আজঃ বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় চরম অবহেলায় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের শ্মশান -জাতি ভেদে বৈষম্যের অভিযোগ।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া এলাকায় ডোম, মুচি ও মেথর গোত্র ভুক্ত নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জাতি ভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাধার কারণে তারা কেন্দ্রীয় শ্মশানে মরদেহ দাহের সুযোগ পান না। ফলে একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর পরেও মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিয়ারপাড়া এলাকার শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। শ্মশানের চারপাশে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল নেই, নেই স্থায়ী দাহস্থল কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দাহস্থল জুড়ে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দাহকাজ শেষে মরদেহের অবশিষ্টাংশ কিংবা মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ অনেক সময় কুকুর ও শেয়ালে টেনে নিয়ে যায়। এতে মৃতের স্বজনদের চরম মানসিক যন্ত্রণা ও অপমানের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়।

ভুক্তভোগীরা পরিবার গুলো জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা সামাজিক অবহেলা, পেশাগত বৈষম্য ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে আসছেন। জীবিত অবস্থায় নানা কষ্ট সহ্য করলেও মৃত্যুর পর অন্তত সম্মানজনক ও নিরাপদ শেষকৃত্যের প্রত্যাশা করেন তারা। কিন্তু বাস্তবে সেই ন্যূনতম মানবিক অধিকারও নিশ্চিত হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্চ বর্ণের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সামাজিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে ডোম, মুচি ও মেথর গোত্র ভুক্ত হিন্দুদের শ্মশান ব্যবহারে বাধা দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে শ্মশান উন্নয়ন কার্যক্রমেও তারা নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

তারা আরও জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেদনের পর সরকারিভাবে শ্মশান উন্নয়নের জন্য প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে একটি মহল তা আত্মসাৎ করেছে।

ভুক্তভোগী মতিলাল দাস বলেন, একই ধর্মের মানুষ হয়েও আমাদের মরদেহ উচ্চবর্ণের শ্মশানে নিতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে এই অনিরাপদ শ্মশানেই দাহ করতে হয় যেখানে ন্যূনতম পরিবেশ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু দাস বলেন, শ্মশানটি বহু বছর ধরে এমন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে দাহকাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা শুনলেও কোনো কাজ চোখে পড়েনি।

আরেক ভুক্তভোগী শুটকা দাস বলেন, জীবনভর অবহেলা সহ্য করেছি। মৃত্যুর পর অন্তত সম্মান পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখানেও আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের সভাপতি রঞ্জন দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলার মধ্যে আছি। শ্মশানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দাহের পর মরদেহের অবশিষ্টাংশ পশুতে টেনে নিয়ে যায়। জীবিত অবস্থায় বৈষম্য সহ্য করলেও মৃত্যুর পর অন্তত মরদেহের সম্মান চাই।

শ্মশানের সাধারণ সম্পাদক মানিক দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ডোম, মুচি ও মেথর মানুষ সমাজের অবহেলিত পেশায় কাজ করে জীবন চালাই। জীবিত অবস্থায় অবহেলা সহ্য করেই বেঁচে আছি। কিন্তু মৃত্যুর পরেও যদি মরদেহের মর্যাদা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ কিসের জন্য?

অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় শ্মশানের সভাপতি সংগীত কুমার পাল বলেন, মরদেহ দাহে বাধা দেওয়া হয় এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দের বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম বা বৈষম্যের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছবি: ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া এলাকায় নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত শ্মশান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও উন্নয়নহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে বর্নিল সাজে পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ উদযাপন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বর্নিল সাজে উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ সন।মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩ সনের সূচনাকে স্বাগত জানান মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী,শিক্ষক ও কর্মচারীরা।সকালে অত্র কলেজের উদ্যোগে একটি আনন্দ পদ যাত্রা বের হয়। পদ যাত্রাটি অত্র কলেজ চত্বরে শেষ হয়।


পদ যাত্রাটিতে অংশগ্রহন করেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী,শিক্ষক ও কর্মচারীরা।পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ সন উদযাপন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল,গভর্নিংবডির সদস্য হায়দার মিন্টু সহ কলেজের সকল ছাত্রী,শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ এবং গণমাধ্যম বৃন্দ।

পরে মহিলা ডিগ্রি কলেজের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । সেখানে কলেজের ছাত্রীরা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া সকালে পান্তা খাওয়া এবং দুপুরে ভাত,মাংস,ডাল ও কচু শাখ খাওয়ার মধ্যে দিয়ে অত্র কলেজের পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ উদযাপন শেষ হয়। সব মিলিয়ে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেন নতুন বছর ১৪৩৩ সন।

চট্টগ্রামে দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কে আলপনা অঙ্কনের ব্যতিক্রমী আয়োজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কে আলপনা অঙ্কনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম নগরের সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে লাভলেইন ও কাজীর দেউড়ি হয়ে ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিল পর্যন্ত বিস্তৃত এই আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ করেছে জেলা
প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টায় এই আলপনা অঙ্কনের উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে লতাপাতা, ফুল, পাখি ও লোকজ মোটিফের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম গত রাতে বলেন, আমরা আসলে দেড় কিলোমিটার যে আলপনা করছি, সেখানে আপনারা দেখছেন বিভিন্ন রঙে আমাদের এই সড়ক রাঙানো হচ্ছে। আমরা আমাদের জীবনকেও এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সেভাবে রাঙিয়ে তুলতে চাই।তিনি বলেন, আমাদের এই সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ যারা বসবাস করে, তাদের প্রত্যেকের আলাদা রং থাকলেও উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আমরা একতাবদ্ধ। আমরা একত্রে মিলিত হয়ে আমাদের উৎসব আয়োজন করি।

তিনি আরও বলেন, সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে এবং উৎসবের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়-এই আয়োজন সেই সম্প্রীতির প্রতীক।
তিনি আরও যোগ করেন, এখানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান সবাই মিলে এবং অন্যান্য যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে, বৌদ্ধসহ যারা আছে-আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করি।

ডিসি বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করি এবং আমাদের সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন আছে, সেটি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমাদের সংস্কৃতির যে গৌরব এবং ঐতিহ্য, সেটি যেন আগামী প্রজন্ম ধরে রাখে—সেজন্য আমরা তাদের উৎসাহিত করছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন ও মো. সাইদুজ্জামান পাঠান। এ সময় জেলা প্রশাসকের একমাত্র সন্তানও উপস্থিত ছিলেন এবং আলপনা অঙ্কনে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ