আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানের সময় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছে। নিহত র‌্যাব কর্মকর্তা ডিএডি মো. মোতালেব বিজিবি সদস্য।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযানৌমো. সিরাজুল ইসলাম বলেন- র‌্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিপূর্বে একাধিকবার সেখানে অভিযান পরিচালনার সময় সশস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। আলীনগর বহুমুখী সমিতির চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক ঐ এলাকার সনৃত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়- এই দুই সংগঠনের সদস্য প্রায় ৩০ হাজার। দখল করা পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, প্লট বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় সক্রিয় রয়েছে। তারা এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও তাদের প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি
চট্টগ্রামে মেয়রকে পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দিল এনসিপি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জানাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে এ দাবি জানান হয়। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারী’কে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ সোমবার বিকেলে নগরের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগরের আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, আমরা তাকে সম্মান করি। তিনি আদালতের রায়ে মেয়র হয়েছেন। আমরা চাই, তিনি জনগণের রায়ে মেয়র হোন। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন হয়েছিল, সেই হিসেবে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এর মেয়াদ শেষ হবে। আমরা দাবি করছি, এই সময়ের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়র পদে থেকে ডা. শাহাদাত বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশের সমন্বয় করছেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনে আবু সুফিয়ানের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী তিনি এটা করতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

লিখিত বক্তব্যে এরফানুল হক বলেন, মেয়র পদে বহাল থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালালে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে না। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা প্রয়োজন।
এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপি নেতারা বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ তালিকা দিয়ে এলাকা ত্যাগের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা রহস্যজনক। তালিকায় জুলাই আন্দোলনের হত্যাকারী, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনজীবী হত্যা মামলার আসামিদের নাম থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে শুধু এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘পুলিশ যদি জানেই এরা সন্ত্রাসী, তবে তাদের গ্রেপ্তার না করে কেন সতর্ক করা হচ্ছে? তারা চট্টগ্রামে থাকতে পারবে না মানে কি অন্য জেলায় থাকতে পারবে? এই দায়সারা বিজ্ঞপ্তি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’ অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা জোবাইর হোছাইন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ার তরকারি ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ছোটন চেয়ারম্যান মানুষের দ্বারে দ্বারে, দ্বীপ জুড়ে প্রশংসা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ বাজারের ফারাজ, পিতা- আবুল কাসেম, দক্ষিণ মগডেইল এক অসহায় তরকারি ব্যবসায়ী পেকুয়া সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন। তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন বাজার কমিটির সেক্রেটারি জাফর আলম কন্ট্রাক্টর ও সদস্যবৃন্দ।

দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা ওই ব্যবসায়ী সম্প্রতি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি ও আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগছেন ।এ অবস্থায় তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে ছোটন চেয়ারম্যান বড়ঘোপ বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ব্যবসায়ীকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ছোটন চেয়ারম্যান বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে তিনি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।” তরকারি ব্যবসায়ী ফারাজের চিকিৎসার জন্য মোট ২,২৫,২৫০/= টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। ওই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। সহায়তাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি বড়ঘোপ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে যারা আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়রা ছোটন চেয়ারম্যানের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, জনপ্রতিনিধির এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অসহায় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করবে।এদিকে, ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতার জন্য ছোটন চেয়ারম্যানসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ