আজঃ বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় চরম অবহেলায় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের শ্মশান -জাতি ভেদে বৈষম্যের অভিযোগ।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া এলাকায় ডোম, মুচি ও মেথর গোত্র ভুক্ত নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জাতি ভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাধার কারণে তারা কেন্দ্রীয় শ্মশানে মরদেহ দাহের সুযোগ পান না। ফলে একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর পরেও মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিয়ারপাড়া এলাকার শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। শ্মশানের চারপাশে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল নেই, নেই স্থায়ী দাহস্থল কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দাহস্থল জুড়ে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দাহকাজ শেষে মরদেহের অবশিষ্টাংশ কিংবা মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ অনেক সময় কুকুর ও শেয়ালে টেনে নিয়ে যায়। এতে মৃতের স্বজনদের চরম মানসিক যন্ত্রণা ও অপমানের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়।

ভুক্তভোগীরা পরিবার গুলো জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা সামাজিক অবহেলা, পেশাগত বৈষম্য ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে আসছেন। জীবিত অবস্থায় নানা কষ্ট সহ্য করলেও মৃত্যুর পর অন্তত সম্মানজনক ও নিরাপদ শেষকৃত্যের প্রত্যাশা করেন তারা। কিন্তু বাস্তবে সেই ন্যূনতম মানবিক অধিকারও নিশ্চিত হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্চ বর্ণের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সামাজিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে ডোম, মুচি ও মেথর গোত্র ভুক্ত হিন্দুদের শ্মশান ব্যবহারে বাধা দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে শ্মশান উন্নয়ন কার্যক্রমেও তারা নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

তারা আরও জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেদনের পর সরকারিভাবে শ্মশান উন্নয়নের জন্য প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে একটি মহল তা আত্মসাৎ করেছে।

ভুক্তভোগী মতিলাল দাস বলেন, একই ধর্মের মানুষ হয়েও আমাদের মরদেহ উচ্চবর্ণের শ্মশানে নিতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে এই অনিরাপদ শ্মশানেই দাহ করতে হয় যেখানে ন্যূনতম পরিবেশ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু দাস বলেন, শ্মশানটি বহু বছর ধরে এমন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে দাহকাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা শুনলেও কোনো কাজ চোখে পড়েনি।

আরেক ভুক্তভোগী শুটকা দাস বলেন, জীবনভর অবহেলা সহ্য করেছি। মৃত্যুর পর অন্তত সম্মান পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখানেও আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের সভাপতি রঞ্জন দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলার মধ্যে আছি। শ্মশানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দাহের পর মরদেহের অবশিষ্টাংশ পশুতে টেনে নিয়ে যায়। জীবিত অবস্থায় বৈষম্য সহ্য করলেও মৃত্যুর পর অন্তত মরদেহের সম্মান চাই।

শ্মশানের সাধারণ সম্পাদক মানিক দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ডোম, মুচি ও মেথর মানুষ সমাজের অবহেলিত পেশায় কাজ করে জীবন চালাই। জীবিত অবস্থায় অবহেলা সহ্য করেই বেঁচে আছি। কিন্তু মৃত্যুর পরেও যদি মরদেহের মর্যাদা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ কিসের জন্য?

অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় শ্মশানের সভাপতি সংগীত কুমার পাল বলেন, মরদেহ দাহে বাধা দেওয়া হয় এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দের বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম বা বৈষম্যের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছবি: ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া এলাকায় নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত শ্মশান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও উন্নয়নহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মির্জা আব্বাসকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা আব্বাসকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ।

চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযান, জরিমানা গুনল সাত প্রতিষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সাত প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অভিযোগে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও জেলা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিকর হায়ড্রোজ খাদ্যে ব্যবহার উপযোগী বলে বিক্রি করায় মেসার্স আমেনা ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, রঙ দেয়া মুগডাল বিক্রি করায় মেসার্স হাজী স্টোরকে ৪০ হাজার টাকা, কেকে মেয়াদ উল্লেখ না থাকা ও অনুমোদনহীন বিদেশি পণ্য বিক্রি করায় মধুবন ইন্টারন্যাশনালকে ১০ হাজার টাকা, পোড়া তেল ও ক্ষতিকর হায়ড্রোজ ব্যবহার করে রান্না করায় রহমান হোটেল ৮ হাজার টাকা, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মেসার্স আনাস ট্রেডিংকে ৫ হাজার টাকা, আল হাকিম বাণিজ্যালয়কে ৪ হাজার টাকা, চা পাতার প্যাকেট মূল্য না থাকায় এ আর এল টি হাউসকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

তারেক রহমানকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। 
মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।  সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ