আজঃ শনিবার ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে খালাসের অপেক্ষায় ২১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রমজান মাসের চাহিদা মেটাতে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য খালাসে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত গুদাম না পাওয়া এবং আমদানি বেড়ে যাওয়ায় লাইটার জাহাজের চাহিদাও বেশি থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত ৪৬টি জাহাজে মোট ভোগ্যপণ্যের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত এসব জাহাজ থেকে ১১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য খালাস করা হয়েছে।

খালাসের অপেক্ষায় ছিল প্রায় ১২ লাখ টন। এছাড়া ২৫টি গমবোঝাই জাহাজে আমদানি হয় সাড়ে ১৩ লাখ টন গম। খালাস হয়েছে ৬ লাখ টন। ছোলা, মসুর ডাল ও মটর ডালবোঝাই ৭টি জাহাজে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার টন, খালাস হয়েছে দেড় লাখ টন।
৯টি জাহাজে আছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার টন তেলবীজ, যার মধ্যে খালাস হয়েছে তিন লাখ টন।চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বড় জাহাজ থেকে গড়ে ৫০-৬০ হাজার টন ভোগ্যপণ্য লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করার পর বিভিন্ন ঘাটে নিয়ে গিয়ে খালাস করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত গুদাম নেই। এ কারণে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে সময় লাগছে।


বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (ডব্লিউটিসিসি) এর তথ্যমতে, দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন ঘাটে পণ্য খালাসের জন্য আটকে আছে ২৬৫টি লাইটার জাহাজ। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজ ১২২টি। আগে প্রায় ১২০০টি লাইটার জাহাজ পণ্য বোঝাই করতো। এখন জাহাজের সংখ্যা কমে ১ হাজার ২২টিতে এসেছে।এমএসটি মেরিন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন জানান, অনেক আমদানিকারকের গুদাম না থাকায় তারা লাইটার জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস করতে পারছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর করা হবে চসিককে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শপিং কমপ্লেক্স, আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার দামপাড়া চসিক রেস্টহাউজে বাংলাদেশ মিউনিসিপল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চসিকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে চসিকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামগত উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক-মানববর্জ্য রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে পরিবেশের মান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে টাইগারপাস থেকে টানেল, অক্সিজেন থেকে মুরাদপুরসহ নগরীর প্রধান কিছু সড়ককে ফুটপাথ ও ড্রেনসহ আইকনিকভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকার আয়বর্ধক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের অর্থায়নের ১৮ শতাংশ ঋণ, ৭২ শতাংশ গ্রান্ট এবং ১০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়ন থেকে হবে।এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নগর ভবন, বিবিরহাট কিচেন মার্কেটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন চিহ্নিত করা হয়েছে।

শনিবার বিএমডিএফের প্রতিনিধি দল এসব স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। অতীতেও বিএমডিএফের অর্থায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে ফইল্লাতলী কিচেন মার্কেট উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতেও বিএমডিএফের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, টেকসই ও আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মতবিনিময় সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দ্রুত নগরায়ন, শিল্প সম্প্রসারণ, বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে নগর অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি চট্টগ্রামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ অপরিহার্য।

মেয়র আরও বলেন, বিদ্যমান নিজস্ব রাজস্ব ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) দিয়ে এই বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষিতে বিএমডিএফের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, সহ-অর্থায়ন এবং ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং মডেলের মাধ্যমে কৌশলগত নগর বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে এগুলো একদিকে নাগরিক সেবার মান উন্নত করবে, অন্যদিকে রাজস্ব-বর্ধনশীল প্রকল্প হিসেবে চসিকের আয় বাড়াবে এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করবে। সভায় বিএমডিএফ প্রতিনিধি দল মেয়রকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষায়িত আর্থিক সংস্থা, যা পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর নগর উন্নয়ন কার্যক্রমকে সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য টেকসই ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই বিএমডিএফের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিনিধি দলটি আরও জানায়, বিএমডিএফ সহজ শর্তে ঋণ, অনুদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কসহ বিভিন্ন নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা ও আর্থিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

বিএমডিএফের তহবিল মূলত বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে আসে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মাহমুদ শাফকাত আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

১১৮৮ টন ভারতীয় চাল সোনা মসজিদ বন্দর দিয়ে আমদানি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আবারও চাল আমদানি শুরু হয়েছে। ভারত থেকে ১ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল সোনা মসজিদ বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পানামা সোনা মসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান।

তিনি জানান-আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর গত ২৪ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন চাল বন্দরে প্রবেশ করেছে।
এদিকে সোনা মসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান-গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এ বন্দর দিয়ে ৫৬৩ দশমিক ৭ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ