আজঃ রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে চুলা জ্বলছে নিভু নিভু, গ্যাসের চাপ কম।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলমান থাকায় বুধবার দুপুরের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ আংশিকভাবে কমে গেছে। যার ফলে বাসা বাড়িগুলোতে চুলা জ্বালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি স্থান থেকে গ্যাসের কারণে চুলা নিভু নিভু করে জ্বলছে বলে গ্রাহকরা জানিয়েছেন। এদিকে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে দেশের কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে রমজানে রান্নাঘরের চুলার পাশাপাশি কারখানার জ্বালানী ব্যবহার আনুপাতিকভাবে কম থাকায়, তেমন কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। তবে কয়েকজন গৃহিনী বলেছেন, চুলা (গ্যাস) ঠিকভাবে জ্বলছে না। গ্যাসের চাপ কম। তাই রান্নায় সমস্যা হচ্ছে। জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টা থেকে মহেশখালীতে অবস্থিত এফএসআরইউ থেকে এক্সিলারেট এনার্জির মাধ্যমে সরবরাহিত এলএনজি হ্রাস পাবে, এমনটা জানিয়ে বার্তা পাঠায় পেট্রোবাংলা।

বার্তাটিতে বলা হয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে দেশের কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। বর্তমানে টার্মিনালে কারিগরি কাজ চলছে। তাই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে কমেছে। নাগরিকদের স্বাভাবিক গ্যাস ব্যবহার প্রভাবিত হতে পারে এমন শঙ্কা থেকে জনসাধারণের কাছে এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) প্রকৌশল বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নসর মো. সালেহ বলেন, মেরামতের কারণে চাপ কম থাকার বিষয়টি আমাদেরও জানানো হয়েছে। তবে আমরা সিউএফএল ও কাফকোতে গ্যাসের মাত্রা কমিয়ে আবাসিক ও শিল্পখাতে সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। এরপরও শেষ প্রান্তের গ্রাহকদের গ্যাস পেতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে বিজিএমইএ-এর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত গ্যাস নিয়ে কারখানা থেকে কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে জ্বালানী সংকট নিয়ে আমাদের বরাবরই সমস্যা থাকে। আমরা চাই, জ্বালানী সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিক ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এলপিজিবাহী ‘মর্নিং জেলি’ এলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে আরো ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে অন্তত ৪টি জাহাজ আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে এসব জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টরা।

তথ্য অনুযায়ী, এ চালানে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের জন্য একাধিক এলএনজি জাহাজ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এলপিজি জাহাজ রয়েছে।
শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৪৭০ টন এলপিজি নিয়ে ‘মর্নিং জেলি’ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘ইএমইআই’ নামের আরেকটি জাহাজ মহেশখালীর এফএসআরইউ টার্মিনালে ভিড়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) একই পরিমাণ কার্গো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি এলএনজি জাহাজ ‘কংটং’ মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করবে। এরপর ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬৪,৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রা’ দেশে আসার নির্ধারিত সময় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম জানান, জাহাজগুলো বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে এবং আগমনের ঘোষণা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, এর আগে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলেই ডলফিন জেটিতে নোঙর করে শুরু হয়েছে খালাসকরণ। একই রাতে মালয়েশিয়া থেকে হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ও ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে দুই দফায় মোট প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টন এলএনজি দেশে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির বলেন, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে পৌঁছে খালাস চলছে।

চট্টগ্রামের হিজরা খালে মিলল যুবকের মরদেহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে চকবাজার থানার কাপাসগোলা এলাকার হিজরা খাল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা লাশ দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম বিদ্যুৎ মিয়া। তার বয়স আনুমানিক ২৫-৩০ বছর। তার বাড়ি গাইবান্ধায় বলে জানিয়েছে চকবাজার থানা পুলিশ। ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলেন বিদ্যুৎ মিয়া।

এই বিষয়ে স্থানীয় আহসান হাবিবুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই যুবকের লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যুতায়িত হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ