আজঃ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী আল্লামা তাহেরীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে তথ্য সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ।

স ম জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বিবৃতি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত ও বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত মোমবাতি প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রিমহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট উক্ত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি সকালে প্রতিবাদি বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামার ৬ নং অনুচ্ছেদের “আয়ের উৎস” শিরোনামের ৪ নং ক্রমিকে শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত/সুদ—এই পাঁচটি খাত একত্রে উল্লেখ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উক্ত ফরমে আলাদা আলাদা খাত নির্বাচন বা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার কোনো সুযোগ নেই। অতএব, উল্লিখিত খাতসমূহের যেকোনো একটি বা একাধিক উৎস থেকে আয় থাকলে নির্ধারিত ঘরে সম্মিলিত মোট অংক উল্লেখ করাই আইনসম্মত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।

আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী উক্ত ঘরে ২২,৮৯২ টাকা আয় প্রদর্শন করেছেন, যা শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা ব্যাংক আমানত থেকে প্রাপ্ত আয়ও হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই, নির্ভরযোগ্য দলিল বা আইনসম্মত অনুসন্ধান ব্যতিরেকে শুধুমাত্র “সুদ” শব্দটিকে আলাদা করে উপস্থাপন করে এটিকে সুদের আয় হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণরূপে অনুমাননির্ভর, ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষপ্রসূত অপপ্রচার—যা প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আইনগতভাবে আরও উল্লেখযোগ্য যে, যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের অ্যাকাউন্টে আমানত বিদ্যমান থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম অনুযায়ী কোথাও “মুনাফা”, কোথাও “ইন্টারেস্ট” অথবা কোথাও “সুদ” নামে একটি নির্দিষ্ট অংক যুক্ত হয়, যা একটি সাধারণ ও প্রচলিত আর্থিক বাস্তবতা। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে রঙিন ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ও ব্যক্তিকে হেয় করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি তথ্য সন্ত্রাসের শামিল।

আরও লক্ষণীয় যে, একই নির্বাচনী হলফনামার একই কলামে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু প্রার্থীর আয়ের তথ্য বিদ্যমান রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে অন্য একটি ইসলামী দলের প্রার্থী কর্তৃক উক্ত কলামে ৬৩,৪৭১ টাকা আয় প্রদর্শিত হলেও তাঁর ক্ষেত্রে কোনো সংবাদমাধ্যম কর্তৃক প্রশ্নবিদ্ধ, বিভ্রান্তিকর বা আক্রমণাত্মক উপস্থাপনা করা হয়নি। পক্ষান্তরে, কেবলমাত্র আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ক্ষেত্রেই শব্দের অপব্যবহার ও তথ্যের বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি বিশেষ বর্ণনা নির্মাণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এর পেছনে কারা, কী উদ্দেশ্যে ও কোন স্বার্থে সক্রিয়—তা জাতি জানতে চায়।

আমরা আইনগতভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, নির্বাচনী হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন, অসম্পূর্ণ বা বাদ পড়লে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। সুতরাং আইন মেনে নির্ধারিত ঘরে আয় উল্লেখ করাকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত, বিভ্রান্তিকর এবং আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

বর্তমানে উক্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সংবাদপত্র পরিষদ আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত বিধান এবং সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে সতর্ক করে দিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে চায়—সত্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, শব্দ ও তথ্য সন্ত্রাস এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সাথে দুই প্রার্থীর ঐক্যের ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম- ২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থীর সাথে আরেক দুই প্রার্থী ঐক্যের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার এক বৈঠকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর, জনতার দল মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী (কলম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার (হরিণ) আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে নির্বাচনে কাজ করার ঘোষণা দেন।

ঐক্যের ঘোষণাকালে সরওয়ার আলমগীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিগুলোর জাতীয় ঐক্যের সূচনালগ্নে আমরা ফটিকছড়িতে তিন প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। অন্য প্রার্থীরাও অচিরেই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে আশা করি। তিনি অভিযোগ করেন, এক প্রার্থীর পক্ষে আগাম সিলমোহর দেওয়া ব্যালট পেপার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে তারা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জনতার দল মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী বলেন, দদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিগুলোর ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি গড়ার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও উন্নয়নের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব।

জানা গেছে, এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নূরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপি মনোনীত সরওয়ার আলমগীর (ধানের শীষ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (একতারা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান তানজিম (ট্রাক), জনতা পার্টির গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির করিম (ফুটবল) ও জিন্নাত আক্তার (হরিণ)।

শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, এই নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের-তারেক রহমান।।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের মানুষ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ভোটের হারানো দিনের অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছেন মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগের সময় এসেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন।


শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তারেক রহমান বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।

তিনি বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে গড়তে চাই, এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে নারীরা সাবলম্বী হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ-সার-ফসলের বীজ পাবেন। ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন তিনি। 

দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।

বক্তব্যে অঞ্চলটির উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে আইটি সেক্টরেও হাব তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজের দাবি বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারেও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি তিনি।

পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যতো দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।ফ্যাসিষ্ট সরকার নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, জনগণের স্বার্থ দেখেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করে ঘরে বসে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

সমাবেশে উপস্থিত হাজারও জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশটি সবার, বিএনপির শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি, যেখানে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোটি মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করতে চায় বিএনপি।

তিনি বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে,  ধর্মের ভিত্তিতে নয়। এসময় নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে  দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। 

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।ধানের শীষের কোনো বিকল্প নাই মন্তব্য করেন মহাসচিব বলেন, ধানের শীষের জয়ের মাধ্যমে দেশকে বাঁচাবেন তারেক রহমান।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ