আজঃ শুক্রবার ১০ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে নিরাপত্তাকর্মী হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার আলোচিত নিরাপত্তাকর্মী ছালা উদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা। মো.হৃদয় সীতাকুণ্ড উপজেলার মান্দারীটোলা এলাকার মো.হারুনের ছেলে।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, নিরাপত্তাকর্মী ছালা উদ্দিন হত্যা মামলার ৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. হৃদয় নগরের পাহাড়তলী থানাধীন বিট্যাক বাজার এলাকায় অবস্থান করার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তাকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ছালা উদ্দিন বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত রাইজিং স্টিল শিপ ব্রেকিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ড্রেজারে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ মহম্মদাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

গত ৩১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানতে পারেন, ড্রেজারে অবস্থানকালে তেল চুরিকে কেন্দ্র করে মো. রিফাত হোসেন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ছালা উদ্দিনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ড্রেজারে থাকা তেল ব্যবসায়ী মো. আশরাফ হোসেন কাজলসহ অভিযুক্তরা দেশিয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে ছালা উদ্দিনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তাকে একটি নৌকায় করে গভীর সমুদ্রে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, কোয়ানিয়া খালে কাদায় অর্ধদাফন অবস্থায় একটি লাশ পড়ে আছে।

পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ৭ জনকে এজাহারভুক্ত এবং ৮ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে বাসের যাত্রী থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৬) নামের এক বাস যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বাকলিয়া থানার শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাজ্জাদ হোসেন বরিশাল সদর (কোতোয়ালী) থানার মোস্তফা সড়ক এলাকার বাবুল হাওলাদারের ছেলে।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি এসি বাস তল্লাশি চৌকিতে থামানো হয়।এ সময় বাসের এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার ব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ। তল্লাশিকালে ওই ব্যাগের ভেতর থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বোয়ালখালীতে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা ভাণ্ডালজুড়ি খাল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ।সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে তা উদ্ধার করে।বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশি তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জ্যৈষ্ঠপুরা ভাণ্ডালজুড়ি খালে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা ওই নারীর পড়নে ছিল কালো রঙের সেলোয়ার-কামিজ। চুলে ক্লিপও ছিল। বয়স আনুমানিক ৩০-৩৫ বছর। খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানির ঢল নামলেও শুকনো মৌসুমে পাহাড় থেকে অল্প পরিমাণে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হয়। ফলে মরদেহ ভেসে আসার মতো তেমন একটা সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

৫ বছরে বিএসসি বহরে যুক্ত হতে পারে আরো ২২ টি জাহাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-৮
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) বহর সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে ‘ওয়ান শিপ পলিসি’ গ্রহণ করেছে। এ নীতির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্থিক সক্ষমতা সাপেক্ষে প্রতিবছর অন্তত একটি করে জাহাজ নিজস্ব অর্থায়নে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। তবে এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে নতুন জাহাজ কেনার আগে বিদ্যমান বহরের অপারেশন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষিত থাকতে হবে। অর্থাৎ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেই বিনিয়োগ বাড়াবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে প্রধান কার্যালয়ে বিএসসির বর্তমান কর্মকান্ড এবং ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমরা একটা ফিলোসফি ডেভেলপ করেছি, ‘ওয়ান শিপ ফিলোসফি’। ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্থিক সক্ষমতা ঠিক থাকলে প্রতি বছর একটি করে জাহাজ নিজস্ব অর্থায়নে কেনার লক্ষ্য রয়েছে। এটার নাম দিয়েছি “ওয়ান শিপ পলিসি”। তবে কন্ডিশন আছে। কন্ডিশন হচ্ছে বাকি জাহাজগুলো অপারেশন করার জন্য সেই পরিমাণ অর্থ আগে স্টকে বা ব্যালেন্স থাকতে হবে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সরকারি অর্থায়নে দুটি এমআর (মিডিয়াম রেঞ্জ) প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকায় দুটি এমআর ট্যাংকার ক্রয় প্রস্তাব একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দুটি এমআর ট্যাংকার কেনার ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা অলরেডি স্যাংশন হয়ে গেছে। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে একটা বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার প্রকল্পটি মন্ত্রনালয় থেকে হয়তো দুই একদিনের মধ্যে একনেকে চলে যাবে।
একনেকে দুইটা প্রজেক্ট অনুমোদন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা আশা করছি সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে এই তিনটা জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত হবে।

তিনি আরও জানান, চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে চারটি জাহাজ সংগ্রহের প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে। এ প্রকল্পে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ পবে বিএসসি। এরইমধ্যে গত মাসে ফ্রেমওয়ার্ক ও ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং চীনা পক্ষের স্বাক্ষর প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। আগামী মাস থেকে জাহাজের স্টিল কাটিং ও নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ৬টি কনটেইনার ভেসেল কেনার জন্য আমরা দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছি। ঋণদাতা হিসেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। তারা ছয়টা কন্টেইনার ভেসেল তৈরি করার টাকা ফান্ডিং করবে। প্রসেস চলমান আছে। তাদের সাথে টার্মস এন্ড কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। লোনের ইন্টারেস্ট রেট কত হবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে দুই তিন বছরের মধ্যে জাহাজগুলো বিএসসির বহরে যুক্ত হবে। প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা ২৫০০ থেকে ২৮০০ টিইইউ এবং ড্রাফট প্রায় ৯ দশমিক ৮ মিটার হবে। এগুলোদিয়ে ফিডার জাহাজ হিসেবে সিঙ্গাপুর এবং শ্রীলঙ্কা থেকে আমরা কার্গো আনা নেওয়া করতে পারবো। যা জাতীয় ট্রান্সপোর্টেশনের ক্ষেত্রে জাহাজগুলো ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া আরও ৩টি বাল্ক ক্যারিয়ার ও ৩টি এমআর ট্যাংকার সংগ্রহের জন্য কাজ চলছে। জাহাজ সংগ্রহে জাপানকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জাপানের প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া গেছে বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাছাড়া আরও ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার ও ২টি ট্যাংকার সংগ্রহের প্রস্তাবও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলোর জন্য বর্তমানে অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, বিএসসির ২২টি জাহাজ সংগ্রহের একটি পরিকল্পনা আছে। ২২টি জাহাজ নিয়ে একটি সমন্বিত বহর গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে দুইটা অলরেডি বহরে যুক্ত হয়েছে। পাইপলাইনে আছে আরও সাতটা। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি দুই এক বছরের মধ্যে ১৪টা জাহাজ আমরা বহরে যুক্ত করতে পারবো। এবং সমস্ত প্রসেস যদি ঠিক থাকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসসির বহরে ২২ টা জাহাজ থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ