আজঃ রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬

দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সাংসদ সাঈদ আল নোমান

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরে বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। মঙ্গলবার সকালে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংসদ সাঈদ আল নোমান চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দগ্ধদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দগ্ধদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হালিশহরের দগ্ধদের ঘটনায় সাঈদ আল নোমান বলেন, হালিশহরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত চিকিৎসা-সহায়তাও দেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হালিশহরের ঘটনায় দগ্ধ সকল রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন শাওন (১৬) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুজন। বর্তমানে আরও সাতজন দগ্ধ রোগী সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিদর্শন শেষে সাঈদ আল নোমান নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান তবুও বন্দর কর্মকর্তার পদোন্নতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডের ইন্সপেক্টর ক্রাফটস পদে উন্নীত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে একই অভিযোগের কারণে তার পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত রাখা হলেও এবার বোর্ডের সিদ্ধান্তে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।এই বিষয়ে বন্দরের জাহাজ পরিদর্শক হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাছাড়া খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। একক কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও থাকেন। হয়তো বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছেন, একারণে তার পদোন্নতি হয়েছে।
এর আগে, একই অভিযোগে পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি জানান, আগের বার হয়তো কাগজপত্র বা যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যা নেই।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) দেলোয়ার হোসেনের পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়। পরদিন বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সই করা চিঠিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসেছিল। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। যদিও একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বন্দরের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নৌ বিভাগের উপসংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সিবিএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক, নৌ বিভাগের প্রথম শ্রেণির মাস্টার ইব্রাহিম সেলিম এবং ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম রনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, কর্মস্থলে প্রভাব, দুর্নীতি করে সম্পদ গড়া, জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের এমটি কান্ডারি-১০ জাহাজের জন্য নতুন দুটি ম্যান ইঞ্জিন বাবদ ১৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো। আবার ওই জাহাজে গিয়ার বক্স পরিবর্তনের নামে আরও ১৭ কোটি টাকা ফাইলে নোট দিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও শুরুতে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি দুদক। তবে অভিযোগের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা আসে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।

একই বছরের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর তৎকালীন উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। গত বছরের এপ্রিলে আতিকুল আলম বদলি হয়ে গেলে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আরেক তৎকালীন উপপরিচালক আহসানুল কবীর পলাশের ওপর। উপপরিচালক হিসেবে আহসানুল কবীর পলাশ গত বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে চট্টগ্রামে যোগদান করার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে শুরু করেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করেন। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনিও বদলি হয়ে যান।

তারপর কাজ শুরু করেন উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনে। তিনি জানান, উল্লিখিত অভিযোগে অনেকগুলো টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। এই কারণে আমরা নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধি দিয়ে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব। এই লক্ষ্যে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা চিঠি ইস্যু করব।

রাতের আধারে জমির টপসয় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবৈধভাবে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ফারুক।এসময় পোপাদিয়া ইউনিয়নের বিদগ্রাম এলাকায় অভিযানকালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ফসলি জমির টপসয়েল কাটার সময় একটি এক্সক্যাভেটর জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে পোপাদিয়া এলাকার মো. খোকনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭(খ) ধারা ভঙ্গের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইউএনও মেহেদি হাসান ফারুক জানান, টপসয়েল কাটার অভিযোগে কানুনগোপাড়া, বেঙ্গুরা, বিদগ্রাম ও কঞ্জুরি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি এক্সক্যাভেটর জব্দ ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি দল এবং আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ