীম। সত্যের দ্বারা শত্রুকেও পরাজিত করা যায়। মিথ্যা চর্চায় মানুষের মন ছোট হয়ে যায়। কোন সমাজ ও দেশের উন্নতি করতে হলে সততা পূর্বশর্ত।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন মানুষের রিজিক ৯০ ভাগ আসে ব্যবসার মাধ্যমে। ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা মহাশুণ্যের কাজ। তাই মহানবীজী ইরশাদ করেছেন, ‘যে সততা ও আমানত দারীর সাথে ব্যবসা করেন, তিনি কেয়ামতের দিন নবী,সিদ্দিক ও শহীদানদের সাথে থাকবে’।হালাল রুজি পরিবারের জন্য আল্লাহর পথে জিহাদের সমতুল্য। মুনাফালোভী, কালোবাজারি, মজুদদারির মাধ্যমে অধিক অর্থ উপার্জন করে রাতারাতি ধনী হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। তাকওয়া বা খোদাভীতি থাকলে মানুষ এ সকল অপকর্মে লিপ্ত হতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকে নিশ্চয় জান্নাতে হবে তাঁর অবস্থান’। (সূরাঃ নাযিয়াত, আয়াত: ৪০-৪১)
বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ইবনে সিনা বলেছেন, ‘আল্লাহর ভয় সকল ভয় হতে মানুষকে মুক্তি দেয়’।
সততার মাধ্যমে আত্মোন্নয়ন ঘটে। সমাজকে সুন্দর করতে হলে সত্যের চেতনায় দেশপ্রেমিক হতে হবে। সৎ কাজের নির্দেশ দেওয়া আল্লাহর হুকুম। পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে,নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, সৎকাজের আদেশ প্রদান এবং অসৎ কাজে নিষেধ কর’। (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৭)

পরিবারে সৎকর্ম ও সততার শিক্ষা শিশুদের প্রদান না করলে তারা জীবনে সত্যবাদী কখনো হতে পারবে না। সে জন্য প্রয়োজন পরিবার হতে সত্যের সাধনার চর্চা করা।সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনের কারণে অনেক মানুষ আল্লাহর কামিল বান্দায় পরিণত হয়েছে। গাউসে পাক আবদুল কাদের জিলানী (র.) মায়ের নির্দেশ অনুসারে ডাকাতের কাছে সত্য কথা বলার কারণে ডাকাতরা তাঁর ভক্তে পরিণত হয়েছি। সত্যবাদীরা অঙ্গীকার রক্ষা করে চলেন। আমানত খেয়ানত করে না। প্রিয় নবী (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তির নিকট আমানতদারী নেই তার ঈমানও নেই। ‘যে অঙ্গীকার রক্ষা না করে তার কাছে ধর্ম নেই।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা প্রতিশ্রুতি পালন করবে, প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত চাওয়া হবে’। (সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত: ৩৪)মহানবী (দ.)’র নবুয়ত প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে আবদুল্লাহ ইবনে আবু আসমা ব্যবসায়িক কাজে নবীজীকে একস্থানে অবস্থান করতে বলে সেখান হতে তিনি চলে গেলেন। পুনরায় তিনি সেখানে ফিরে আসতে ভুলে গেলেন। তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ফিরে এসে দেখলেন মহানবী (দ.) প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য সেখানে বসে আছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ইসলামের নবীর মহান শিক্ষা। সে শিক্ষা আত্মস্থ করতে ব্যর্থ হচ্ছি বলে আজ মুসলমান সমাজের অধঃগতি। মুসলমানরা সত্যবাদী প্রতিশ্রুতিশীল নবীর উম্মাত। প্রতিশ্রুতি প্রদান করলে তা রক্ষা করা মুসলমানের জন‍্য কর্তব‍্য। যে অঙ্গীকার পালন করা সম্ভব নয় সে অঙ্গীকার প্রদান করা ইসলাম অনুমোদন করে না। অঙ্গীকার ভঙ্গ করা মোনাফিকদের কাজ। মোনাফিকদের স্থান জাহান্নামের নিম্নস্তরে।

আল্লাহর রাসুল (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘মোনাফিকের পরিচয় তিনটি (১) মিথ্যা কথা বলা (২) অঙ্গীকার ভঙ্গ করা (৩) আমানত খেয়ানত করা।সত্যবাদী মুসলমানের আচার আচরণে সমাজ জাতি রাষ্ট্রের সর্বোত্তম কল্যাণ সাধিত হয়। সত্যবাদীরা স্বীয় পরিবারেও উত্তম ব্যবহার করে থাকে। প্রিয় নবী (দ.) বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করে সে সর্বোত্তম। যে পরিবারের কাছে উত্তম সে আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির কাছে উত্তম। তিনি ইরশাদ করেছেন, সে প্রকৃত মোমিন নয়, যে নিজের জন্য যা কামনা করে তা অপর ভাইয়ের জন্য কামনা করে না’।

নবীজী আরো ইরশাদ করেছেন, ‘নিকৃষ্ট কারা তা বলে দিব কি? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ’। তিনি বললেন, যারা নিজে খায়, দাস-দাসীদের বেত্রাঘাত করে এবং কোন মানুষকে কিছু দান করে না’। তিনি এ কথাও বলেছেন, ‘মুসলমানদের ঘর সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘর হলো যে ঘরে এতিম রয়েছে। (সোবহানাল্লাহ) আল্লাহ রাসুলের সত্যের পথ অনুসরণ করে অন্যায় অবিচার হতে মুক্ত থেকে প্রকৃত মুসলমান হতে পারলে সমাজ সুন্দর হতে বাধ্য। আজ যখন দেখি মুসলমান হয়ে মোনাফেকী, মীরজাফরী, বেঈমানী করছে তখন ব্যথিত চিত্তে ভাবি আমাদের এমন হলো কেন। আমরা তো সুন্দরতম মহানবীর শ্রেষ্ঠতম উম্মত। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে চাই, ‘ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ তোমার দেখানো পথ।’
লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ