আজঃ বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামের কোহিনূর সিটিতে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা : প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের দামপাড়া এলাকায় নবনির্মিত শপিং মল মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটিতে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার কারণে সড়ক ঘেঁষে রাখা থাকে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। যার ফলে জিইসি মোড় থেকে ওয়াসা পর্যন্ত ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। এতে ভোগিন্তর শিকার হচ্ছেন চলাচলরত মানুষ।

জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি পর্যন্ত অফিসে যাওয়ার সময় সড়কে যানজটের মুখোমুখি হতে হয় চলাচলরতদের। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় দেখা গেছে, জিইসি মোড় থেকে ওয়াসা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট। কারণ ওয়াসার আগে মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির সামনে এলোপাতাড়ি গাড়ি পার্কিং।

পুরো রাস্তা আধা ঘণ্টার বেশি সময় স্থবির ছিল। কিছুক্ষণ গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হলে ফের সৃষ্টি হয় যানজট। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় সেই একই চিত্র দেখা গেল এই সড়কের। এ শপিং মলে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার কারণে সড়ক ঘেঁষে রাখা থাকে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। তাই ব্যস্ততম এ সড়কে লেগে থাকে যানজট।

বৃহস্পতিবার শহর রুটের বাস চালক জসিম উদ্দিন বলেন, ২ নম্বর গেট থেকে দামপাড়া আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। পুরো সড়কজুড়েই যানজট, বিকল্প পথও পাইনি। সিএনজি অটোরিকশা চালক রহিম উল্লাহ জানান, এ সড়ক এখন ব্যবহার করতে মন চায় না। দুই নম্বর গেইট, জিইসি- এরপর এখন নতুন করে দামপাড়ায় যানজটে পড়তে হয়। ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) সুশোভন চাকমা বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। গাড়ির চাপ অতিরিক্ত হলে যানজট তৈরি হয়। তবে মূল সড়ক দখল করে পার্কিং করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানা গেছে, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটি।

উদ্বোধনের দিনেই তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন নগরের হাজারো মানুষ। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এমন দুর্ভোগে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে শত শত গাড়ি পার্কিং করার ফলে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। তীব্র যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায় জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকেও।

সূত্র জানায়, ২৩ তলা বিশিষ্ট মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির মিক্সড-ইউজ ভবনের প্রথম ১০ তলায় শপিং মল এবং ১১ থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ এটিকে আধুনিক শপিং, বিনোদন ও লাইফস্টাইল ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে এর মিল পাচ্ছেন না নগরবাসী।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাণিজ্যিক স্থাপনা চালুর আগে ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, পার্কিং ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান এবং জরুরি সেবার নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কার্যকর প্রস্তুতির দৃশ্যমান প্রমাণ মেলেনি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে নগরীর ট্রাফিক ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির ম্যানেজার (ব্র্যান্ড) সমীর কুমার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ ফাহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চবি’র ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা ২৪ এপ্রিল থেকে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বহু প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ আগামী ২৪ এপ্রিল সকাল ১০ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে। এদিন সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, চবি’র উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন। মহান অতিথি থাকবেন অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যানশ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন চবি’র উপাচার্য,

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। চবি কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় সকলকে উপস্থিত থাকতে আহবান করেছেন চবি কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক
অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী।

বৈশাখ বাঙালির এক অনন্য চেতনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বৈশাখ বাঙালির এক অনন্য চেতনা।চেতানার এ আনন্দ – উৎসবটি একেবারেই সমাগত। বছরব্যাপী অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমাদের দ্বারপ্রান্তে হাজির হলো পহেলা বৈশাখ।এ দিনে বাঙালির ঘরে একটু হলেও ভালো খাবার আয়োজনের চেষ্টা চলে। বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা নিয়ে সমাগত। মানুষের জীবনের সব ব্যর্থতা ভুলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বৈশাখকে বরণ করতে ঔ
নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।

আবহমান কাল থেকে বৈশাখের উপভোগ করে আসছে বাঙালি জাতি। নববর্ষ কে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈশাখের আগমন উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি চলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা।গ্রামের মাটির ঘর গুলোতে চলছে লেপা পোছার কাজ। বৈশাখের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম বাংলার আকাশে বাতাসে। বৈশাখ আনন্দ দেয়, তবে তবে এ মাসে বৈশাখী ঝড় এসে আবার লণ্ডভণ্ড করেও দেয়। ক্ষতি হয় ফসলের, এমনকি ব্যাপক বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটে থাকে। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল , এ বৈশাখ মাসেই পোলংকার ঘূর্ণিঝড় উপকুলের জনপদ লন্ডভন্ড করে দেয়। ঘটে লক্ষ মানুষের জীবনহানি।

বাংলাদেশের উপকূল বাসী সেদিনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা কখনোই ভুলবে না। ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রথম ঋতুটি হচ্ছে গ্রীষ্ম। বসন্তে পুরনো গাছের পাতা ঝরে পরে নতুন পাতায় সবুজে -;শ্যামলে ভরা বৃক্ষরাজির নান্দনিক সৌন্দর্য মনকে ভরিয়ে দেয়।পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির স্পন্দন।

প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নানান আয়োজন করা হয় দেশের গ্রাম থেকে শহর।বৈশাখের আগমনী বার্তাকে কেন্দ্র করে লোকজ গান যারি, শাড়ি, ভাটিয়ারী আয়োজন করা হয় বিভিন্ন জায়গায়। এসব গান উপভোগ করার মধ্য দিয়ে কলেজ চোরের মানুষ একাকার হয়ে যায়। এদিনে সকলের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইয়ে যায়। আবার ইলিশ পান্তার আয়োজন হয়ে থাকে অন্য কোন জায়গায।ঘরে ঘরে ধোয়া মোছার কাজ প্রাশই শেষ পর্যায়ে।

বাঙালির নববর্ষ উদযাপন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত
উৎসব।বাংলা সাহিত্যে ও প্রভাব রয়েছে বৈশাখের। বাংলা বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি ও এর বিস্তৃতির এখন অবাধ্য ইতিহাস রয়েছে। ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, মূলত কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের ব্যবস্থাকে ঘিরেই বৈশাখের এআয়োজন। বাঙালির এর উৎসবটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে অসম্প্রদায়িক চেতনার। বাংলা নববর্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন উদ্যোগে হয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখের ব্যবসায়ীরা হালখাতার আয়োজন করা থাকে। এ সময় গত বছরের হিসাব নতুন খাতায় এনে ক্রেতাদের করিয়ে দেওয়ার রে আজও রয়েছে।

কোথাও কোথাও আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব। আবার কোথাও হয়ে থাকে গরুর লড়াই লড়াই। চট্টগ্রামের সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য বলি
খেলার আয়োজনও বৈশাখ মাসে হয়ে থাকে। বলি খেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম নগরীর এই মেলার বিস্তৃতি সরিয়ে যায় কয়েক কিলোমিটার দূরে।

মেলায় করতে সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসে চট্টগ্রাম নগরীতে। সারাদেশের বলিরা ছুটে আসে কুস্তি খেলতে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি এমাঠে। গ্রাম বাংলার এই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পৃথিবীর আর কয়টি দেশে আছে? 🇧🇩 প্রখ্যাত গীতিকার দ্বিজেন্দ্র লাল লিখেছেন- ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা…।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ