আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে মানবিক ডিসির সহায়তায় এগিয়ে গেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর শিক্ষার পথ ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার খটেশ্বর গ্রামের রিকশাচালক আমজাদ ফকির ও গৃহকর্মী ছামেনা বেগম দম্পত্তির কন্যা মাফিয়া খাতুন। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তার স্বপ্ন দেখার চোখ কখনো অন্ধ হয়নি। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও মাফিয়া খাতুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে ভর্তিও অপেক্ষায়। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন আজ থমকে যাওয়ার মুখে। মাফিয়ার বাবা আমজাদ ফকির রিকশা চালিয়ে আর মা ছামেনা বেগম বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন। ২০২০ সালে আমজাদের মৃত্যুর পর পরিবারটির জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। একা ছামেনার পক্ষে চার সন্তানের ভরণপোষণই হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব। সেখানে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন ছিল কল্পনাতীত। মাফিয়ার সংগ্রাম শুধু তার একার নয়। তার আরেক ভাই মোহাম্মদ আশিকও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আশিক বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি কলেজে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছে বলে জানিয়েছে পরিবার। সীমাহীন দারিদ্র্যের মাঝেও দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছেন মা ছামেনা বেগম। তবে একার আয়ে সেই স্বপ্ন টিকিয়ে রাখা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবু থেমে যাননি মাফিয়া। মানুষের কাছে ধার-দেনা করে কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু মাস্টার্সে ভর্তির ফি ও আনুষাঙ্গিক শিক্ষা ব্যয় জোগাড় করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠছিল না। কেবল অর্থাভাবে একজন মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে মাফিয়া বৃহস্পতিবার হাজির হন সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার কার্যালয়ে। সেখানে নিজের জীবনের করুণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মাফিয়ার কাহিনি শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,‘একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, তাও আবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন—টাকার অভাবে মাস্টার্স শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না, এটা জেলা প্রশাসক হিসেবে মেনে নেওয়া কষ্টকর।’
নির্বাচনী কাজে চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মাফিয়াকে কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। সরকারি নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও তার পাশে দাঁড়ান, যেন সে বুঝতে পারে-রাষ্ট্রঅসহায় মানুষের পাশেই থাকে।

মাফিয়া খাতুন জানান, তিনি বরিশালের এ.আর.এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাফিয়া। তিনি বলেন, ‘এত ব্যস্ততার মাঝেও ডিসি স্যার আমাকে সময় দিয়েছেন। উনি মানবিক না হলে নিশ্চয়ই আমার মতো মানুষের পাশে দাঁড়াতেন না।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে এক রাতে দুই কৃষকের সেচপাম্পের ৪ টি ট্রান্সফরমারের খোলস ফেলে ভেতরের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নির্মল দে’র ৩ টি ও শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক মাদল চৌধুরীর ১টি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ১টি বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পে মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী থাকলেও নেই ট্রান্সফরমার। আরেকটিতে ৩ টির মধ্যে ২টি ট্রান্সফরমার খুটিতে থাকলেও ১টি নাই। পৃথক দুটি স্থানে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস, নেই ভেতরের যন্ত্রাংশ।

ভুক্তভোগী ককৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ভারাম্বা খালের আমুচিয়া ও জৈষ্টপুরা অংশে দুটি মোটরচালিত বৈদ্যুতিক সেচপাম্প দিয়ে ওই এলাকার মনতলা কালি বিল, আন্ধার বিল ও জৈষ্টপুরা এলাকার কুমার গাতা বিলে অন্তত ২০০ কানি জমির চাষাবাদ করা হয়।

বোরো মৌসুম শেষ হলে প্রতি বছরের মতো গত এক মাস আগে ১৭/৫/২৬ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার নামিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এতোদিন ধরে না নামানোর কারণে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নির্মল দে ও মাদল চৌধুরী।

চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) স ম মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কাজের চাপে যথাসময়ে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামানো না হলেও চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কলকারখানার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহককে নিজ খরচে তা স্থাপন করার বিধান আছে। প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ধারণসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ