এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপিপন্থী শ্রমিক সংগঠনের ডাকা আট ঘন্টার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ এ কর্মসূচির ডাক দেয়। ধর্মঘটের সমর্থনে শ্রমিক-কর্মচারিরা বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ধর্মঘটে বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য নামানো এবং জাহাজে ওঠানোর কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। ধর্মঘট চলাকালে বন্দর থেকে খালাস হওয়া কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন এবং জাহাজে তোলার জন্য কনটেইনার পরিবহন ব্যাহত হয়।

জানা গেছে, শনিবার সকালের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রমে বন্দরের কর্মচারি ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। শুধু এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রম চলে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের ডাকা কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন। আশা করি, সরকার তাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ও পূর্ণ সহযোগিতা ঘোষণা করেছে। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল শ্রমিক-কর্মচারিদের এ কর্মসূচিতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্কপ। এছাড়া স্কপের পক্ষ থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।













